
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক তরুণীর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) রাতে ভিডিওটি ভাইরাল হলে তা নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
ভিডিওটি প্রকাশের পর মঙ্গলবার সকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে গাজী নজরুল ইসলাম ওই তরুণীকে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন। পোস্টে তিনি বলেন, চলতি বছরের ১৭ জুন পারিবারিকভাবে এবং তাঁর প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে ওই নারীর বাবার বাড়িতে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। তাই তাঁদের বিরুদ্ধে প্রচারিত বিভিন্ন তথ্যকে তিনি ‘অপপ্রচার’ ও ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে ষড়যন্ত্র ও মানহানির অভিযোগ এনে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
এর আগে সোমবার রাতে ‘প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর’ নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, ভিডিওতে থাকা তরুণী সম্প্রতি একটি চাকরির বিষয়ে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এ-সংক্রান্ত একটি জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে ২২ জুন তারিখে সংসদ সদস্যের সুপারিশের স্বাক্ষর রয়েছে বলে দেখা যায়। তবে এ নথির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ভিডিওটি প্রকাশের পর সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের মিডিয়া সেল থেকে প্রথমে দাবি করা হয়, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি। তবে একাধিক ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, তাদের অনুসন্ধানে ভিডিওটিতে এআই-নির্ভর কারসাজি বা সম্পাদনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সিসিটিভি ফুটেজের টাইমস্ট্যাম্প অনুসারে ভিডিওটি ২০২৩ সালের ১০ জুলাই ধারণ করা হয়েছিল। তবে ভিডিওটি কোথায় ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুর রহমান বলেন, সংসদ সদস্য ইতোমধ্যে ওই নারীকে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। এ বিষয়ে তাঁর আর কোনো মন্তব্য নেই।
প্রতিক্রিয়া জানতে গাজী নজরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে তিনি নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।
সম্পাদনা-সংক্রান্ত পরামর্শ: এই প্রতিবেদন প্রকাশের আগে ভিডিওটির বিষয়ে যে “একাধিক ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান” উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের নাম (যেমন—রিউমর স্ক্যানার বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান) এবং তথ্যের সূত্র যুক্ত করলে প্রতিবেদনটি আরও গ্রহণযোগ্য ও পেশাদার হবে। এছাড়া তারিখ (সোমবার/মঙ্গলবার) প্রকাশের দিনের সঙ্গে মিলিয়ে একবার যাচাই করে নেওয়াও উচিত।
Reporter Name 


















