Dhaka ০৯:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাতক্ষীরা পুকুরে ডুবে একই বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু সাতক্ষীরায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি দুই বছরেও কলেজে আসেননি সভাপতি, কাগজে-কলমে চলছে দায়িত্ব পালন! কাউখালীতে চরম নেটওয়ার্ক ভোগান্তি: সরকারি টেলিটক সেবা নিশ্চিত করার দাবি গ্রাহকদের সাতক্ষীরায় প্রবীণ ভিক্ষুককে পুনর্বাসনে ছাগল ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ সাতক্ষীরা সদর থানার দেয়ালেই অবৈধ স্থাপনার রাজত্ব! জনদূর্ভোগ চরমে সাতক্ষীরাকে মাদকমুক্ত করতে কঠোর অবস্থান, নতুন ২৩ আদালতে দ্রুত জনবল নিয়োগের আশ্বাস কলারোয়ায় খাস জমির পজেশন বিক্রির অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তদন্ত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, তদন্তে মিলেছে প্রাথমিক সত্যতা সাতক্ষীরার বিচার বিভাগের সমস্যা দ্রুত সমাধান করা হবে: আইনমন্ত্রী সাতক্ষীরায় ট্রি অব লাইফের উদ্যোগে ৩ হাজার পানিবন্দি ও অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ

কাউখালীতে পল্লী বিদ্যুতের ‘ভুতুড়ে বিল’ নিয়ে গ্রাহকদের ক্ষোভ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:১২:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
  • ৮০ Time View

কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের অতিরিক্ত বা কথিত ‘ভুতুড়ে বিল’ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। স্বাভাবিক বিদ্যুৎ ব্যবহারের তুলনায় অস্বাভাবিক হারে বিল বৃদ্ধি এবং বিলের কপি যথাসময়ে গ্রাহকদের হাতে না পৌঁছানোর অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয় একাধিক গ্রাহকের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই তারা বিদ্যুৎ বিল সংক্রান্ত নানা ভোগান্তির মুখোমুখি হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে বিলের কাগজ সরাসরি গ্রাহকের কাছে পৌঁছে না দিয়ে পাশের দোকান কিংবা প্রতিবেশীর বাড়িতে রেখে যাওয়া হয়। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিলের তথ্য জানতে না পারায় বিল পরিশোধে বিলম্ব ঘটে এবং অতিরিক্ত সারচার্জ গুনতে হয়।

উপজেলার কচুয়াকাঠী গ্রামের বাসিন্দা ফরিদা বেগম বলেন, “আমাদের সাধারণত মাসে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকার মধ্যে বিদ্যুৎ বিল আসে। কিন্তু জুন মাসে বিল এসেছে ২ হাজার ১৫০ টাকা। হঠাৎ এত বেশি বিল কেন এসেছে, তা বুঝতে পারছি না।”

একই ধরনের অভিযোগ করেছেন আরও কয়েকজন গ্রাহক। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। অনেক সময় মিটার রিডিং যথাযথভাবে সংগ্রহ না করে অনুমাননির্ভর বিল প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে তাদের সন্দেহ। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

কাউখালী সদর এলাকার বাসিন্দা মাসুম বিল্লাহ বলেন, “অনেক সময় মাস শেষ হওয়ার পর বিল হাতে পাই। এতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ করতে সমস্যা হয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে মিটার না দেখেই অতিরিক্ত বিল করা হচ্ছে বলে মনে হয়।”

গ্রাহকরা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, সঠিক মিটার রিডিংয়ের ভিত্তিতে বিল প্রস্তুত নিশ্চিত করতে হবে এবং বিল বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ অযৌক্তিক ভোগান্তির শিকার না হন।

তবে অভিযোগের বিষয়ে কাউখালী পল্লী বিদ্যুতের ইনচার্জ কামাল হোসেন বলেন, “গ্রাহকদের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। কোনো গ্রাহকের বিল নিয়ে আপত্তি থাকলে তিনি অফিসে এসে লিখিত অভিযোগ করতে পারেন। অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মিটার পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদি কোনো ক্ষেত্রে ভুল বিল হয়ে থাকে, তাহলে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “মিটার রিডিং সংগ্রহ ও বিল বিতরণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে ভুক্তভোগী গ্রাহকদের প্রত্যাশা, দ্রুত অভিযোগগুলো যাচাই করে প্রকৃত সমস্যার সমাধান করা হবে এবং ভবিষ্যতে সঠিক ও সময়মতো বিল সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সাতক্ষীরা পুকুরে ডুবে একই বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু

কাউখালীতে পল্লী বিদ্যুতের ‘ভুতুড়ে বিল’ নিয়ে গ্রাহকদের ক্ষোভ

Update Time : ০৫:১২:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের অতিরিক্ত বা কথিত ‘ভুতুড়ে বিল’ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। স্বাভাবিক বিদ্যুৎ ব্যবহারের তুলনায় অস্বাভাবিক হারে বিল বৃদ্ধি এবং বিলের কপি যথাসময়ে গ্রাহকদের হাতে না পৌঁছানোর অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয় একাধিক গ্রাহকের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই তারা বিদ্যুৎ বিল সংক্রান্ত নানা ভোগান্তির মুখোমুখি হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে বিলের কাগজ সরাসরি গ্রাহকের কাছে পৌঁছে না দিয়ে পাশের দোকান কিংবা প্রতিবেশীর বাড়িতে রেখে যাওয়া হয়। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিলের তথ্য জানতে না পারায় বিল পরিশোধে বিলম্ব ঘটে এবং অতিরিক্ত সারচার্জ গুনতে হয়।

উপজেলার কচুয়াকাঠী গ্রামের বাসিন্দা ফরিদা বেগম বলেন, “আমাদের সাধারণত মাসে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকার মধ্যে বিদ্যুৎ বিল আসে। কিন্তু জুন মাসে বিল এসেছে ২ হাজার ১৫০ টাকা। হঠাৎ এত বেশি বিল কেন এসেছে, তা বুঝতে পারছি না।”

একই ধরনের অভিযোগ করেছেন আরও কয়েকজন গ্রাহক। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। অনেক সময় মিটার রিডিং যথাযথভাবে সংগ্রহ না করে অনুমাননির্ভর বিল প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে তাদের সন্দেহ। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

কাউখালী সদর এলাকার বাসিন্দা মাসুম বিল্লাহ বলেন, “অনেক সময় মাস শেষ হওয়ার পর বিল হাতে পাই। এতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ করতে সমস্যা হয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে মিটার না দেখেই অতিরিক্ত বিল করা হচ্ছে বলে মনে হয়।”

গ্রাহকরা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, সঠিক মিটার রিডিংয়ের ভিত্তিতে বিল প্রস্তুত নিশ্চিত করতে হবে এবং বিল বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ অযৌক্তিক ভোগান্তির শিকার না হন।

তবে অভিযোগের বিষয়ে কাউখালী পল্লী বিদ্যুতের ইনচার্জ কামাল হোসেন বলেন, “গ্রাহকদের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। কোনো গ্রাহকের বিল নিয়ে আপত্তি থাকলে তিনি অফিসে এসে লিখিত অভিযোগ করতে পারেন। অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মিটার পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদি কোনো ক্ষেত্রে ভুল বিল হয়ে থাকে, তাহলে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “মিটার রিডিং সংগ্রহ ও বিল বিতরণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে ভুক্তভোগী গ্রাহকদের প্রত্যাশা, দ্রুত অভিযোগগুলো যাচাই করে প্রকৃত সমস্যার সমাধান করা হবে এবং ভবিষ্যতে সঠিক ও সময়মতো বিল সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।

Spread the love