Dhaka ১২:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাতক্ষীরা পুকুরে ডুবে একই বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু সাতক্ষীরায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি দুই বছরেও কলেজে আসেননি সভাপতি, কাগজে-কলমে চলছে দায়িত্ব পালন! কাউখালীতে চরম নেটওয়ার্ক ভোগান্তি: সরকারি টেলিটক সেবা নিশ্চিত করার দাবি গ্রাহকদের সাতক্ষীরায় প্রবীণ ভিক্ষুককে পুনর্বাসনে ছাগল ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ সাতক্ষীরা সদর থানার দেয়ালেই অবৈধ স্থাপনার রাজত্ব! জনদূর্ভোগ চরমে সাতক্ষীরাকে মাদকমুক্ত করতে কঠোর অবস্থান, নতুন ২৩ আদালতে দ্রুত জনবল নিয়োগের আশ্বাস কলারোয়ায় খাস জমির পজেশন বিক্রির অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তদন্ত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, তদন্তে মিলেছে প্রাথমিক সত্যতা সাতক্ষীরার বিচার বিভাগের সমস্যা দ্রুত সমাধান করা হবে: আইনমন্ত্রী সাতক্ষীরায় ট্রি অব লাইফের উদ্যোগে ৩ হাজার পানিবন্দি ও অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ

২৬ মার্চের ইতিহাস: বাঙালির মুক্তি ও স্বাধীনতার সূর্যোদয়

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৪৩:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
  • ২৬৬ Time View

 

সাউথ বেঙ্গল নিউজ ডেস্ক ;

​১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর থেকেই তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) ওপর পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকরা শোষণ, বঞ্চনা এবং ভাষাগত বৈষম্য চাপিয়ে দেয়। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন, ৬৬-র ছয় দফা এবং ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জনের আকাঙ্ক্ষা তীব্রতর হয়। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও পাকিস্তানি জান্তা সরকার ক্ষমতা হস্তান্তরে কালক্ষেপণ শুরু করে।

​১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে ঘুমন্ত ও নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা এবং রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সসহ সারা দেশে শুরু হয় বর্বরোচিত গণহত্যা। এই চরম সংকটে বাঙালির দেয়ালে পিঠ ঠেকে যায়।


​২৫ মার্চ দিবাগত রাত অর্থাৎ ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। গ্রেফতার হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে তিনি ওয়্যারলেসের মাধ্যমে স্বাধীনতার ঘোষণাটি পাঠান। এরপর চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে ঘোষণা পত্রটি পাট করেন মেজর জিয়াউর রহমান , যা মুক্তিপাগল বাঙালির মনে অদম্য সাহস ও শক্তি জোগায়।

​২৬ মার্চের এই ঘোষণার পর শুরু হয় সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ। কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র এবং সামরিক-বেসামরিক জনতা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ৩০ লক্ষ শহীদ এবং ২ লক্ষ মা-বোনের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর আমরা পূর্ণাঙ্গ বিজয় লাভ করি।

​২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস। এটি যেমন বাঙালির শোকের দিন, তার চেয়েও বড় এটি আমাদের গর্বের ও অহংকারের দিন। এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, অন্যায় আর শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতি কখনো মাথা নত করে না। বর্তমান প্রজন্মের দায়িত্ব হলো এই স্বাধীনতার মর্যাদা রক্ষা করা এবং একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা।

 

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সাতক্ষীরা পুকুরে ডুবে একই বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু

২৬ মার্চের ইতিহাস: বাঙালির মুক্তি ও স্বাধীনতার সূর্যোদয়

Update Time : ০৬:৪৩:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

 

সাউথ বেঙ্গল নিউজ ডেস্ক ;

​১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর থেকেই তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) ওপর পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকরা শোষণ, বঞ্চনা এবং ভাষাগত বৈষম্য চাপিয়ে দেয়। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন, ৬৬-র ছয় দফা এবং ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জনের আকাঙ্ক্ষা তীব্রতর হয়। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও পাকিস্তানি জান্তা সরকার ক্ষমতা হস্তান্তরে কালক্ষেপণ শুরু করে।

​১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে ঘুমন্ত ও নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা এবং রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সসহ সারা দেশে শুরু হয় বর্বরোচিত গণহত্যা। এই চরম সংকটে বাঙালির দেয়ালে পিঠ ঠেকে যায়।


​২৫ মার্চ দিবাগত রাত অর্থাৎ ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। গ্রেফতার হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে তিনি ওয়্যারলেসের মাধ্যমে স্বাধীনতার ঘোষণাটি পাঠান। এরপর চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে ঘোষণা পত্রটি পাট করেন মেজর জিয়াউর রহমান , যা মুক্তিপাগল বাঙালির মনে অদম্য সাহস ও শক্তি জোগায়।

​২৬ মার্চের এই ঘোষণার পর শুরু হয় সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ। কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র এবং সামরিক-বেসামরিক জনতা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ৩০ লক্ষ শহীদ এবং ২ লক্ষ মা-বোনের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর আমরা পূর্ণাঙ্গ বিজয় লাভ করি।

​২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস। এটি যেমন বাঙালির শোকের দিন, তার চেয়েও বড় এটি আমাদের গর্বের ও অহংকারের দিন। এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, অন্যায় আর শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতি কখনো মাথা নত করে না। বর্তমান প্রজন্মের দায়িত্ব হলো এই স্বাধীনতার মর্যাদা রক্ষা করা এবং একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা।

 

Spread the love