Dhaka ০৬:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাতক্ষীরা পুকুরে ডুবে একই বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু সাতক্ষীরায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি দুই বছরেও কলেজে আসেননি সভাপতি, কাগজে-কলমে চলছে দায়িত্ব পালন! কাউখালীতে চরম নেটওয়ার্ক ভোগান্তি: সরকারি টেলিটক সেবা নিশ্চিত করার দাবি গ্রাহকদের সাতক্ষীরায় প্রবীণ ভিক্ষুককে পুনর্বাসনে ছাগল ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ সাতক্ষীরা সদর থানার দেয়ালেই অবৈধ স্থাপনার রাজত্ব! জনদূর্ভোগ চরমে সাতক্ষীরাকে মাদকমুক্ত করতে কঠোর অবস্থান, নতুন ২৩ আদালতে দ্রুত জনবল নিয়োগের আশ্বাস কলারোয়ায় খাস জমির পজেশন বিক্রির অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তদন্ত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, তদন্তে মিলেছে প্রাথমিক সত্যতা সাতক্ষীরার বিচার বিভাগের সমস্যা দ্রুত সমাধান করা হবে: আইনমন্ত্রী সাতক্ষীরায় ট্রি অব লাইফের উদ্যোগে ৩ হাজার পানিবন্দি ও অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ

কলারোয়ায় খাস জমির পজেশন বিক্রির অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তদন্ত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, তদন্তে মিলেছে প্রাথমিক সত্যতা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:১৩:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২ Time View

 

 

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:

 

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহবুবুর রহমান মফের বিরুদ্ধে সরকারি খাস জমির পজেশন অবৈধভাবে হস্তান্তর ও বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

 

অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৩ সাল থেকে প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা ও সরকারি বিধিবিধান উপেক্ষা করে চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান মফে ইউনিয়নের বিভিন্ন সরকারি সম্পত্তি ও খাস জমির পজেশন বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করে আসছেন। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে একাধিক লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও দীর্ঘদিন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

 

সম্প্রতি পশ্চিম খোর্দ এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিযোগকারীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।

 

লিখিত অভিযোগকারী পশ্চিম খোর্দ এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা ইবাদুল্লাহ গাজী জানান, চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই মাহবুবুর রহমান মফের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি দখল, পজেশন হস্তান্তর ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তার দাবি, ইউনিয়নের হাট-বাজার ও অন্যান্য সরকারি সম্পত্তির পজেশন বিক্রির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১০৩ নম্বর খোর্দ মৌজার ৪৬৭ নম্বর দাগে মোট ৬২ শতক জমি রয়েছে। এর মধ্যে ‘ক’ তপশিলভুক্ত ৫ শতক এবং ‘খ’ তপশিলভুক্ত ৫৪ শতক জমি অন্তর্ভুক্ত। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই দাগে ইউনিয়ন পরিষদের মালিকানাধীন জমি মাত্র ৩ শতক হলেও সেখানে চেয়ারম্যানের উদ্যোগে প্রায় ৬০ থেকে ৬৫টি পাকা ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এসব ঘরের পজেশন ৭ থেকে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে সেখানে আরও কয়েকটি স্থাপনার নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে।

 

স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, দোকানঘর বা পজেশন বরাদ্দ দেওয়ার আশ্বাসে তাদের কাছ থেকে ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। খোর্দ গ্রামের ইমরান হোসেন, পাটুলিয়া গ্রামের গোলাম কিবরিয়া, উলুডাঙ্গা গ্রামের নজরুল গাজী, ওজিয়ার মোল্লা ও সোহাগসহ একাধিক ব্যক্তি এ অভিযোগ করেন।

 

তাদের ভাষ্য, অনেকের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করা হলেও পরবর্তীতে দোকান বা পজেশন বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। নেওয়া অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

 

সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে একাধিকবার উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও কোনো প্রতিকার মেলেনি বলে দাবি করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ইবাদুল্লাহ গাজী।

 

এদিকে সরকারি সম্পদ বিক্রি, অর্থ আত্মসাৎ এবং আইন লঙ্ঘন করে খাস জমি অতিরিক্ত মূল্যে বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ এনে সম্প্রতি খোর্দ গ্রামের শওকত সরদারের ছেলে আলমগীর হোসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুল ইসলামের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

 

অভিযোগের পর ইউএনওর নির্দেশে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরেজমিন তদন্ত করা হয়। তদন্তের দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা আরবি কর্মকর্তা সোহেল রানা।

 

তদন্ত কর্মকর্তা সোহেল রানা বলেন, “আলমগীর হোসেনের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। দোকান বরাদ্দের ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে। আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হবে।”

 

তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে দেয়াড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান মফে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।

 

স্থানীয়দের দাবি, সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সাতক্ষীরা পুকুরে ডুবে একই বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু

কলারোয়ায় খাস জমির পজেশন বিক্রির অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তদন্ত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, তদন্তে মিলেছে প্রাথমিক সত্যতা

Update Time : ০৫:১৩:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

 

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:

 

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহবুবুর রহমান মফের বিরুদ্ধে সরকারি খাস জমির পজেশন অবৈধভাবে হস্তান্তর ও বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

 

অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৩ সাল থেকে প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা ও সরকারি বিধিবিধান উপেক্ষা করে চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান মফে ইউনিয়নের বিভিন্ন সরকারি সম্পত্তি ও খাস জমির পজেশন বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করে আসছেন। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে একাধিক লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও দীর্ঘদিন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

 

সম্প্রতি পশ্চিম খোর্দ এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিযোগকারীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।

 

লিখিত অভিযোগকারী পশ্চিম খোর্দ এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা ইবাদুল্লাহ গাজী জানান, চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই মাহবুবুর রহমান মফের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি দখল, পজেশন হস্তান্তর ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তার দাবি, ইউনিয়নের হাট-বাজার ও অন্যান্য সরকারি সম্পত্তির পজেশন বিক্রির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১০৩ নম্বর খোর্দ মৌজার ৪৬৭ নম্বর দাগে মোট ৬২ শতক জমি রয়েছে। এর মধ্যে ‘ক’ তপশিলভুক্ত ৫ শতক এবং ‘খ’ তপশিলভুক্ত ৫৪ শতক জমি অন্তর্ভুক্ত। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই দাগে ইউনিয়ন পরিষদের মালিকানাধীন জমি মাত্র ৩ শতক হলেও সেখানে চেয়ারম্যানের উদ্যোগে প্রায় ৬০ থেকে ৬৫টি পাকা ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এসব ঘরের পজেশন ৭ থেকে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে সেখানে আরও কয়েকটি স্থাপনার নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে।

 

স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, দোকানঘর বা পজেশন বরাদ্দ দেওয়ার আশ্বাসে তাদের কাছ থেকে ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। খোর্দ গ্রামের ইমরান হোসেন, পাটুলিয়া গ্রামের গোলাম কিবরিয়া, উলুডাঙ্গা গ্রামের নজরুল গাজী, ওজিয়ার মোল্লা ও সোহাগসহ একাধিক ব্যক্তি এ অভিযোগ করেন।

 

তাদের ভাষ্য, অনেকের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করা হলেও পরবর্তীতে দোকান বা পজেশন বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। নেওয়া অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

 

সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে একাধিকবার উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও কোনো প্রতিকার মেলেনি বলে দাবি করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ইবাদুল্লাহ গাজী।

 

এদিকে সরকারি সম্পদ বিক্রি, অর্থ আত্মসাৎ এবং আইন লঙ্ঘন করে খাস জমি অতিরিক্ত মূল্যে বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ এনে সম্প্রতি খোর্দ গ্রামের শওকত সরদারের ছেলে আলমগীর হোসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুল ইসলামের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

 

অভিযোগের পর ইউএনওর নির্দেশে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরেজমিন তদন্ত করা হয়। তদন্তের দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা আরবি কর্মকর্তা সোহেল রানা।

 

তদন্ত কর্মকর্তা সোহেল রানা বলেন, “আলমগীর হোসেনের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। দোকান বরাদ্দের ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে। আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হবে।”

 

তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে দেয়াড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান মফে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।

 

স্থানীয়দের দাবি, সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

Spread the love