
কাউখালী প্রতিনিধি
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মো. রায়হান খানকে ঘুষ, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগে তদন্তের পর বদলি করা হলেও মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে আবার একই উপজেলায় পদায়ন করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় জনসাধারণ ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, উপকারভোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়, ঘুষ গ্রহণ এবং সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির অভিযোগ ওঠে রায়হান খানের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) স্বজল মোল্লা তদন্ত পরিচালনা করেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।
পরবর্তীতে তাকে ইন্দুরকানী উপজেলায় বদলি করা হয়। তিনি ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর সেখানে যোগদান করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আগেই তাকে পুনরায় কাউখালী উপজেলায় পদায়নের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তাদের প্রশ্ন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পরও কীভাবে একই কর্মস্থলে তাকে পুনর্বহাল করা হলো। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বলে মন্তব্য করেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মো. রায়হান খান। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ।”
কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “পূর্ববর্তী তদন্তে অভিযোগগুলোর সত্যতা পাওয়া গিয়েছিল। বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, “বিষয়টি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে বদলির আদেশ স্থগিতসহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
Reporter Name 






















