Dhaka ০৫:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পাটকেলঘাটা থানা ভবনের নির্মাণকাজ পরিদর্শনে সংসদ সদস্য ইজ্জত উল্লাহ বাকেরগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির নতুন কমিটি, সভাপতি রিমন সম্পাদক মোর্শেদ কালিগঞ্জে ৪ কেজি গাঁজাসহ নারী আটক, পালালেন এক ব্যক্তি চোখ পরীক্ষা, ডায়াবেটিস পরীক্ষা, বিনামূল্যে চশমা ও ওষুধ বিতরণ সাতক্ষীরায় আইনজীবীদের লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে তলবি সভা সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি কাউখালীতে আগাম লাউ চাষে বাম্পার ফলন, হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে চকরিয়ায় প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে বৃত্তি আয়োজনের অভিযোগ, ১৪৫ বিদ্যালয়ে জরুরি চিঠি কলারোয়ায় ইটভাটার মালিকানা নিয়ে বিরোধ, বিএনপি নেতা আক্তারুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ সাতক্ষীরায় নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন

কাউখালীতে চরম নেটওয়ার্ক ভোগান্তি: সরকারি টেলিটক সেবা নিশ্চিত করার দাবি গ্রাহকদের

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:১৯:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩২ Time View

 

 

​কাউখালী প্রতিনিধি

 

পিরোজপুরের কাউখালীতে সরকারি মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটক’-এর নেটওয়ার্ক বিপর্যয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা। সীমাহীন সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত নেটওয়ার্ক টাওয়ার না থাকা এবং কারিগরি ত্রুটির কারণে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় ব্যবহারকারীরা।
​গ্রাহকদের অভিযোগ, উপজেলার বেশিরভাগ এলাকাতেই টেলিটকের নেটওয়ার্ক সিগন্যাল অত্যন্ত দুর্বল। অনেক সময় কথা বলতে বলতে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, আবার কোথাও কোথাও কল স্থাপন করাই অসম্ভব হয়ে পড়ে। মোবাইল ইন্টারনেটের অবস্থা আরও করুণ। ফোর-জি তো দূরের কথা, থ্রি-জি সেবা পেতেও চরম বেগ পেতে হয়।
​কাউখালী সদরের স্থানীয় ব্যবসায়ী মোঃ সানাউল্লাহ বলেন, আমরা চাই দেশের টাকা দেশেই থাকুক। এই চিন্তাধারা থেকে টেলিটক সিম ব্যবহার শুরু করেছিলাম। কিন্তু দুর্বল নেটওয়ার্কের কারণে জরুরি ব্যবসায়ী যোগাযোগ রক্ষা করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বারবার কল ড্রপ ও ধীরগতির ইন্টারনেটের কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও টেলিটক নিয়মিত ব্যবহার করতে পারছি না।
আর এক ব্যবসায়ী মেহেদী জানান, টেলিটকের নিজস্ব কোন টাওয়ার নেই, তারা উপজেলার দুর্বল টিএনটি টাওয়ার ব্যবহার করে। এছাড়া উপজেলা পর্যায়ে কোন সার্ভিস সেন্টার নেই। কোন সমস্যা হলে পিরোজপুর অথবা বরিশাল যেতে হয়।
​উপজেলার এক কলেজ শিক্ষার্থী জসীম উদ্দীন জানান, সরকারি চাকরির আবেদন, ভর্তি পরীক্ষা কিংবা বিভিন্ন ডিজিটাল সেবার ফি জমা দিতে টেলিটক সিম প্রয়োজন হয়। কিন্তু কাউখালীতে নেটওয়ার্ক এতটাই দুর্বল যে অনেক সময় জরুরি কাজের সময় সিম সচলই করা যায় না। আমরা চাই সরকারি এই অপারেটরটিকে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনা হোক।
​স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বেসরকারি মোবাইল অপারেটরগুলো প্রতি বছর দেশ থেকে মোটা অঙ্কের লভ্যাংশ নিয়ে যায়। অথচ টেলিটক রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এর অর্জিত রাজস্ব দেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন ও জনকল্যাণে ব্যবহৃত হয়। টেলিটকের সঠিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং বেসরকারি অপারেটরগুলোর চেয়েও শক্তিশালী নেটওয়ার্ক কাভারেজ গড়ে তোলা গেলে দেশের অর্থ দেশেই রাখা সম্ভব।
​এ বিষয়ে কাউখালীর সাধারণ গ্রাহকদের জোর দাবি, অনতিবিলম্বে কাউখালী উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে টেলিটকের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিটিএস টাওয়ার স্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি ডিজিটাল বাংলাদেশ ও স্মার্ট বাংলাদেশ রূপকল্পের সুবিধা সবস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সরকারি এই সংযোগকে অগ্রাধিকার দিয়ে শক্তিশালী ও আধুনিক সেবার আওতায় আনার জন্য ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয় অধিবাসীরা। এ ব্যাপারে টেলিটক বিভাগের সাথে যোগাযোগ করে জানা যায়, সমস্যা সম্পর্কে তারা অবগত আছে, কাউখালীতে নিজস্ব টাওয়ার দেওয়ার পরিকল্পনা আছে।

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

পাটকেলঘাটা থানা ভবনের নির্মাণকাজ পরিদর্শনে সংসদ সদস্য ইজ্জত উল্লাহ

কাউখালীতে চরম নেটওয়ার্ক ভোগান্তি: সরকারি টেলিটক সেবা নিশ্চিত করার দাবি গ্রাহকদের

Update Time : ০৩:১৯:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

 

​কাউখালী প্রতিনিধি

 

পিরোজপুরের কাউখালীতে সরকারি মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটক’-এর নেটওয়ার্ক বিপর্যয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা। সীমাহীন সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত নেটওয়ার্ক টাওয়ার না থাকা এবং কারিগরি ত্রুটির কারণে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় ব্যবহারকারীরা।
​গ্রাহকদের অভিযোগ, উপজেলার বেশিরভাগ এলাকাতেই টেলিটকের নেটওয়ার্ক সিগন্যাল অত্যন্ত দুর্বল। অনেক সময় কথা বলতে বলতে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, আবার কোথাও কোথাও কল স্থাপন করাই অসম্ভব হয়ে পড়ে। মোবাইল ইন্টারনেটের অবস্থা আরও করুণ। ফোর-জি তো দূরের কথা, থ্রি-জি সেবা পেতেও চরম বেগ পেতে হয়।
​কাউখালী সদরের স্থানীয় ব্যবসায়ী মোঃ সানাউল্লাহ বলেন, আমরা চাই দেশের টাকা দেশেই থাকুক। এই চিন্তাধারা থেকে টেলিটক সিম ব্যবহার শুরু করেছিলাম। কিন্তু দুর্বল নেটওয়ার্কের কারণে জরুরি ব্যবসায়ী যোগাযোগ রক্ষা করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বারবার কল ড্রপ ও ধীরগতির ইন্টারনেটের কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও টেলিটক নিয়মিত ব্যবহার করতে পারছি না।
আর এক ব্যবসায়ী মেহেদী জানান, টেলিটকের নিজস্ব কোন টাওয়ার নেই, তারা উপজেলার দুর্বল টিএনটি টাওয়ার ব্যবহার করে। এছাড়া উপজেলা পর্যায়ে কোন সার্ভিস সেন্টার নেই। কোন সমস্যা হলে পিরোজপুর অথবা বরিশাল যেতে হয়।
​উপজেলার এক কলেজ শিক্ষার্থী জসীম উদ্দীন জানান, সরকারি চাকরির আবেদন, ভর্তি পরীক্ষা কিংবা বিভিন্ন ডিজিটাল সেবার ফি জমা দিতে টেলিটক সিম প্রয়োজন হয়। কিন্তু কাউখালীতে নেটওয়ার্ক এতটাই দুর্বল যে অনেক সময় জরুরি কাজের সময় সিম সচলই করা যায় না। আমরা চাই সরকারি এই অপারেটরটিকে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনা হোক।
​স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বেসরকারি মোবাইল অপারেটরগুলো প্রতি বছর দেশ থেকে মোটা অঙ্কের লভ্যাংশ নিয়ে যায়। অথচ টেলিটক রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এর অর্জিত রাজস্ব দেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন ও জনকল্যাণে ব্যবহৃত হয়। টেলিটকের সঠিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং বেসরকারি অপারেটরগুলোর চেয়েও শক্তিশালী নেটওয়ার্ক কাভারেজ গড়ে তোলা গেলে দেশের অর্থ দেশেই রাখা সম্ভব।
​এ বিষয়ে কাউখালীর সাধারণ গ্রাহকদের জোর দাবি, অনতিবিলম্বে কাউখালী উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে টেলিটকের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিটিএস টাওয়ার স্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি ডিজিটাল বাংলাদেশ ও স্মার্ট বাংলাদেশ রূপকল্পের সুবিধা সবস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সরকারি এই সংযোগকে অগ্রাধিকার দিয়ে শক্তিশালী ও আধুনিক সেবার আওতায় আনার জন্য ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয় অধিবাসীরা। এ ব্যাপারে টেলিটক বিভাগের সাথে যোগাযোগ করে জানা যায়, সমস্যা সম্পর্কে তারা অবগত আছে, কাউখালীতে নিজস্ব টাওয়ার দেওয়ার পরিকল্পনা আছে।

Spread the love