সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ;
বৈশাখের শুরুতেই তীব্র দাবদাহে পুড়ছে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা। প্রখর রোদ ও অস্বস্তিকর গরমে জনজীবন যখন হাঁসফাঁস করছে, তখন ঘন ঘন লোডশেডিং পরিস্থিতিকে আরও অসহনীয় করে তুলেছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্যমতে, তীব্র গরমে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ফলে লোড ম্যানেজমেন্টের অংশ হিসেবে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে।
জলবায়ু বিশেষজ্ঞ অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপমাত্রা মানুষের সহনীয় সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। একসময় ফ্যানের বাতাসে স্বস্তি মিললেও এখন এসিতেও তেমন আরাম পাওয়া যায় না। বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাবে এ অঞ্চলের আবহাওয়া পরিবর্তিত হয়ে বিভিন্ন রোগের প্রকোপও বাড়ছে।
লোডশেডিংয়ে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ইটাগাছা এলাকার আব্দুল গফুর জানান, গরমে বিদ্যুৎ না থাকলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয় এবং রাতে ঘুমানো যায় না। পলাশপোলের গৃহিণী শারমিন আক্তার বলেন, ছোট শিশুদের নিয়ে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
গ্রামাঞ্চলেও একই চিত্র। কলারোয়ার সরসকাটির মোশারফ হোসেন জানান, দিনে কয়েক ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকে না। এতে কৃষিকাজ ও সেচব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। শ্যামনগরের কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, সময়মতো জমিতে পানি দিতে না পারায় ফসল ক্ষতির মুখে পড়ছে।
বিদ্যুৎ সংকটে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও বিপাকে পড়েছেন। ফ্রিজে রাখা পণ্য নষ্ট হওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে জানান ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম।
ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সোয়াইব হোসেন জানান, জেলায় চাহিদা ২২ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ১৫-১৬ মেগাওয়াট। অপরদিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জানিয়েছে, ১৫০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ মিলছে মাত্র ৯৫ মেগাওয়াট।
তীব্র গরম ও বিদ্যুৎ সংকট মিলিয়ে সাতক্ষীরার জনজীবন এখন চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে।