Dhaka ০৮:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কাউখালীতে শহীদ জিয়া স্মৃতি মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরা-কলারোয়া সীমান্তে প্রায় ৭ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ তালায় খাঁচায় আটকে গুরুতর আহত বনবিড়ালের বাচ্চা উদ্ধার সাতক্ষীরায় সুপারির বাণিজ্যিক চাষ, বছরে বিক্রি ২২ কোটি টাকার সাতক্ষীরার ছয়ঘরিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল নারীর কাউখালীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২’ এর উদ্বোধন সাতক্ষীরায় বায়তুল হামদ্ জামে মসজিদের ছাদ ঢালাইয়ের উদ্বোধন সাতক্ষীরায় ‘দৈনিক সাতক্ষীরা খবর’-এর যাত্রা শুরু সাতক্ষীরার মানুষের খাদেম হয়ে কাজ করতে চাই: এমপি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক সুন্দরবনে বনদস্যুদের আতঙ্কে জেলেরা, নির্মূলের দাবিতে কয়রায় মানববন্ধন

২৬ মার্চের ইতিহাস: বাঙালির মুক্তি ও স্বাধীনতার সূর্যোদয়

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৪৩:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
  • ৩১৬ Time View

 

সাউথ বেঙ্গল নিউজ ডেস্ক ;
​
​১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর থেকেই তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) ওপর পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকরা শোষণ, বঞ্চনা এবং ভাষাগত বৈষম্য চাপিয়ে দেয়। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন, ৬৬-র ছয় দফা এবং ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জনের আকাঙ্ক্ষা তীব্রতর হয়। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও পাকিস্তানি জান্তা সরকার ক্ষমতা হস্তান্তরে কালক্ষেপণ শুরু করে।

​১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে ঘুমন্ত ও নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা এবং রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সসহ সারা দেশে শুরু হয় বর্বরোচিত গণহত্যা। এই চরম সংকটে বাঙালির দেয়ালে পিঠ ঠেকে যায়।

​
​২৫ মার্চ দিবাগত রাত অর্থাৎ ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। গ্রেফতার হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে তিনি ওয়্যারলেসের মাধ্যমে স্বাধীনতার ঘোষণাটি পাঠান। এরপর চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে ঘোষণা পত্রটি পাট করেন মেজর জিয়াউর রহমান , যা মুক্তিপাগল বাঙালির মনে অদম্য সাহস ও শক্তি জোগায়।

​২৬ মার্চের এই ঘোষণার পর শুরু হয় সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ। কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র এবং সামরিক-বেসামরিক জনতা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ৩০ লক্ষ শহীদ এবং ২ লক্ষ মা-বোনের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর আমরা পূর্ণাঙ্গ বিজয় লাভ করি।
​
​২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস। এটি যেমন বাঙালির শোকের দিন, তার চেয়েও বড় এটি আমাদের গর্বের ও অহংকারের দিন। এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, অন্যায় আর শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতি কখনো মাথা নত করে না। বর্তমান প্রজন্মের দায়িত্ব হলো এই স্বাধীনতার মর্যাদা রক্ষা করা এবং একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা।

 

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

কাউখালীতে শহীদ জিয়া স্মৃতি মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

২৬ মার্চের ইতিহাস: বাঙালির মুক্তি ও স্বাধীনতার সূর্যোদয়

Update Time : ০৬:৪৩:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

 

সাউথ বেঙ্গল নিউজ ডেস্ক ;
​
​১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর থেকেই তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) ওপর পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকরা শোষণ, বঞ্চনা এবং ভাষাগত বৈষম্য চাপিয়ে দেয়। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন, ৬৬-র ছয় দফা এবং ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জনের আকাঙ্ক্ষা তীব্রতর হয়। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও পাকিস্তানি জান্তা সরকার ক্ষমতা হস্তান্তরে কালক্ষেপণ শুরু করে।

​১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে ঘুমন্ত ও নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা এবং রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সসহ সারা দেশে শুরু হয় বর্বরোচিত গণহত্যা। এই চরম সংকটে বাঙালির দেয়ালে পিঠ ঠেকে যায়।

​
​২৫ মার্চ দিবাগত রাত অর্থাৎ ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। গ্রেফতার হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে তিনি ওয়্যারলেসের মাধ্যমে স্বাধীনতার ঘোষণাটি পাঠান। এরপর চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে ঘোষণা পত্রটি পাট করেন মেজর জিয়াউর রহমান , যা মুক্তিপাগল বাঙালির মনে অদম্য সাহস ও শক্তি জোগায়।

​২৬ মার্চের এই ঘোষণার পর শুরু হয় সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ। কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র এবং সামরিক-বেসামরিক জনতা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ৩০ লক্ষ শহীদ এবং ২ লক্ষ মা-বোনের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর আমরা পূর্ণাঙ্গ বিজয় লাভ করি।
​
​২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস। এটি যেমন বাঙালির শোকের দিন, তার চেয়েও বড় এটি আমাদের গর্বের ও অহংকারের দিন। এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, অন্যায় আর শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতি কখনো মাথা নত করে না। বর্তমান প্রজন্মের দায়িত্ব হলো এই স্বাধীনতার মর্যাদা রক্ষা করা এবং একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা।

 

Spread the love