Dhaka ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাতক্ষীরা পুকুরে ডুবে একই বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু সাতক্ষীরায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি দুই বছরেও কলেজে আসেননি সভাপতি, কাগজে-কলমে চলছে দায়িত্ব পালন! কাউখালীতে চরম নেটওয়ার্ক ভোগান্তি: সরকারি টেলিটক সেবা নিশ্চিত করার দাবি গ্রাহকদের সাতক্ষীরায় প্রবীণ ভিক্ষুককে পুনর্বাসনে ছাগল ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ সাতক্ষীরা সদর থানার দেয়ালেই অবৈধ স্থাপনার রাজত্ব! জনদূর্ভোগ চরমে সাতক্ষীরাকে মাদকমুক্ত করতে কঠোর অবস্থান, নতুন ২৩ আদালতে দ্রুত জনবল নিয়োগের আশ্বাস কলারোয়ায় খাস জমির পজেশন বিক্রির অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তদন্ত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, তদন্তে মিলেছে প্রাথমিক সত্যতা সাতক্ষীরার বিচার বিভাগের সমস্যা দ্রুত সমাধান করা হবে: আইনমন্ত্রী সাতক্ষীরায় ট্রি অব লাইফের উদ্যোগে ৩ হাজার পানিবন্দি ও অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ

দুই বছরেও কলেজে আসেননি সভাপতি, কাগজে-কলমে চলছে দায়িত্ব পালন!

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৪৩:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪ Time View

বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি:

 

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী সৈয়দ বজলুল হক কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইফুল হক গত প্রায় দুই বছরে কলেজে আসেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি তিনি এলাকায়ও নিয়মিত আসেন না বলে দাবি স্থানীয়দের। এ নিয়ে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, নদীর ওপারের পাঁচটি ইউনিয়নের শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে চলছে। এর মধ্যে সভাপতির নিয়মিত অনুপস্থিতির বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

অভিযোগ রয়েছে, ২০২৫ সালের ৯ মার্চ তিনি কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান। তাঁর সভাপতির মেয়াদ ২০২৭ সালের ১৮ মার্চ পর্যন্ত। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত তিনি কলেজে সরাসরি উপস্থিত হয়ে কোনো সভা বা কার্যক্রমে অংশ নেননি বলে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের দাবি।

কলেজসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, পরিচালনা পর্ষদের সভা, জরুরি বৈঠক কিংবা বিভিন্ন বিষয়ে সভাপতির স্বাক্ষরের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্টদের ঢাকায় তাঁর বাসায় যেতে হয়। যদিও এসব সভা ও কার্যক্রমের কাগজপত্রে কলেজে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে উল্লেখ থাকে—এমন অভিযোগও রয়েছে।

স্থানীয়দের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, দীর্ঘ সময় ধরে কলেজে সভাপতির অনুপস্থিতির বিষয়টি কীভাবে পরিচালনা কার্যক্রমে প্রভাব ফেলছে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যেও অসন্তোষ রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এদিকে ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইফুল হক প্রয়াত সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ শহীদুল হক জামালের সন্তান। তাঁর বাবার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও পরিবারের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে নানা আলোচনা রয়েছে। তবে এসব রাজনৈতিক বিষয় এবং কলেজের সভাপতির দায়িত্ব পালনের সঙ্গে কোনো সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়।

সম্প্রতি স্থানীয় রাজনৈতিক মহলেও সভাপতির অনুপস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহ আলম মিয়া বলেন, ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইফুল হক সভাপতি হওয়ার পর তাঁকে এলাকায় বা কলেজে দেখেছেন—এমন তথ্য তাঁর জানা নেই। তিনি বলেন, “তিনি কোনো সভা করেছেন বা কোনো আয়োজন করেছেন—এমন কিছু আমার জানা বা শোনা নেই।” তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কেও এলাকায় তেমন কোনো পদচারণা দেখা যায় না বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সৈয়দ বজলুল হক কলেজের অধ্যক্ষ সৈয়দ এনামুল হক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, “এ ব্যাপারে আমি এখন কোনো বক্তব্য দেব না। যেহেতু তিনি আমার সভাপতি, তাই এ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারি না।”

কলেজের সভাপতি ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইফুল হকের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সাতক্ষীরা পুকুরে ডুবে একই বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু

দুই বছরেও কলেজে আসেননি সভাপতি, কাগজে-কলমে চলছে দায়িত্ব পালন!

Update Time : ০৪:৪৩:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি:

 

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী সৈয়দ বজলুল হক কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইফুল হক গত প্রায় দুই বছরে কলেজে আসেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি তিনি এলাকায়ও নিয়মিত আসেন না বলে দাবি স্থানীয়দের। এ নিয়ে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, নদীর ওপারের পাঁচটি ইউনিয়নের শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে চলছে। এর মধ্যে সভাপতির নিয়মিত অনুপস্থিতির বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

অভিযোগ রয়েছে, ২০২৫ সালের ৯ মার্চ তিনি কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান। তাঁর সভাপতির মেয়াদ ২০২৭ সালের ১৮ মার্চ পর্যন্ত। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত তিনি কলেজে সরাসরি উপস্থিত হয়ে কোনো সভা বা কার্যক্রমে অংশ নেননি বলে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের দাবি।

কলেজসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, পরিচালনা পর্ষদের সভা, জরুরি বৈঠক কিংবা বিভিন্ন বিষয়ে সভাপতির স্বাক্ষরের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্টদের ঢাকায় তাঁর বাসায় যেতে হয়। যদিও এসব সভা ও কার্যক্রমের কাগজপত্রে কলেজে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে উল্লেখ থাকে—এমন অভিযোগও রয়েছে।

স্থানীয়দের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, দীর্ঘ সময় ধরে কলেজে সভাপতির অনুপস্থিতির বিষয়টি কীভাবে পরিচালনা কার্যক্রমে প্রভাব ফেলছে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যেও অসন্তোষ রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এদিকে ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইফুল হক প্রয়াত সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ শহীদুল হক জামালের সন্তান। তাঁর বাবার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও পরিবারের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে নানা আলোচনা রয়েছে। তবে এসব রাজনৈতিক বিষয় এবং কলেজের সভাপতির দায়িত্ব পালনের সঙ্গে কোনো সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়।

সম্প্রতি স্থানীয় রাজনৈতিক মহলেও সভাপতির অনুপস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহ আলম মিয়া বলেন, ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইফুল হক সভাপতি হওয়ার পর তাঁকে এলাকায় বা কলেজে দেখেছেন—এমন তথ্য তাঁর জানা নেই। তিনি বলেন, “তিনি কোনো সভা করেছেন বা কোনো আয়োজন করেছেন—এমন কিছু আমার জানা বা শোনা নেই।” তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কেও এলাকায় তেমন কোনো পদচারণা দেখা যায় না বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সৈয়দ বজলুল হক কলেজের অধ্যক্ষ সৈয়দ এনামুল হক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, “এ ব্যাপারে আমি এখন কোনো বক্তব্য দেব না। যেহেতু তিনি আমার সভাপতি, তাই এ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারি না।”

কলেজের সভাপতি ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইফুল হকের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

Spread the love