Dhaka ০৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঈদ উপলক্ষে প্রান্তিক যুব সংঘের মেহেদি উৎসব কাউখালী সরকারি কেজি ইউনিয়ন বিদ্যালয়ে এসএসসি ২০০৪ ব্যাচের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ জিয়ার অবদান অসামান্য’— নেছারাবাদে প্রতিমন্ত্রী সোহেল মনজুর নেছারাবাদের পশ্চিম পাড়ে পৃথক ‘স্বরূপকাঠী উপজেলা’ বাস্তবায়নের দাবি পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে দেশবাসীকে এনপিপি চেয়ারম্যান ও মহাসচিবের শুভেচ্ছা নেছারাবাদে ঝড়ে গাছের চাপায় গৃহবধূর মৃত্যু ভান্ডারিয়ায় জামায়াতের উদ্যোগে অসহায় দরিদ্রদের মাঝে চাল বিতরণ পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মো: বশির উদ্দিন জামায়াতের সহ- সেক্রেটারি নেছারাবাদে নুরুল ইসলাম মনজুরের মৃত্যুবার্ষিকীতে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল ভাণ্ডারিয়ায় নুরুল ইসলাম মনজুরের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল

প্রবীণ সাংবাদিক সাইদুর রহমান শাহীন আর নেই

 

বাকেরগঞ্জের সাংবাদিক অঙ্গনে এক গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দক্ষিণবঙ্গ পত্রিকার সম্পাদক, প্রবীণ ও সম্মানিত সাংবাদিক সাইদুর রহমান শাহীন আজ ভোর ৭টা ৩৫ মিনিটে তাঁর শ্বশুরবাড়ি উপজেলার ১২ নম্বর রঙ্গশ্র ইউনিয়নের ফলাঘর গ্রামে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর প্রস্থান শুধু একটি পরিবারের নয়, একটি সমাজের, একটি পেশার এবং একটি মূল্যবোধের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে রইলো।প্রায় দুই মাস আগে নিজ বাড়ি ১৩ নম্বর পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের খন্দকার বাড়িতে হঠাৎ স্ট্রোক করলে দ্রুত তাঁকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা তাঁর অবস্থার অবনতি লক্ষ্য করে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। দীর্ঘদিন ধরে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়াই করে চিকিৎসা শেষে কিছুটা স্থিতিশীল অবস্থায় তাঁকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হলেও শেষ পর্যন্ত সেই লড়াই আর জিততে পারলেন না এই বর্ষীয়ান সাংবাদিক।সাইদুর রহমান শাহীন শুধু একজন সম্পাদক ছিলেন না—তিনি ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠানের নাম, একটি বিশ্বাসের প্রতীক। তাঁর কলম ছিল নির্ভীক, তাঁর অবস্থান ছিল সত্যের পক্ষে অবিচল। সাংবাদিকতা তাঁর কাছে পেশা নয়, ছিল এক প্রকার দায়িত্ববোধ—সমাজের কথা বলা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর তুলে ধরা।
বাকেরগঞ্জের সাংবাদিক সমাজে তিনি ছিলেন এক অভিভাবকসুলভ ব্যক্তিত্ব। নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের কাছে তিনি ছিলেন পথপ্রদর্শক, অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার এবং সাহসের উৎস। তাঁর সাথে কাজ করা সহকর্মীরা বলেন, “তিনি কখনো কাউকে ছোট করে দেখেননি, বরং সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন।” তাঁর এই সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ ও মানবিক গুণাবলী তাঁকে সকলের হৃদয়ে স্থায়ী স্থান করে দিয়েছে।তাঁর মৃত্যুতে বাকেরগঞ্জের সাংবাদিকদের মধ্যে যেন এক নিঃশব্দ কান্না ছড়িয়ে পড়েছে। এটি কেবল একজন ব্যক্তির চলে যাওয়া নয়—এটি একটি যুগের অবসান, একটি নৈতিক অবস্থানের পতন, একটি সাহসী কণ্ঠের নীরবতা।আজকের এই সময়ে, যখন সাংবাদিকতা নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তখন সাইদুর রহমান শাহীনদের মতো মানুষদের উপস্থিতি ছিল আশার আলো। তাঁর জীবনের সংগ্রাম, নীতি ও আদর্শ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।তাঁর শূন্যতা হয়তো কখনো পূরণ হবে না, তবে তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শ, সততা এবং মানবিকতা সাংবাদিক সমাজকে দীর্ঘদিন পথ দেখাবে—এই প্রত্যাশাই রইলো।আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন। আমিন।

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ঈদ উপলক্ষে প্রান্তিক যুব সংঘের মেহেদি উৎসব

প্রবীণ সাংবাদিক সাইদুর রহমান শাহীন আর নেই

Update Time : ০৩:১৯:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

 

বাকেরগঞ্জের সাংবাদিক অঙ্গনে এক গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দক্ষিণবঙ্গ পত্রিকার সম্পাদক, প্রবীণ ও সম্মানিত সাংবাদিক সাইদুর রহমান শাহীন আজ ভোর ৭টা ৩৫ মিনিটে তাঁর শ্বশুরবাড়ি উপজেলার ১২ নম্বর রঙ্গশ্র ইউনিয়নের ফলাঘর গ্রামে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর প্রস্থান শুধু একটি পরিবারের নয়, একটি সমাজের, একটি পেশার এবং একটি মূল্যবোধের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে রইলো।প্রায় দুই মাস আগে নিজ বাড়ি ১৩ নম্বর পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের খন্দকার বাড়িতে হঠাৎ স্ট্রোক করলে দ্রুত তাঁকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা তাঁর অবস্থার অবনতি লক্ষ্য করে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। দীর্ঘদিন ধরে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়াই করে চিকিৎসা শেষে কিছুটা স্থিতিশীল অবস্থায় তাঁকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হলেও শেষ পর্যন্ত সেই লড়াই আর জিততে পারলেন না এই বর্ষীয়ান সাংবাদিক।সাইদুর রহমান শাহীন শুধু একজন সম্পাদক ছিলেন না—তিনি ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠানের নাম, একটি বিশ্বাসের প্রতীক। তাঁর কলম ছিল নির্ভীক, তাঁর অবস্থান ছিল সত্যের পক্ষে অবিচল। সাংবাদিকতা তাঁর কাছে পেশা নয়, ছিল এক প্রকার দায়িত্ববোধ—সমাজের কথা বলা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর তুলে ধরা।
বাকেরগঞ্জের সাংবাদিক সমাজে তিনি ছিলেন এক অভিভাবকসুলভ ব্যক্তিত্ব। নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের কাছে তিনি ছিলেন পথপ্রদর্শক, অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার এবং সাহসের উৎস। তাঁর সাথে কাজ করা সহকর্মীরা বলেন, “তিনি কখনো কাউকে ছোট করে দেখেননি, বরং সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন।” তাঁর এই সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ ও মানবিক গুণাবলী তাঁকে সকলের হৃদয়ে স্থায়ী স্থান করে দিয়েছে।তাঁর মৃত্যুতে বাকেরগঞ্জের সাংবাদিকদের মধ্যে যেন এক নিঃশব্দ কান্না ছড়িয়ে পড়েছে। এটি কেবল একজন ব্যক্তির চলে যাওয়া নয়—এটি একটি যুগের অবসান, একটি নৈতিক অবস্থানের পতন, একটি সাহসী কণ্ঠের নীরবতা।আজকের এই সময়ে, যখন সাংবাদিকতা নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তখন সাইদুর রহমান শাহীনদের মতো মানুষদের উপস্থিতি ছিল আশার আলো। তাঁর জীবনের সংগ্রাম, নীতি ও আদর্শ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।তাঁর শূন্যতা হয়তো কখনো পূরণ হবে না, তবে তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শ, সততা এবং মানবিকতা সাংবাদিক সমাজকে দীর্ঘদিন পথ দেখাবে—এই প্রত্যাশাই রইলো।আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন। আমিন।

Spread the love