
প্রতিনিধি, নেছারাবাদ (পিরোজপুর):
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রাণনাশ ও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন মো. ইমরান খান (৩০) নামের এক ভুক্তভোগী।
জিডি সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৮ নম্বর সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের সেহাংগল গ্রামের বাসিন্দা মো. ইমরান খানের সঙ্গে প্রতিবেশী গোলাম মোস্তফা খান ও হানিফ খানসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছে।
অভিযোগে ইমরান খান উল্লেখ করেন, প্রায় এক বছর আগে তাঁর পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে লক্ষাধিক টাকার মাছ মেরে ফেলা হয়, যে ঘটনায় তিনি বিবাদীদেরই সন্দেহ করছেন। এর ধারাবাহিকতায়, গত ২৬ মে তিনি বাড়িতে না থাকার সুযোগে অভিযুক্তরা দলবল নিয়ে তাঁর রেকর্ডভুক্ত সম্পত্তিতে বেড়া দেয়। একই সাথে সেখানে চাম্বল, আমড়া ও কলাগাছ রোপণ করে জমি দখলের অপচেষ্টা চালায়।
জিডিতে আরও বলা হয়, গত ৩০ মে দুপুরে ইমরান খানের অনুপস্থিতিতে অভিযুক্তরা বেশ কয়েকজন অপরিচিত লোক নিয়ে তাঁর বাড়িতে প্রবেশ করে এবং তাঁর মায়ের সাথে দেখা করে আপ্যায়ন গ্রহণ করে। এই ঘটনার পর থেকে ইমরান খান ও তাঁর পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
ভুক্তভোগীর আশঙ্কা— অভিযুক্তরা যেকোনো সময় তাঁর বাড়িতে ডাকাতি, হামলা কিংবা তাঁকে হত্যাসহ বড় ধরনের কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটাতে পারে। এ অবস্থায় পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তিনি।
তবে জমি দখল ও হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত গোলাম মোস্তফা ওরফে স্বপন খান। তিনি বলেন:
”ওরা আমাদের খান বাড়িরই লোক। প্রায় দেড়শ বছর আগে তারা মোড়লগঞ্জে চলে যায়। এখানে তাদের পূর্বপুরুষদের ভিটেবাড়ি ছিল, সেটাই তারা মূলত দেখতে এসেছিল। এটা মাত্র ১০ মিনিটের একটা ব্যাপার ছিল। আর জমিতে বেড়া দেওয়ার বিষয়ে বলব—ওটা আমাদেরই জমি। গরু-ছাগল ঢুকে নষ্ট করে বলেই আমরা সেখানে বেড়া দিয়েছি।”
এ বিষয়ে নেছারাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদি হাসান জানান, ইমরান খান কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
Reporter Name 














