Dhaka ১২:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডেঙ্গু রোগীতে উপচে পড়ছে কাউখালী হাসপাতাল, বাড়ছে উদ্বেগ সাতক্ষীরায় ‘গরীবের মেহমানখানা’ কর্মসূচিতে অসহায় মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ কালিগঞ্জে সেভেন আপের বোতলে রাখা ঘাসমারা ওষুধ পান করে ব্যবসায়ীর মৃত্যু সদর সার্কেল অফিসের বার্ষিক পরিদর্শন করলেন সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার কাউখালীতে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান, দুই প্রতিষ্ঠানকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা বানারীপাড়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ, ফ্যাক্ট চেকিং ও গণমাধ্যমকর্মীদের ভূমিকা শীর্ষক মতবিনিময় সভা রামপালে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি বানারীপাড়ায় ৯ বছরের শিশুর মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ সাতক্ষীরায় প্রাক্তন নিবন্ধিত শিশু ও যুবদের নিয়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরার রসুলপুরে অসহায় ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ

লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত সাতক্ষীরার জনজীবন

 

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ;

বৈশাখের শুরুতেই তীব্র দাবদাহে পুড়ছে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা। প্রখর রোদ ও অস্বস্তিকর গরমে জনজীবন যখন হাঁসফাঁস করছে, তখন ঘন ঘন লোডশেডিং পরিস্থিতিকে আরও অসহনীয় করে তুলেছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্যমতে, তীব্র গরমে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ফলে লোড ম্যানেজমেন্টের অংশ হিসেবে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে।

জলবায়ু বিশেষজ্ঞ অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপমাত্রা মানুষের সহনীয় সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। একসময় ফ্যানের বাতাসে স্বস্তি মিললেও এখন এসিতেও তেমন আরাম পাওয়া যায় না। বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাবে এ অঞ্চলের আবহাওয়া পরিবর্তিত হয়ে বিভিন্ন রোগের প্রকোপও বাড়ছে।
লোডশেডিংয়ে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ইটাগাছা এলাকার আব্দুল গফুর জানান, গরমে বিদ্যুৎ না থাকলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয় এবং রাতে ঘুমানো যায় না। পলাশপোলের গৃহিণী শারমিন আক্তার বলেন, ছোট শিশুদের নিয়ে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

গ্রামাঞ্চলেও একই চিত্র। কলারোয়ার সরসকাটির মোশারফ হোসেন জানান, দিনে কয়েক ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকে না। এতে কৃষিকাজ ও সেচব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। শ্যামনগরের কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, সময়মতো জমিতে পানি দিতে না পারায় ফসল ক্ষতির মুখে পড়ছে।
বিদ্যুৎ সংকটে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও বিপাকে পড়েছেন। ফ্রিজে রাখা পণ্য নষ্ট হওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে জানান ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম।

ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সোয়াইব হোসেন জানান, জেলায় চাহিদা ২২ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ১৫-১৬ মেগাওয়াট। অপরদিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জানিয়েছে, ১৫০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ মিলছে মাত্র ৯৫ মেগাওয়াট।

তীব্র গরম ও বিদ্যুৎ সংকট মিলিয়ে সাতক্ষীরার জনজীবন এখন চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে।

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ডেঙ্গু রোগীতে উপচে পড়ছে কাউখালী হাসপাতাল, বাড়ছে উদ্বেগ

লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত সাতক্ষীরার জনজীবন

Update Time : ০৫:৩০:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

 

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ;

বৈশাখের শুরুতেই তীব্র দাবদাহে পুড়ছে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা। প্রখর রোদ ও অস্বস্তিকর গরমে জনজীবন যখন হাঁসফাঁস করছে, তখন ঘন ঘন লোডশেডিং পরিস্থিতিকে আরও অসহনীয় করে তুলেছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্যমতে, তীব্র গরমে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ফলে লোড ম্যানেজমেন্টের অংশ হিসেবে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে।

জলবায়ু বিশেষজ্ঞ অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপমাত্রা মানুষের সহনীয় সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। একসময় ফ্যানের বাতাসে স্বস্তি মিললেও এখন এসিতেও তেমন আরাম পাওয়া যায় না। বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাবে এ অঞ্চলের আবহাওয়া পরিবর্তিত হয়ে বিভিন্ন রোগের প্রকোপও বাড়ছে।
লোডশেডিংয়ে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ইটাগাছা এলাকার আব্দুল গফুর জানান, গরমে বিদ্যুৎ না থাকলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয় এবং রাতে ঘুমানো যায় না। পলাশপোলের গৃহিণী শারমিন আক্তার বলেন, ছোট শিশুদের নিয়ে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

গ্রামাঞ্চলেও একই চিত্র। কলারোয়ার সরসকাটির মোশারফ হোসেন জানান, দিনে কয়েক ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকে না। এতে কৃষিকাজ ও সেচব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। শ্যামনগরের কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, সময়মতো জমিতে পানি দিতে না পারায় ফসল ক্ষতির মুখে পড়ছে।
বিদ্যুৎ সংকটে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও বিপাকে পড়েছেন। ফ্রিজে রাখা পণ্য নষ্ট হওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে জানান ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম।

ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সোয়াইব হোসেন জানান, জেলায় চাহিদা ২২ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ১৫-১৬ মেগাওয়াট। অপরদিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জানিয়েছে, ১৫০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ মিলছে মাত্র ৯৫ মেগাওয়াট।

তীব্র গরম ও বিদ্যুৎ সংকট মিলিয়ে সাতক্ষীরার জনজীবন এখন চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে।

Spread the love