
কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার শিয়ালকাঠী ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম জোলাগাতি গ্রামের মালবাড়ি জামে মসজিদের সামনে জোলাগাতি খালের ওপর নির্মিত একটি জরাজীর্ণ বাঁশের সাঁকোই এখন দুই উপজেলার মানুষের একমাত্র ভরসা। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ সাঁকো পারাপার করছেন শতাধিক মানুষ। একই সঙ্গে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীরাও বাধ্য হয়ে এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো ব্যবহার করছেন। দীর্ঘদিন ধরে একটি পাকা সেতুর দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আসলেও এখনো কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাঁকোটি কাউখালী উপজেলার শিয়ালকাঠী ইউনিয়নের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী ভান্ডারিয়া উপজেলার ভিটাবাড়িয়া গ্রামকে সংযুক্ত করেছে। এ পথ ব্যবহার করে সরদারহাট হয়ে অল্প সময়ে ভান্ডারিয়ায় যাতায়াত করা সম্ভব হওয়ায় প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এই পথেই চলাচল করেন।
তবে বর্ষা মৌসুমে খালের পানি বৃদ্ধি পেলে বাঁশের সাঁকোটি প্রায় তলিয়ে যায়। তখন পারাপার আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এতে শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াত ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে সাধারণ মানুষকেও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
এলাকাবাসীর দাবি, দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ এই স্থানে একটি পাকা সেতু নির্মাণ করা হলে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে এবং এ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি আসবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন মঞ্জুরের কাছে একাধিকবার সেতু নির্মাণের দাবি জানানো হলেও বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাই বর্তমান পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুরের হস্তক্ষেপে দ্রুত একটি পাকা সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এইচ এম দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, “বিগত সরকারের আমলে উন্নয়নের নামে লুটপাট ও দুর্নীতি হয়েছে, কিন্তু মানুষের প্রকৃত প্রয়োজনের উন্নয়ন হয়নি। যুগের পর যুগ এলাকাবাসী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই বাঁশের সাঁকো পারাপার করছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি বিষয়টি মাননীয় সংসদ সদস্য ও গৃহায়ন-গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুরের কাছে তুলে ধরব এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”
শিয়ালকাঠী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান মিন্টু বলেন, “এটি শুধু একটি সাঁকো নয়, এলাকার মানুষের জীবন-মরণের প্রশ্ন। প্রতিদিন শিশু, শিক্ষার্থী, নারী ও বৃদ্ধরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। দ্রুত একটি পাকা সেতু নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।”
শিয়ালকাঠী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “এই সাঁকোটি দুই উপজেলার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্ষা মৌসুমে চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিলে হাজারো মানুষের দুর্ভোগ দূর হবে।”
এ বিষয়ে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। সরেজমিনে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হবে। সেতু নির্মাণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হবে।”
Reporter Name 






















