Dhaka ০১:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পাটকেলঘাটা থানা ভবনের নির্মাণকাজ পরিদর্শনে সংসদ সদস্য ইজ্জত উল্লাহ বাকেরগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির নতুন কমিটি, সভাপতি রিমন সম্পাদক মোর্শেদ কালিগঞ্জে ৪ কেজি গাঁজাসহ নারী আটক, পালালেন এক ব্যক্তি চোখ পরীক্ষা, ডায়াবেটিস পরীক্ষা, বিনামূল্যে চশমা ও ওষুধ বিতরণ সাতক্ষীরায় আইনজীবীদের লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে তলবি সভা সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি কাউখালীতে আগাম লাউ চাষে বাম্পার ফলন, হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে চকরিয়ায় প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে বৃত্তি আয়োজনের অভিযোগ, ১৪৫ বিদ্যালয়ে জরুরি চিঠি কলারোয়ায় ইটভাটার মালিকানা নিয়ে বিরোধ, বিএনপি নেতা আক্তারুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ সাতক্ষীরায় নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন

শিক্ষার্থীর বিপরীতে ৪ শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক নেই: কাউখালীর জব্দকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংকট চরমে

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:১২:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
  • ৭৩ Time View

কাউখালী প্রতিনিধি:

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর জব্দকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চরম শিক্ষার্থী সংকট দেখা দিয়েছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি মিলিয়ে সর্বমোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র ৭ জন, আর তাদের পাঠদানে নিয়োজিত রয়েছেন ৪ জন শিক্ষক! এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদটি শূন্য থাকায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন সহকারী শিক্ষক দীপঙ্কর শিকদার।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে কোনো শিক্ষার্থীই নেই। এছাড়া তৃতীয় শ্রেণিতে ২ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ১ জন এবং পঞ্চম শ্রেণিতে ৪ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। মাত্র এই ৭ জন শিক্ষার্থী নিয়েই চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে পাঠদান কার্যক্রম।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়টির ভৌগোলিক সীমানা বা ‘ক্যাচমেন্ট এরিয়া’ ছোট হওয়ায় এমনিতেই শিক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক কম। তার ওপর চারপাশের ১ থেকে ২ কিলোমিটারের মধ্যে আরও চারটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকায় অধিকাংশ অভিভাবক তাঁদের সন্তানদের পাশের স্কুলগুলোতে ভর্তি করাচ্ছেন।

স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, পূর্বে বিদ্যালয়টিতে যথেষ্ট শিক্ষার্থী ছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিক্ষার মান কিছুটা নেমে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে অনেকে সন্তানকে অন্য স্কুলে নিয়ে গেছেন। পাশাপাশি এলাকাটি উপজেলার শেষ সীমান্তে অবস্থিত হওয়ায় অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং স্থানীয় পরিবারগুলোর শহরমুখী প্রবণতাকেও শিক্ষার্থী হ্রাসের কারণ হিসেবে মনে করছেন তাঁরা।

বিদ্যালয়ের সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি প্রভাতী রানী বলেন, “আমাদের সময়ে স্কুলে প্রচুর শিক্ষার্থী ছিল। শিক্ষকদের আরও আন্তরিক ও দায়িত্বশীল হতে হবে। লেখাপড়ার মান উন্নত করার পাশাপাশি অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বাড়ালে আবারও শিক্ষার্থী ফিরে আসবে।”

বিদ্যালয়টির সংকট ও সার্বিক অবস্থা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য:

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দীপঙ্কর শিকদার:

“আমরা নিয়মিত পাঠদান পরিচালনা করছি। শিক্ষার্থী কম হলেও সুবিধা হলো—প্রত্যেকের ওপর আলাদাভাবে নিবিড় নজর দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। এছাড়া নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য অভিভাবকদের উদ্বুদ্ধ করতে আমরা কাজ করছি। প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদটি দ্রুত পূরণ হলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে আরও গতি আসবে।”

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অহিদুর রহমান:

“বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়াতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এলাকাভিত্তিক সচেতনতা তৈরি, মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিতকরণ এবং অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে বিদ্যালয়টিতে আবারও শিক্ষার্থী ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।”

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান:

“প্রাথমিক শিক্ষা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের বিষয়। বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার মূল কারণগুলো খতিয়ে দেখা হবে। শিক্ষা অফিসের সঙ্গে সমন্বয় করে শিক্ষার মান উন্নয়ন, প্রধান শিক্ষকের পদ পূরণ এবং শিক্ষার্থী বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি স্থানীয় অভিভাবকদেরও এলাকার নিজস্ব বিদ্যালয়ে সন্তানদের ভর্তি করাতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।”

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

পাটকেলঘাটা থানা ভবনের নির্মাণকাজ পরিদর্শনে সংসদ সদস্য ইজ্জত উল্লাহ

শিক্ষার্থীর বিপরীতে ৪ শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক নেই: কাউখালীর জব্দকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংকট চরমে

Update Time : ০৬:১২:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

কাউখালী প্রতিনিধি:

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর জব্দকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চরম শিক্ষার্থী সংকট দেখা দিয়েছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি মিলিয়ে সর্বমোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র ৭ জন, আর তাদের পাঠদানে নিয়োজিত রয়েছেন ৪ জন শিক্ষক! এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদটি শূন্য থাকায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন সহকারী শিক্ষক দীপঙ্কর শিকদার।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে কোনো শিক্ষার্থীই নেই। এছাড়া তৃতীয় শ্রেণিতে ২ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ১ জন এবং পঞ্চম শ্রেণিতে ৪ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। মাত্র এই ৭ জন শিক্ষার্থী নিয়েই চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে পাঠদান কার্যক্রম।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়টির ভৌগোলিক সীমানা বা ‘ক্যাচমেন্ট এরিয়া’ ছোট হওয়ায় এমনিতেই শিক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক কম। তার ওপর চারপাশের ১ থেকে ২ কিলোমিটারের মধ্যে আরও চারটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকায় অধিকাংশ অভিভাবক তাঁদের সন্তানদের পাশের স্কুলগুলোতে ভর্তি করাচ্ছেন।

স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, পূর্বে বিদ্যালয়টিতে যথেষ্ট শিক্ষার্থী ছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিক্ষার মান কিছুটা নেমে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে অনেকে সন্তানকে অন্য স্কুলে নিয়ে গেছেন। পাশাপাশি এলাকাটি উপজেলার শেষ সীমান্তে অবস্থিত হওয়ায় অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং স্থানীয় পরিবারগুলোর শহরমুখী প্রবণতাকেও শিক্ষার্থী হ্রাসের কারণ হিসেবে মনে করছেন তাঁরা।

বিদ্যালয়ের সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি প্রভাতী রানী বলেন, “আমাদের সময়ে স্কুলে প্রচুর শিক্ষার্থী ছিল। শিক্ষকদের আরও আন্তরিক ও দায়িত্বশীল হতে হবে। লেখাপড়ার মান উন্নত করার পাশাপাশি অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বাড়ালে আবারও শিক্ষার্থী ফিরে আসবে।”

বিদ্যালয়টির সংকট ও সার্বিক অবস্থা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য:

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দীপঙ্কর শিকদার:

“আমরা নিয়মিত পাঠদান পরিচালনা করছি। শিক্ষার্থী কম হলেও সুবিধা হলো—প্রত্যেকের ওপর আলাদাভাবে নিবিড় নজর দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। এছাড়া নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য অভিভাবকদের উদ্বুদ্ধ করতে আমরা কাজ করছি। প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদটি দ্রুত পূরণ হলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে আরও গতি আসবে।”

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অহিদুর রহমান:

“বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়াতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এলাকাভিত্তিক সচেতনতা তৈরি, মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিতকরণ এবং অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে বিদ্যালয়টিতে আবারও শিক্ষার্থী ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।”

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান:

“প্রাথমিক শিক্ষা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের বিষয়। বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার মূল কারণগুলো খতিয়ে দেখা হবে। শিক্ষা অফিসের সঙ্গে সমন্বয় করে শিক্ষার মান উন্নয়ন, প্রধান শিক্ষকের পদ পূরণ এবং শিক্ষার্থী বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি স্থানীয় অভিভাবকদেরও এলাকার নিজস্ব বিদ্যালয়ে সন্তানদের ভর্তি করাতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।”

Spread the love