
নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি ;
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার আতা গ্রামের আতা বহুমুখী সমবায় সমিতির মালিক উত্তম মিস্ত্রির বিরুদ্ধে গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কয়েকদিন আগে বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে তিনি ভারতে চলে গেছেন এবং বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন। তবে এ তথ্যের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় সমিতির শত শত গ্রাহকের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সমিতির মাধ্যমে বিভিন্ন গ্রাহকের কাছ থেকে সঞ্চয় ও আমানত সংগ্রহ করা হতো। কিন্তু হঠাৎ করেই সমিতির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমানতকারীরা তাদের জমাকৃত অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
এদিকে পাওনা টাকা আদায়ের দাবিতে বরিশালের বানারীপাড়ার বাসিন্দা রিপন মন্ডল বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে। মামলায় উত্তম মিস্ত্রি, রিপন মন্ডল ও স্বপন মন্ডলকে আসামি করা হয়েছে।
সমিতির এক গ্রাহক নেছারাবাদের চাঁদকাঠী এলাকার শেফালী রানী মন্ডল অভিযোগ করেন, কিডনি রোগে আক্রান্ত অবস্থায় তিনি সমিতি থেকে পাঁচ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে কিস্তি, ডিপিএস ও সুদ বাবদ তিন লাখ ৯৯ হাজার টাকারও বেশি পরিশোধ করলেও তার বিরুদ্ধে পাঁচ লাখ টাকা ঋণ দাবিতে আদালতে মামলা করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
শেফালী রানী মন্ডল আরো বলেন, “অসুস্থ অবস্থায় নেওয়া ঋণের টাকা পরিশোধ করার পরও আমার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এতে আমি আর্থিক ও মানসিকভাবে চরম বিপাকে পড়েছি।”
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সমিতির কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীরও এ ঘটনায় দায় রয়েছে। তাদের অনেকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যাচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, কেউ কেউ মোবাইল ফোন বন্ধ রেখেছেন।
একাধিক গ্রাহক জানিয়েছেন, তারা সমিতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একই সঙ্গে সমিতির আর্থিক লেনদেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকা এবং প্রতিষ্ঠানের সম্পদের হিসাব তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে উত্তম মিস্ত্রি বা সমিতির সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে নেছারাবাদ উপজেলা সমবায় অফিসের একটি সূত্র জানায়, প্রায় দুই বছর আগে আতা বহুমুখী সমবায় সমিতির নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। তবে উত্তম মিস্ত্রি দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন—এমন কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ আনুষ্ঠানিক অভিযোগও করেননি। এদিকে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
Reporter Name 






















