কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান প্রায় ছয় মাস ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং প্রশাসনিক শূন্যতার কারণে ইউনিয়ন পরিষদগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ফলে প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চেয়ারম্যানদের অনুপস্থিতিতে ইউনিয়ন পরিষদ পরিচালনা ও প্যানেল চেয়ারম্যান মনোনয়ন নিয়ে বিভিন্ন পরিষদে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে নির্বাচিত সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। এরই জেরে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার চিড়াপাড়া-পারসাতুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ক্ষুব্ধ সদস্যরা তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে তালা দেওয়া ও ভাঙাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যা প্রশাসনিক সংকটকে আরও গভীর করেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত থাকা চেয়ারম্যানরা হলেন— রঘুনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ, আমরাজুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর মুন্সী, কাউখালী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান, চিড়াপাড়া-পারসাতুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক লাইফুজ্জামান মিন্টু এবং শিয়ালকাঠী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য গাজী সিদ্দিকুর রহমান।
চেয়ারম্যানদের অনুপস্থিতির কারণে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিকত্ব সনদ, ওয়ারিশ সনদ, ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন জরুরি সেবা পেতে দুর্ভোগে পড়ছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, সংস্কারকাজ এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ভাতা বিতরণ কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কাউখালী সদর ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আশুতোষ বড়াল বলেন, চেয়ারম্যান না থাকায় বিভিন্ন দাপ্তরিক নথিতে স্বাক্ষরসহ দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
এদিকে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শাহ আলম এবং সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা দুলাল হোসেন দীর্ঘদিনের এ প্রশাসনিক অচলাবস্থার অবসান ঘটাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদগুলোর কার্যক্রম সচল রাখতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইতোমধ্যে পাঁচটি ইউনিয়নে প্রশাসক নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন।
এর মধ্যে আমরাজুড়ি ইউনিয়ন পরিষদে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় উপজেলা আইটি কর্মকর্তা মেহেদী হাসানকে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে চেয়ারম্যানদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে কয়েকজন চেয়ারম্যান রাজনৈতিক চাপের কারণে তারা দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না বলে দাবি করেন।
পিরোজপুর স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মাহমুদুর রহমান মামুন জানান, উপজেলার অবশিষ্ট চারটি ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। সেখানে প্রশাসক নিয়োগের জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া মাত্রই প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে চলমান অচলাবস্থা দূর করা হবে।
Reporter Name 





















