সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সীমান্তবর্তী জেলা সাতক্ষীরাকে মাদকমুক্ত করতে মাদকসেবীদের ডোপ টেস্টের আওতায় এনে সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান এমপি। একই সঙ্গে সীমান্ত দিয়ে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণেরও নির্দেশনা দেন তিনি।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সম্মেলন কক্ষে বিচার বিভাগ, সাতক্ষীরার আয়োজনে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত জেলা হিসেবে সাতক্ষীরা মাদক পাচারের ঝুঁকিতে রয়েছে। মাদক নির্মূলে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। মাদকাসক্তদের ডোপ টেস্টের আওতায় এনে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি অস্ত্র চোরাচালান প্রতিরোধেও সংশ্লিষ্টদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বর্তমানে জেলায় ৭৬ হাজার ২৮৭টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। মামলাজট কমাতে বিচারকদের নিষ্ঠা, দক্ষতা ও কর্মতৎপরতা আরও বাড়াতে হবে।
বিচার বিভাগের জনবল ও অবকাঠামোগত সংকট নিরসনে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, সম্প্রতি সাতক্ষীরায় অতিরিক্ত দায়রা জজের ৬টি, যুগ্ম দায়রা জজের ৮টি, সিনিয়র সিভিল জজের ২টি, সিভিল জজের ৫টি এবং পারিবারিক আদালতের ২টিসহ মোট ২৩টি নতুন আদালত সৃজন করা হয়েছে। এসব আদালতে দ্রুত বিচারক ও সহায়ক কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হবে।
লিগ্যাল এইড কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) পদ্ধতির মাধ্যমে মামলাজট কমাতে হবে। প্রয়োজনে লিগ্যাল এইড অফিসে জনবল বৃদ্ধি করা হবে।
আদালত প্রাঙ্গণের পরিবেশ ও অবকাঠামোর প্রশংসা করে আইনমন্ত্রী সাতক্ষীরা বিচার বিভাগকে দেশের অন্যান্য জেলা আদালতের জন্য একটি ‘মডেল’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি আদালত চত্বরে সামাজিক বনায়ন, শাপলা চত্বর, ছায়াবিথী ও ন্যায়কুঞ্জ নির্মাণের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
সভাপতির বক্তব্যে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম জেলার বিচার বিভাগের বিভিন্ন সমস্যা ও সংকট তুলে ধরেন। তিনি জানান, বর্তমানে জেলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালসহ বিভিন্ন আদালতে মোট ১১টি বিচারকের পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া নতুন সৃজিত আদালতগুলোর জন্য ১৪ জন বিচারক ও ৭২ জন সহায়ক কর্মচারী নিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে।
সভায় জানানো হয়, ২০২৫ সালে সাতক্ষীরার বিভিন্ন আদালতে মোট ১২ হাজার ২৮৭টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। অন্যদিকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত লিগ্যাল এইড অফিসে ২ হাজার ১৭৭টি আবেদন জমা পড়ে। এ সময়ে এডিআরের মাধ্যমে ১ হাজার ৪৬৪টি বিরোধ নিষ্পত্তি এবং ৪৫৫টি সফল মেডিয়েশন সম্পন্ন হয়েছে। আপস-মীমাংসার মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
এ সময় বিচার কার্যক্রম আরও নির্বিঘ্ন করতে বিদ্যুতের ডাবল ফেজ সংযোগ, লিফট সুবিধা ও পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নের দাবিও তুলে ধরা হয়।
Reporter Name 



















