
সাউথ বেঙ্গল নিউজ ডেস্ক ;
১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর থেকেই তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) ওপর পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকরা শোষণ, বঞ্চনা এবং ভাষাগত বৈষম্য চাপিয়ে দেয়। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন, ৬৬-র ছয় দফা এবং ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জনের আকাঙ্ক্ষা তীব্রতর হয়। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও পাকিস্তানি জান্তা সরকার ক্ষমতা হস্তান্তরে কালক্ষেপণ শুরু করে।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে ঘুমন্ত ও নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা এবং রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সসহ সারা দেশে শুরু হয় বর্বরোচিত গণহত্যা। এই চরম সংকটে বাঙালির দেয়ালে পিঠ ঠেকে যায়।
২৫ মার্চ দিবাগত রাত অর্থাৎ ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। গ্রেফতার হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে তিনি ওয়্যারলেসের মাধ্যমে স্বাধীনতার ঘোষণাটি পাঠান। এরপর চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে ঘোষণা পত্রটি পাট করেন মেজর জিয়াউর রহমান , যা মুক্তিপাগল বাঙালির মনে অদম্য সাহস ও শক্তি জোগায়।
২৬ মার্চের এই ঘোষণার পর শুরু হয় সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ। কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র এবং সামরিক-বেসামরিক জনতা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ৩০ লক্ষ শহীদ এবং ২ লক্ষ মা-বোনের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর আমরা পূর্ণাঙ্গ বিজয় লাভ করি।
২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস। এটি যেমন বাঙালির শোকের দিন, তার চেয়েও বড় এটি আমাদের গর্বের ও অহংকারের দিন। এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, অন্যায় আর শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতি কখনো মাথা নত করে না। বর্তমান প্রজন্মের দায়িত্ব হলো এই স্বাধীনতার মর্যাদা রক্ষা করা এবং একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
Reporter Name 


















