Dhaka ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডেঙ্গু রোগীতে উপচে পড়ছে কাউখালী হাসপাতাল, বাড়ছে উদ্বেগ সাতক্ষীরায় ‘গরীবের মেহমানখানা’ কর্মসূচিতে অসহায় মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ কালিগঞ্জে সেভেন আপের বোতলে রাখা ঘাসমারা ওষুধ পান করে ব্যবসায়ীর মৃত্যু সদর সার্কেল অফিসের বার্ষিক পরিদর্শন করলেন সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার কাউখালীতে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান, দুই প্রতিষ্ঠানকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা বানারীপাড়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ, ফ্যাক্ট চেকিং ও গণমাধ্যমকর্মীদের ভূমিকা শীর্ষক মতবিনিময় সভা রামপালে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি বানারীপাড়ায় ৯ বছরের শিশুর মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ সাতক্ষীরায় প্রাক্তন নিবন্ধিত শিশু ও যুবদের নিয়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরার রসুলপুরে অসহায় ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ

উপকূলের পরিবেশ পুনরুদ্ধারে শ্যামনগরে ১০ লাখ বীজ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:০৪:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
  • ৪১ Time View

 

 

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:

 

সরকারের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে উপকূলের পরিবেশ পুনরুদ্ধার ও জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১০ লাখ বীজ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের আকাশলীনা ইকো ট্যুরিজম সেন্টারের সামনে এ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা স্বেচ্ছাসেবী অ্যাসোসিয়েশনের ২৫টি যুব সংগঠন, উপজেলার ১২৮টি সংগঠিত জনসংগঠন, সাতক্ষীরা গ্রীণ কোয়ালিশন এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিকের যৌথ উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়।

 

জাতীয় কৃষি পদকপ্রাপ্ত কৃষাণী অল্পনা রানী মিস্ত্রির সভাপতিত্বে এবং বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. শাহীন ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ শামসুজ্জাহান কণক।

 

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা গ্রীণ কোয়ালিশনের উপদেষ্টা কল্যাণ ব্যানার্জী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম. বেলাল হোসাইন, শ্যামনগর উপজেলা গ্রীণ কোয়ালিশনের সভাপতি কৃষ্ণানন্দ মুখার্জী, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাইফুদ্দীন সিদ্দীক, যুব নারী প্রতিনিধি অনন্যা রাজ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, পরিবেশকর্মী, শিক্ষক, সাংবাদিক, গবেষক, কৃষক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন যুব সংগঠনের সদস্যরা।

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ইউএনও মিজ শামসুজ্জাহান কণক বলেন, সরকারের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উপকূলীয় শ্যামনগরে ১০ লাখ বীজ রোপণের এই উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয়। তিনি বলেন, এ কর্মসূচি উপকূলের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে উদ্যোগটি সফল করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। পরে তিনি স্থানীয় বিভিন্ন প্রজাতির বীজ এবং একটি বটগাছের চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

 

সাতক্ষীরা গ্রীণ কোয়ালিশনের উপদেষ্টা কল্যাণ ব্যানার্জী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততার বিস্তার, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষয় বাড়ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্থানীয় প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের ১০ লাখ বীজ রোপণের উদ্যোগ জলবায়ু অভিযোজনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

 

বীজ সহায়তাকারী রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল বলেন, দেশীয় প্রজাতির এই বিপুল পরিমাণ বীজ সফলভাবে রোপণ করা গেলে উপকূলজুড়ে সবুজের বিস্তার ঘটবে। একই সঙ্গে পাখি ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর জন্য নতুন আবাসস্থল সৃষ্টি হবে।

 

আয়োজকদের তথ্যমতে, ইতোমধ্যে জাম, কাঁঠাল, নিম, তেঁতুল, তাল, খেজুর, মেহগনি, দেবদারু, আশফল, বট, কাঠবাদাম, পরশপিপুল ও অর্জুনসহ স্থানীয় বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় সাত লাখ বীজ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হয়েছে। পাশাপাশি শ্যামনগর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে ১১ সদস্যবিশিষ্ট বীজ রোপণ কমিটি গঠন করা হয়েছে। উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বীজ রোপণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা নির্ধারিত ১০ লাখ বীজ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

 

বক্তারা বলেন, একটি বীজই ভবিষ্যতের একটি পরিপূর্ণ বৃক্ষের ভিত্তি। একটি গাছ শুধু সবুজের প্রতীক নয়; এটি কার্বন শোষণ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, মাটি ও নদীতীর রক্ষা, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল সৃষ্টি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা হিসেবে কাজ করে।

 

অনুষ্ঠান থেকে উপকূলের পরিবেশ পুনরুদ্ধার এবং জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এই বৃক্ষ ও বীজ রোপণ কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ডেঙ্গু রোগীতে উপচে পড়ছে কাউখালী হাসপাতাল, বাড়ছে উদ্বেগ

উপকূলের পরিবেশ পুনরুদ্ধারে শ্যামনগরে ১০ লাখ বীজ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

Update Time : ০৬:০৪:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

 

 

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:

 

সরকারের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে উপকূলের পরিবেশ পুনরুদ্ধার ও জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১০ লাখ বীজ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের আকাশলীনা ইকো ট্যুরিজম সেন্টারের সামনে এ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা স্বেচ্ছাসেবী অ্যাসোসিয়েশনের ২৫টি যুব সংগঠন, উপজেলার ১২৮টি সংগঠিত জনসংগঠন, সাতক্ষীরা গ্রীণ কোয়ালিশন এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিকের যৌথ উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়।

 

জাতীয় কৃষি পদকপ্রাপ্ত কৃষাণী অল্পনা রানী মিস্ত্রির সভাপতিত্বে এবং বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. শাহীন ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ শামসুজ্জাহান কণক।

 

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা গ্রীণ কোয়ালিশনের উপদেষ্টা কল্যাণ ব্যানার্জী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম. বেলাল হোসাইন, শ্যামনগর উপজেলা গ্রীণ কোয়ালিশনের সভাপতি কৃষ্ণানন্দ মুখার্জী, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাইফুদ্দীন সিদ্দীক, যুব নারী প্রতিনিধি অনন্যা রাজ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, পরিবেশকর্মী, শিক্ষক, সাংবাদিক, গবেষক, কৃষক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন যুব সংগঠনের সদস্যরা।

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ইউএনও মিজ শামসুজ্জাহান কণক বলেন, সরকারের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উপকূলীয় শ্যামনগরে ১০ লাখ বীজ রোপণের এই উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয়। তিনি বলেন, এ কর্মসূচি উপকূলের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে উদ্যোগটি সফল করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। পরে তিনি স্থানীয় বিভিন্ন প্রজাতির বীজ এবং একটি বটগাছের চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

 

সাতক্ষীরা গ্রীণ কোয়ালিশনের উপদেষ্টা কল্যাণ ব্যানার্জী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততার বিস্তার, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষয় বাড়ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্থানীয় প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের ১০ লাখ বীজ রোপণের উদ্যোগ জলবায়ু অভিযোজনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

 

বীজ সহায়তাকারী রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল বলেন, দেশীয় প্রজাতির এই বিপুল পরিমাণ বীজ সফলভাবে রোপণ করা গেলে উপকূলজুড়ে সবুজের বিস্তার ঘটবে। একই সঙ্গে পাখি ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর জন্য নতুন আবাসস্থল সৃষ্টি হবে।

 

আয়োজকদের তথ্যমতে, ইতোমধ্যে জাম, কাঁঠাল, নিম, তেঁতুল, তাল, খেজুর, মেহগনি, দেবদারু, আশফল, বট, কাঠবাদাম, পরশপিপুল ও অর্জুনসহ স্থানীয় বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় সাত লাখ বীজ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হয়েছে। পাশাপাশি শ্যামনগর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে ১১ সদস্যবিশিষ্ট বীজ রোপণ কমিটি গঠন করা হয়েছে। উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বীজ রোপণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা নির্ধারিত ১০ লাখ বীজ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

 

বক্তারা বলেন, একটি বীজই ভবিষ্যতের একটি পরিপূর্ণ বৃক্ষের ভিত্তি। একটি গাছ শুধু সবুজের প্রতীক নয়; এটি কার্বন শোষণ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, মাটি ও নদীতীর রক্ষা, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল সৃষ্টি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা হিসেবে কাজ করে।

 

অনুষ্ঠান থেকে উপকূলের পরিবেশ পুনরুদ্ধার এবং জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এই বৃক্ষ ও বীজ রোপণ কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

Spread the love