Dhaka ০৮:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উপকূলের পরিবেশ পুনরুদ্ধারে শ্যামনগরে ১০ লাখ বীজ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন ডি.বি. ইউনাইটেড হাইস্কুলে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ, এমপি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেককে সংবর্ধনা শ্যামনগরে চৌকিদার প্যারেড পরিদর্শনে পুলিশ সুপার, অপরাধ দমনে তৎপরতার নির্দেশ সাতক্ষীরায় বিজিবির মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠান, উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার আর্থ জার্নালিজম নেটওয়ার্কের ফেলোশিপ পাওয়ায় আহসান রাজীবকে সাংবাদিক কেন্দ্রের অভিনন্দন কাউখালীতে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে উপজেলা পর্যায়ের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শুরু কাউখালীতে জমিজমা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৮ সাতক্ষীরায় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক বিশেষ সভা সাতক্ষীরায় সাংবাদিকদের সঙ্গে নবাগত খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির মতবিনিময় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে রোগী কল্যাণ সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

কাউখালীতে সবজির বাজারে আগুন, নিত্যপণ্য কিনতে হিমশিম নিম্ন ও মধ্যবিত্ত

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৩৪:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
  • ৮ Time View

 

কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:

 

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে হু হু করে বেড়েছে সবজির দাম। আগে থেকেই মাছ ও মাংসের উচ্চমূল্যে চাপে থাকা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শেষ ভরসা ছিল শাক-সবজি। কিন্তু বর্তমানে প্রায় সব ধরনের সবজির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

 

সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ ও উত্তর বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি সবজিই স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ২৮০ টাকা, করলা ১১০ টাকা, বরবটি ১২০ টাকা, টমেটো ১৭০ টাকা, গাজর ১৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৮০ টাকা, কাকরোল ৭০ টাকা, শসা ৭০ টাকা, কচুর মুখি (ঘাটি) ৭০ টাকা, রেহা ৭০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৬০ টাকা এবং মুলা ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া আকারভেদে একটি লাউ ও চাল কুমড়া ৭০ থেকে ২০০ টাকা এবং ছোট আকারের লাউশাকের একটি আঁটি ৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়।

 

দক্ষিণ বাজারে বাজার করতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল হক বলেন, “মাছ-মাংসের বাজারে তো আগেই হাত দেওয়া যেত না। ভেবেছিলাম সবজি খেয়ে দিন পার করব। কিন্তু এখন শাক-সবজির যে দাম, তাতে পরিবার নিয়ে চলাই কঠিন হয়ে পড়েছে। এক কেজি কাঁচা মরিচ ৩০০ টাকার কাছাকাছি আর করলা ১২০ টাকা হলে সাধারণ মানুষ কী খাবে? নিয়মিত বাজার তদারকি না থাকায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম নিচ্ছেন।”

 

সবজির মূল্যবৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে দক্ষিণ বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. কাবুল হোসেন বলেন, “আমরাও বেশি দামে কিনে এনে কম দামে বিক্রি করতে পারি না। টানা বর্ষার কারণে আড়তে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দামও কমে আসবে বলে আশা করছি।”

 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সোমা রানী দাস জানান, চলতি বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে স্থানীয়ভাবে সবজির উৎপাদন কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। ফলে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। তিনি বলেন, কৃষকদের ক্ষতি কমিয়ে দ্রুত নতুন মৌসুমের সবজি চাষে উৎসাহিত করতে মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। খুব শিগগিরই উৎপাদন ও সরবরাহ স্বাভাবিক হলে বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

 

বাজার নিয়ন্ত্রণ ও সিন্ডিকেট প্রতিরোধে প্রশাসনের পদক্ষেপ সম্পর্কে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “বর্ষা বা অন্য কোনো অজুহাতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রির সুযোগ নেই। অসাধু ব্যবসায়ী বা কোনো সিন্ডিকেট যাতে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। খুব শিগগিরই দক্ষিণ বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে নিয়মিত বাজার মনিটরিং এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হবে।”

 

নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি ও বাজার তদারকির মাধ্যমে দ্রুত সবজির দাম সহনীয় পর্যায়ে ফিরিয়ে আনা হবে।

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

উপকূলের পরিবেশ পুনরুদ্ধারে শ্যামনগরে ১০ লাখ বীজ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

কাউখালীতে সবজির বাজারে আগুন, নিত্যপণ্য কিনতে হিমশিম নিম্ন ও মধ্যবিত্ত

Update Time : ০২:৩৪:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

 

কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:

 

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে হু হু করে বেড়েছে সবজির দাম। আগে থেকেই মাছ ও মাংসের উচ্চমূল্যে চাপে থাকা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শেষ ভরসা ছিল শাক-সবজি। কিন্তু বর্তমানে প্রায় সব ধরনের সবজির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

 

সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ ও উত্তর বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি সবজিই স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ২৮০ টাকা, করলা ১১০ টাকা, বরবটি ১২০ টাকা, টমেটো ১৭০ টাকা, গাজর ১৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৮০ টাকা, কাকরোল ৭০ টাকা, শসা ৭০ টাকা, কচুর মুখি (ঘাটি) ৭০ টাকা, রেহা ৭০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৬০ টাকা এবং মুলা ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া আকারভেদে একটি লাউ ও চাল কুমড়া ৭০ থেকে ২০০ টাকা এবং ছোট আকারের লাউশাকের একটি আঁটি ৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়।

 

দক্ষিণ বাজারে বাজার করতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল হক বলেন, “মাছ-মাংসের বাজারে তো আগেই হাত দেওয়া যেত না। ভেবেছিলাম সবজি খেয়ে দিন পার করব। কিন্তু এখন শাক-সবজির যে দাম, তাতে পরিবার নিয়ে চলাই কঠিন হয়ে পড়েছে। এক কেজি কাঁচা মরিচ ৩০০ টাকার কাছাকাছি আর করলা ১২০ টাকা হলে সাধারণ মানুষ কী খাবে? নিয়মিত বাজার তদারকি না থাকায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম নিচ্ছেন।”

 

সবজির মূল্যবৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে দক্ষিণ বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. কাবুল হোসেন বলেন, “আমরাও বেশি দামে কিনে এনে কম দামে বিক্রি করতে পারি না। টানা বর্ষার কারণে আড়তে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দামও কমে আসবে বলে আশা করছি।”

 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সোমা রানী দাস জানান, চলতি বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে স্থানীয়ভাবে সবজির উৎপাদন কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। ফলে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। তিনি বলেন, কৃষকদের ক্ষতি কমিয়ে দ্রুত নতুন মৌসুমের সবজি চাষে উৎসাহিত করতে মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। খুব শিগগিরই উৎপাদন ও সরবরাহ স্বাভাবিক হলে বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

 

বাজার নিয়ন্ত্রণ ও সিন্ডিকেট প্রতিরোধে প্রশাসনের পদক্ষেপ সম্পর্কে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “বর্ষা বা অন্য কোনো অজুহাতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রির সুযোগ নেই। অসাধু ব্যবসায়ী বা কোনো সিন্ডিকেট যাতে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। খুব শিগগিরই দক্ষিণ বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে নিয়মিত বাজার মনিটরিং এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হবে।”

 

নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি ও বাজার তদারকির মাধ্যমে দ্রুত সবজির দাম সহনীয় পর্যায়ে ফিরিয়ে আনা হবে।

Spread the love