Dhaka ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পাটকেলঘাটা থানা ভবনের নির্মাণকাজ পরিদর্শনে সংসদ সদস্য ইজ্জত উল্লাহ বাকেরগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির নতুন কমিটি, সভাপতি রিমন সম্পাদক মোর্শেদ কালিগঞ্জে ৪ কেজি গাঁজাসহ নারী আটক, পালালেন এক ব্যক্তি চোখ পরীক্ষা, ডায়াবেটিস পরীক্ষা, বিনামূল্যে চশমা ও ওষুধ বিতরণ সাতক্ষীরায় আইনজীবীদের লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে তলবি সভা সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি কাউখালীতে আগাম লাউ চাষে বাম্পার ফলন, হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে চকরিয়ায় প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে বৃত্তি আয়োজনের অভিযোগ, ১৪৫ বিদ্যালয়ে জরুরি চিঠি কলারোয়ায় ইটভাটার মালিকানা নিয়ে বিরোধ, বিএনপি নেতা আক্তারুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ সাতক্ষীরায় নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন

প্রবীণ সাংবাদিক সাইদুর রহমান শাহীন আর নেই

 

বাকেরগঞ্জের সাংবাদিক অঙ্গনে এক গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দক্ষিণবঙ্গ পত্রিকার সম্পাদক, প্রবীণ ও সম্মানিত সাংবাদিক সাইদুর রহমান শাহীন আজ ভোর ৭টা ৩৫ মিনিটে তাঁর শ্বশুরবাড়ি উপজেলার ১২ নম্বর রঙ্গশ্র ইউনিয়নের ফলাঘর গ্রামে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর প্রস্থান শুধু একটি পরিবারের নয়, একটি সমাজের, একটি পেশার এবং একটি মূল্যবোধের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে রইলো।প্রায় দুই মাস আগে নিজ বাড়ি ১৩ নম্বর পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের খন্দকার বাড়িতে হঠাৎ স্ট্রোক করলে দ্রুত তাঁকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা তাঁর অবস্থার অবনতি লক্ষ্য করে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। দীর্ঘদিন ধরে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়াই করে চিকিৎসা শেষে কিছুটা স্থিতিশীল অবস্থায় তাঁকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হলেও শেষ পর্যন্ত সেই লড়াই আর জিততে পারলেন না এই বর্ষীয়ান সাংবাদিক।সাইদুর রহমান শাহীন শুধু একজন সম্পাদক ছিলেন না—তিনি ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠানের নাম, একটি বিশ্বাসের প্রতীক। তাঁর কলম ছিল নির্ভীক, তাঁর অবস্থান ছিল সত্যের পক্ষে অবিচল। সাংবাদিকতা তাঁর কাছে পেশা নয়, ছিল এক প্রকার দায়িত্ববোধ—সমাজের কথা বলা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর তুলে ধরা।
বাকেরগঞ্জের সাংবাদিক সমাজে তিনি ছিলেন এক অভিভাবকসুলভ ব্যক্তিত্ব। নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের কাছে তিনি ছিলেন পথপ্রদর্শক, অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার এবং সাহসের উৎস। তাঁর সাথে কাজ করা সহকর্মীরা বলেন, “তিনি কখনো কাউকে ছোট করে দেখেননি, বরং সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন।” তাঁর এই সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ ও মানবিক গুণাবলী তাঁকে সকলের হৃদয়ে স্থায়ী স্থান করে দিয়েছে।তাঁর মৃত্যুতে বাকেরগঞ্জের সাংবাদিকদের মধ্যে যেন এক নিঃশব্দ কান্না ছড়িয়ে পড়েছে। এটি কেবল একজন ব্যক্তির চলে যাওয়া নয়—এটি একটি যুগের অবসান, একটি নৈতিক অবস্থানের পতন, একটি সাহসী কণ্ঠের নীরবতা।আজকের এই সময়ে, যখন সাংবাদিকতা নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তখন সাইদুর রহমান শাহীনদের মতো মানুষদের উপস্থিতি ছিল আশার আলো। তাঁর জীবনের সংগ্রাম, নীতি ও আদর্শ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।তাঁর শূন্যতা হয়তো কখনো পূরণ হবে না, তবে তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শ, সততা এবং মানবিকতা সাংবাদিক সমাজকে দীর্ঘদিন পথ দেখাবে—এই প্রত্যাশাই রইলো।আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন। আমিন।

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

পাটকেলঘাটা থানা ভবনের নির্মাণকাজ পরিদর্শনে সংসদ সদস্য ইজ্জত উল্লাহ

প্রবীণ সাংবাদিক সাইদুর রহমান শাহীন আর নেই

Update Time : ০৩:১৯:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

 

বাকেরগঞ্জের সাংবাদিক অঙ্গনে এক গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দক্ষিণবঙ্গ পত্রিকার সম্পাদক, প্রবীণ ও সম্মানিত সাংবাদিক সাইদুর রহমান শাহীন আজ ভোর ৭টা ৩৫ মিনিটে তাঁর শ্বশুরবাড়ি উপজেলার ১২ নম্বর রঙ্গশ্র ইউনিয়নের ফলাঘর গ্রামে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর প্রস্থান শুধু একটি পরিবারের নয়, একটি সমাজের, একটি পেশার এবং একটি মূল্যবোধের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে রইলো।প্রায় দুই মাস আগে নিজ বাড়ি ১৩ নম্বর পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের খন্দকার বাড়িতে হঠাৎ স্ট্রোক করলে দ্রুত তাঁকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা তাঁর অবস্থার অবনতি লক্ষ্য করে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। দীর্ঘদিন ধরে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়াই করে চিকিৎসা শেষে কিছুটা স্থিতিশীল অবস্থায় তাঁকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হলেও শেষ পর্যন্ত সেই লড়াই আর জিততে পারলেন না এই বর্ষীয়ান সাংবাদিক।সাইদুর রহমান শাহীন শুধু একজন সম্পাদক ছিলেন না—তিনি ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠানের নাম, একটি বিশ্বাসের প্রতীক। তাঁর কলম ছিল নির্ভীক, তাঁর অবস্থান ছিল সত্যের পক্ষে অবিচল। সাংবাদিকতা তাঁর কাছে পেশা নয়, ছিল এক প্রকার দায়িত্ববোধ—সমাজের কথা বলা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর তুলে ধরা।
বাকেরগঞ্জের সাংবাদিক সমাজে তিনি ছিলেন এক অভিভাবকসুলভ ব্যক্তিত্ব। নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের কাছে তিনি ছিলেন পথপ্রদর্শক, অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার এবং সাহসের উৎস। তাঁর সাথে কাজ করা সহকর্মীরা বলেন, “তিনি কখনো কাউকে ছোট করে দেখেননি, বরং সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন।” তাঁর এই সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ ও মানবিক গুণাবলী তাঁকে সকলের হৃদয়ে স্থায়ী স্থান করে দিয়েছে।তাঁর মৃত্যুতে বাকেরগঞ্জের সাংবাদিকদের মধ্যে যেন এক নিঃশব্দ কান্না ছড়িয়ে পড়েছে। এটি কেবল একজন ব্যক্তির চলে যাওয়া নয়—এটি একটি যুগের অবসান, একটি নৈতিক অবস্থানের পতন, একটি সাহসী কণ্ঠের নীরবতা।আজকের এই সময়ে, যখন সাংবাদিকতা নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তখন সাইদুর রহমান শাহীনদের মতো মানুষদের উপস্থিতি ছিল আশার আলো। তাঁর জীবনের সংগ্রাম, নীতি ও আদর্শ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।তাঁর শূন্যতা হয়তো কখনো পূরণ হবে না, তবে তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শ, সততা এবং মানবিকতা সাংবাদিক সমাজকে দীর্ঘদিন পথ দেখাবে—এই প্রত্যাশাই রইলো।আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন। আমিন।

Spread the love