Dhaka ০৮:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাতক্ষীরা পুকুরে ডুবে একই বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু সাতক্ষীরায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি দুই বছরেও কলেজে আসেননি সভাপতি, কাগজে-কলমে চলছে দায়িত্ব পালন! কাউখালীতে চরম নেটওয়ার্ক ভোগান্তি: সরকারি টেলিটক সেবা নিশ্চিত করার দাবি গ্রাহকদের সাতক্ষীরায় প্রবীণ ভিক্ষুককে পুনর্বাসনে ছাগল ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ সাতক্ষীরা সদর থানার দেয়ালেই অবৈধ স্থাপনার রাজত্ব! জনদূর্ভোগ চরমে সাতক্ষীরাকে মাদকমুক্ত করতে কঠোর অবস্থান, নতুন ২৩ আদালতে দ্রুত জনবল নিয়োগের আশ্বাস কলারোয়ায় খাস জমির পজেশন বিক্রির অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তদন্ত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, তদন্তে মিলেছে প্রাথমিক সত্যতা সাতক্ষীরার বিচার বিভাগের সমস্যা দ্রুত সমাধান করা হবে: আইনমন্ত্রী সাতক্ষীরায় ট্রি অব লাইফের উদ্যোগে ৩ হাজার পানিবন্দি ও অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ

ভাণ্ডারিয়ায় বায়নের খাল কচুরিপানার দখলে ৪০ হাজার পরিবার নিত্য ব্যবহার্য পানি সংকটে বাড়ছে রোগব্যাধি

 

ভান্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি ;

 

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ধাওয়া ও ইকড়ি ইউনিয়নের ভেতরকার বয়ে যাওয়া বায়নের খালটি কচুরিপানায় ভরাট হয়ে মরাখালে পরিনত হয়েছে। এ খালের ওপর দুই ইউনিয়নের অন্ত ৪০ হাজার পরিবার নিত্য ব্যবহার্য পানি ও এলাকার কৃষির সেচ সংকট মোকাবেলা করে আসছে। বর্তমানে খালটি নব্যতা হারিয়ে উল্লেখিত দুই ইউনিয়ন বাসিকে চরম পানি সংকটে ফেলে দিয়েছে।

স্থানীয়দের সূত্রে জানাগেছে, ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ধাওয়া ও ইকড়ি ইউনিয়নের ভিতরে প্রবহমান খালটি বায়নের খাল নামে পরিচিত। দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে কচুরিপানায় ভরে যাওয়ায় পানি প্রবাহ মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জন গুরুত্বপূর্ণ খালটি সংস্কার কিংবা খননের অভাবে খালের পানি ব্যবহার অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। এতে এলাকাজুড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র পানি সংকট। এর প্রভাব পড়ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও জনস্বাস্থ্যের ওপর।

ভূক্তভোগিরা জানান, খাল সংশ্লিষ্ট দুই ইউনিয়নের অন্তত ৪০ হাজার পরিবারের দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় পনি ব্যাবহারের একমাত্র উপায় হচ্ছে এই খাল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে খালটি পরিষ্কার না করায় কচুরিপানা পুরো খালজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে পানির প্রবাহ স্থবির হয়ে পড়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে । ফলে খালের পানি সম্পূর্ণ ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ খালের পানি কৃষিকাজ ও গৃহস্থালির কাজে ব্যবহার হয়ে আসছে। কিন্তু বর্তমানে খালের পানি নষ্ট হওয়ায় তা ব্যবহার সম্ভব হচ্ছে না।

ইকড়ি ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মো. নাসির উদ্দিন মল্লিক বলেন, কচুরিপানার কারনে খালের পানি এখন এতটাই নষ্ট হয়ে গেছে যে, ব্যবহার তো দূরের কথা পানিতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। কয়েক হাজার পরিবার এখন পানির কারণে হুমকির মুখে পড়েছেন। দূষিত পানির কারণে ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। খালটি পরিষ্কার করে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এছাড়া স্থানীয় চিকিৎসকদের মতে, দূষিত পানির কারণে ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ হাসিবুল হাসান জানান,খালটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি।অতি শিগগিরই সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দূর করার লক্ষ্যে কচুরিপানা অপসারণ করে পনির গতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেয়া হবে।

স্থানীয়দের আশা,দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে খালের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হবে এবং তাদের দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব পাবে।

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সাতক্ষীরা পুকুরে ডুবে একই বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু

ভাণ্ডারিয়ায় বায়নের খাল কচুরিপানার দখলে ৪০ হাজার পরিবার নিত্য ব্যবহার্য পানি সংকটে বাড়ছে রোগব্যাধি

Update Time : ১০:৫৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

 

ভান্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি ;

 

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ধাওয়া ও ইকড়ি ইউনিয়নের ভেতরকার বয়ে যাওয়া বায়নের খালটি কচুরিপানায় ভরাট হয়ে মরাখালে পরিনত হয়েছে। এ খালের ওপর দুই ইউনিয়নের অন্ত ৪০ হাজার পরিবার নিত্য ব্যবহার্য পানি ও এলাকার কৃষির সেচ সংকট মোকাবেলা করে আসছে। বর্তমানে খালটি নব্যতা হারিয়ে উল্লেখিত দুই ইউনিয়ন বাসিকে চরম পানি সংকটে ফেলে দিয়েছে।

স্থানীয়দের সূত্রে জানাগেছে, ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ধাওয়া ও ইকড়ি ইউনিয়নের ভিতরে প্রবহমান খালটি বায়নের খাল নামে পরিচিত। দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে কচুরিপানায় ভরে যাওয়ায় পানি প্রবাহ মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জন গুরুত্বপূর্ণ খালটি সংস্কার কিংবা খননের অভাবে খালের পানি ব্যবহার অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। এতে এলাকাজুড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র পানি সংকট। এর প্রভাব পড়ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও জনস্বাস্থ্যের ওপর।

ভূক্তভোগিরা জানান, খাল সংশ্লিষ্ট দুই ইউনিয়নের অন্তত ৪০ হাজার পরিবারের দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় পনি ব্যাবহারের একমাত্র উপায় হচ্ছে এই খাল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে খালটি পরিষ্কার না করায় কচুরিপানা পুরো খালজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে পানির প্রবাহ স্থবির হয়ে পড়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে । ফলে খালের পানি সম্পূর্ণ ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ খালের পানি কৃষিকাজ ও গৃহস্থালির কাজে ব্যবহার হয়ে আসছে। কিন্তু বর্তমানে খালের পানি নষ্ট হওয়ায় তা ব্যবহার সম্ভব হচ্ছে না।

ইকড়ি ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মো. নাসির উদ্দিন মল্লিক বলেন, কচুরিপানার কারনে খালের পানি এখন এতটাই নষ্ট হয়ে গেছে যে, ব্যবহার তো দূরের কথা পানিতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। কয়েক হাজার পরিবার এখন পানির কারণে হুমকির মুখে পড়েছেন। দূষিত পানির কারণে ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। খালটি পরিষ্কার করে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এছাড়া স্থানীয় চিকিৎসকদের মতে, দূষিত পানির কারণে ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ হাসিবুল হাসান জানান,খালটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি।অতি শিগগিরই সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দূর করার লক্ষ্যে কচুরিপানা অপসারণ করে পনির গতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেয়া হবে।

স্থানীয়দের আশা,দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে খালের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হবে এবং তাদের দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব পাবে।

Spread the love