
কাউখালী প্রতিনিধি:
পিরোজপুরের কাউখালীতে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কিশোরীদের অধিকার সম্পর্কে উদ্বুদ্ধ করতে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এক সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে উপজেলার পূর্ব আমরাজুরী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কাউখালী সাংগঠনিক জেলা শাখার উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়। এতে বিদ্যালয়ের নবম ও দশম শ্রেণির ছাত্রীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কাউখালী সাংগঠনিক জেলা শাখার সভাপতি সুনন্দা সমাদ্দারের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আইনুল নেহার, মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাহিদা হক, নারী নেত্রী চায়না সমাদ্দার, মৌমিতা সাহা, নিতু মণ্ডল এবং শিক্ষার্থী প্রতিনিধি হুমায়মা ও ফাতেমা।
বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহ একটি গুরুতর সামাজিক ব্যাধি, যা কিশোরীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং স্বাভাবিক মানসিক-শারীরিক বিকাশের পথে বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এ সমস্যা প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন এবং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা এবং তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
সভাপতির বক্তব্যে সুনন্দা সমাদ্দার বলেন, “বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে শুধু আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়; এর বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলাও জরুরি। প্রতিটি মেয়েকে তার স্বপ্ন পূরণের সুযোগ দিতে হবে। ১৮ বছরের আগে কোনো মেয়ের বিয়ে নয়—এই বার্তাটি সমাজের প্রতিটি পরিবারে পৌঁছে দিতে হবে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এ লক্ষ্যেই নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে।”
সভায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে তারা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে পেরেছেন। তারা লেখাপড়া শেষ করে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চান এবং ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে বিয়ে করবেন না বলে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি পরিবার, বন্ধু ও সমাজের অন্যান্য সদস্যদেরও বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে সচেতন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের শেষে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা শপথ গ্রহণ করেন যে, তারা ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হবেন না এবং নিজেদের পরিবার ও সমাজে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতা গড়ে তুলতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন।
সভায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের নেতৃবৃন্দ বাল্যবিবাহমুক্ত সমাজ গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
Reporter Name 






















