Dhaka ০৮:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাতক্ষীরার বিচার বিভাগের সমস্যা দ্রুত সমাধান করা হবে: আইনমন্ত্রী সাতক্ষীরায় ট্রি অব লাইফের উদ্যোগে ৩ হাজার পানিবন্দি ও অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ পাটকেলঘাটায় বাসচাপায় সাইকেল আরোহীর মৃত্যু সাতক্ষীরা ধুলিহর-ব্রহ্মরাজপুরে ৯১৫ মিটার সড়ক উন্নয়নকাজের উদ্বোধন করলেন এমপি আব্দুল খালেক সাতক্ষীরায় বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত ও হলুদ সাংবাদিকতা নিয়ন্ত্রণ জরুরি: আইনমন্ত্রী নেছারাবাদে প্রতিবন্ধী কার্ডে ‘দালাল ফি’ নেওয়ার অভিযোগ কুড়িগ্রামে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেলের প্রশিক্ষণ ও সনদ বিতরণ সাতক্ষীরায় আইনমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানালেন বিএনপি নেতা আব্দুর রউফ সাতক্ষীরায় কুষ্ঠরোগ বিষয়ে সাংবাদিকদের দিনব্যাপী ওরিয়েন্টেশন কর্মশালা অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরায় পৈতৃক সম্পত্তিতে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগে বিএনপি নেতার সংবাদ সম্মেলন

নেছারাবাদে প্রতিবন্ধী কার্ডে ‘দালাল ফি’ নেওয়ার অভিযোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:০৩:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৬ Time View

.

নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে প্রতিবন্ধী কার্ড করতে গিয়ে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অনলাইন আবেদন, ফরম পূরণ, জমা দেওয়া এবং কার্ড হাতে পাওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে নির্দিষ্ট ব্যক্তির মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।

রোববার উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে এসে ফরম জমা দিতে না পেরে এমন অভিযোগ করেন সোহাগদল ইউনিয়নের শেখপাড়া গ্রামের সাহানা বেগম। তিনি জানান, তাদের এলাকায় হাফিজা আক্তার নামে এক নারী ঘুরে ঘুরে প্রতিবন্ধী কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে অর্থ সংগ্রহ করেন।

সাহানা বেগমের দাবি, তাঁর প্রতিবন্ধী শিশুপুত্রের কার্ড করার জন্য প্রথমে অনলাইন আবেদন বাবদ হাফিজা আক্তারকে ৫০০ টাকা দিতে হয়। প্রায় দুই সপ্তাহ পর একটি ফরম এনে অফিসে জমা দেওয়ার পর আরও ২ হাজার টাকা দাবি করা হয়। কার্ড হাতে পাওয়ার পর আরও ২ হাজার টাকা দিতে হবে বলেও তাঁকে জানানো হয়।

তিনি বলেন, “আমার স্বামী করাতকলে অল্প বেতনে কাজ করেন। এত টাকা দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় আমি নিজেই সমাজসেবা অফিসে এসে বিষয়টি ইউনিয়ন সমাজকর্মী রেহানা বেগমকে জানিয়েছি।”

সাহানা বেগমের অভিযোগ, একই এলাকার আরও কয়েকজনের কাছ থেকেও ফরম জমা দেওয়ার জন্য ৫০০ টাকা এবং পরবর্তীতে ২ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের ইউনিয়ন সমাজকর্মী রেহানা বেগমের স্বামীর সঙ্গে কথিত দালাল হাফিজা আক্তারের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। যাঁরা টাকা দেন, তাঁদের প্রতিবন্ধী কার্ড পেতে তুলনামূলক কম ভোগান্তি পোহাতে হয় বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।

রোববার সরেজমিনে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে গিয়ে হাফিজা আক্তারকে পাওয়া না গেলেও আকলিমা নামে আরেক নারীকে একাধিক প্রতিবন্ধী কার্ডের ফরম ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র নিয়ে অবস্থান করতে দেখা যায়। এ বিষয়ে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে চাইলে তিনি দ্রুত সরে যান।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউনিয়ন সমাজকর্মী রেহানা বেগমের স্বামী প্রথমে তাঁর স্ত্রী অসুস্থ বলে কথা বলতে নিষেধ করেন। পরে রেহানা বেগম তাঁকে অফিস ত্যাগ করতে বললে তিনি সেখান থেকে চলে যান।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউনিয়ন সমাজকর্মী রেহানা বেগম বলেন, “আমি কোনো দালালকে চিনি না। অফিসে এসে কেউ ফরম জমা দিলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাজ করি। দালালদের সঙ্গে আমার বা আমার স্বামীর কোনো সম্পর্ক নেই।”

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দীন বলেন, “আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। বর্তমানে অফিসের কাজে বাইরে আছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিবন্ধী কার্ডের আবেদন, ফরম পূরণ কিংবা কার্ড পেতে সরকারি কোনো ফি নেওয়া হয় না।”

সরকারি একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সেবা পেতে অর্থ আদায়ের অভিযোগ এবং সমাজসেবা কার্যালয়ে কথিত দালালদের সক্রিয় উপস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীর দাবি, অভিযোগের সঙ্গে কার্যালয়ের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সাতক্ষীরার বিচার বিভাগের সমস্যা দ্রুত সমাধান করা হবে: আইনমন্ত্রী

নেছারাবাদে প্রতিবন্ধী কার্ডে ‘দালাল ফি’ নেওয়ার অভিযোগ

Update Time : ০১:০৩:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

.

নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে প্রতিবন্ধী কার্ড করতে গিয়ে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অনলাইন আবেদন, ফরম পূরণ, জমা দেওয়া এবং কার্ড হাতে পাওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে নির্দিষ্ট ব্যক্তির মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।

রোববার উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে এসে ফরম জমা দিতে না পেরে এমন অভিযোগ করেন সোহাগদল ইউনিয়নের শেখপাড়া গ্রামের সাহানা বেগম। তিনি জানান, তাদের এলাকায় হাফিজা আক্তার নামে এক নারী ঘুরে ঘুরে প্রতিবন্ধী কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে অর্থ সংগ্রহ করেন।

সাহানা বেগমের দাবি, তাঁর প্রতিবন্ধী শিশুপুত্রের কার্ড করার জন্য প্রথমে অনলাইন আবেদন বাবদ হাফিজা আক্তারকে ৫০০ টাকা দিতে হয়। প্রায় দুই সপ্তাহ পর একটি ফরম এনে অফিসে জমা দেওয়ার পর আরও ২ হাজার টাকা দাবি করা হয়। কার্ড হাতে পাওয়ার পর আরও ২ হাজার টাকা দিতে হবে বলেও তাঁকে জানানো হয়।

তিনি বলেন, “আমার স্বামী করাতকলে অল্প বেতনে কাজ করেন। এত টাকা দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় আমি নিজেই সমাজসেবা অফিসে এসে বিষয়টি ইউনিয়ন সমাজকর্মী রেহানা বেগমকে জানিয়েছি।”

সাহানা বেগমের অভিযোগ, একই এলাকার আরও কয়েকজনের কাছ থেকেও ফরম জমা দেওয়ার জন্য ৫০০ টাকা এবং পরবর্তীতে ২ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের ইউনিয়ন সমাজকর্মী রেহানা বেগমের স্বামীর সঙ্গে কথিত দালাল হাফিজা আক্তারের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। যাঁরা টাকা দেন, তাঁদের প্রতিবন্ধী কার্ড পেতে তুলনামূলক কম ভোগান্তি পোহাতে হয় বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।

রোববার সরেজমিনে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে গিয়ে হাফিজা আক্তারকে পাওয়া না গেলেও আকলিমা নামে আরেক নারীকে একাধিক প্রতিবন্ধী কার্ডের ফরম ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র নিয়ে অবস্থান করতে দেখা যায়। এ বিষয়ে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে চাইলে তিনি দ্রুত সরে যান।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউনিয়ন সমাজকর্মী রেহানা বেগমের স্বামী প্রথমে তাঁর স্ত্রী অসুস্থ বলে কথা বলতে নিষেধ করেন। পরে রেহানা বেগম তাঁকে অফিস ত্যাগ করতে বললে তিনি সেখান থেকে চলে যান।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউনিয়ন সমাজকর্মী রেহানা বেগম বলেন, “আমি কোনো দালালকে চিনি না। অফিসে এসে কেউ ফরম জমা দিলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাজ করি। দালালদের সঙ্গে আমার বা আমার স্বামীর কোনো সম্পর্ক নেই।”

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দীন বলেন, “আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। বর্তমানে অফিসের কাজে বাইরে আছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিবন্ধী কার্ডের আবেদন, ফরম পূরণ কিংবা কার্ড পেতে সরকারি কোনো ফি নেওয়া হয় না।”

সরকারি একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সেবা পেতে অর্থ আদায়ের অভিযোগ এবং সমাজসেবা কার্যালয়ে কথিত দালালদের সক্রিয় উপস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীর দাবি, অভিযোগের সঙ্গে কার্যালয়ের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

Spread the love