Dhaka ০৪:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাতক্ষীরা পুকুরে ডুবে একই বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু সাতক্ষীরায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি দুই বছরেও কলেজে আসেননি সভাপতি, কাগজে-কলমে চলছে দায়িত্ব পালন! কাউখালীতে চরম নেটওয়ার্ক ভোগান্তি: সরকারি টেলিটক সেবা নিশ্চিত করার দাবি গ্রাহকদের সাতক্ষীরায় প্রবীণ ভিক্ষুককে পুনর্বাসনে ছাগল ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ সাতক্ষীরা সদর থানার দেয়ালেই অবৈধ স্থাপনার রাজত্ব! জনদূর্ভোগ চরমে সাতক্ষীরাকে মাদকমুক্ত করতে কঠোর অবস্থান, নতুন ২৩ আদালতে দ্রুত জনবল নিয়োগের আশ্বাস কলারোয়ায় খাস জমির পজেশন বিক্রির অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তদন্ত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, তদন্তে মিলেছে প্রাথমিক সত্যতা সাতক্ষীরার বিচার বিভাগের সমস্যা দ্রুত সমাধান করা হবে: আইনমন্ত্রী সাতক্ষীরায় ট্রি অব লাইফের উদ্যোগে ৩ হাজার পানিবন্দি ও অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ

কাউখালীতে দুই কিলোমিটার কাঁচা সড়ক চলাচলের অযোগ্য, ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো ব্যবহার করছে শিক্ষার্থীরা

 

কাউখালী প্রতিনিধি ;

 

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার শিয়ালকাঠি ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের সাউদার খাল সংলগ্ন এলাকা থেকে বড় শাপলাজা পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার কাঁচা সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। রাস্তার বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাওয়ায় এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তার উপরে অস্থায়ী সাঁকো ব্যবহার করে যাতায়াত করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃষ্টি ও জোয়ারের সময় রাস্তার অধিকাংশ অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে শাপলাজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জয়তুনিয়া দাখিল মাদ্রাসা, একটি এতিমখানা, একটি কওমি মাদ্রাসাসহ অন্তত পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী প্রতিদিন এই রাস্তা ব্যবহার করে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে।এছাড়া এলাকার মানুষ এই সড়ক দিয়ে মোল্লারহাট, পাঙ্গাসিয়া বাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যাতায়াত করে থাকেন। রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

স্থানীয় শিক্ষার্থী তামান্না বলেন, প্রতিদিন স্কুলে যেতে সাঁকো পার হতে হয়। অনেক সময় পা পিছলে পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে। দ্রুত রাস্তার সংস্কার প্রয়োজন। আরেক শিক্ষার্থী মুসা বলেন, বর্ষার সময় রাস্তা পানির নিচে চলে যায়। তখন সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে খুব ভয় লাগে। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা মীর মিরাজ বলেন, বহু বছর আগে সাবেক ইউপি সদস্য নূরে আলম মীর এই রাস্তার সংস্কার করেছিলেন। এরপর দীর্ঘদিন ধরে আর কোনো উন্নয়ন কাজ হয়নি। এলাকাবাসী বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য এনায়েত হোসেন বলেন, বরাদ্দ পেলে আমরা দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা করব। শিয়ালকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। বরাদ্দ পাওয়া গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রাস্তার সংস্কার কাজ করা হবে।

কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, রাস্তার বেহাল অবস্থার বিষয়টি আমার নজরে আনা হলে সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে সরেজমিনে তদন্ত করা হবে। শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে দ্রুত কীভাবে ব্যবস্থা নেওয়া যায় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। জনদুর্ভোগ নিরসনে উপজেলা প্রশাসন সবসময় আন্তরিক।

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সাতক্ষীরা পুকুরে ডুবে একই বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু

কাউখালীতে দুই কিলোমিটার কাঁচা সড়ক চলাচলের অযোগ্য, ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো ব্যবহার করছে শিক্ষার্থীরা

Update Time : ০২:৫৫:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

 

কাউখালী প্রতিনিধি ;

 

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার শিয়ালকাঠি ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের সাউদার খাল সংলগ্ন এলাকা থেকে বড় শাপলাজা পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার কাঁচা সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। রাস্তার বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাওয়ায় এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তার উপরে অস্থায়ী সাঁকো ব্যবহার করে যাতায়াত করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃষ্টি ও জোয়ারের সময় রাস্তার অধিকাংশ অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে শাপলাজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জয়তুনিয়া দাখিল মাদ্রাসা, একটি এতিমখানা, একটি কওমি মাদ্রাসাসহ অন্তত পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী প্রতিদিন এই রাস্তা ব্যবহার করে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে।এছাড়া এলাকার মানুষ এই সড়ক দিয়ে মোল্লারহাট, পাঙ্গাসিয়া বাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যাতায়াত করে থাকেন। রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

স্থানীয় শিক্ষার্থী তামান্না বলেন, প্রতিদিন স্কুলে যেতে সাঁকো পার হতে হয়। অনেক সময় পা পিছলে পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে। দ্রুত রাস্তার সংস্কার প্রয়োজন। আরেক শিক্ষার্থী মুসা বলেন, বর্ষার সময় রাস্তা পানির নিচে চলে যায়। তখন সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে খুব ভয় লাগে। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা মীর মিরাজ বলেন, বহু বছর আগে সাবেক ইউপি সদস্য নূরে আলম মীর এই রাস্তার সংস্কার করেছিলেন। এরপর দীর্ঘদিন ধরে আর কোনো উন্নয়ন কাজ হয়নি। এলাকাবাসী বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য এনায়েত হোসেন বলেন, বরাদ্দ পেলে আমরা দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা করব। শিয়ালকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। বরাদ্দ পাওয়া গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রাস্তার সংস্কার কাজ করা হবে।

কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, রাস্তার বেহাল অবস্থার বিষয়টি আমার নজরে আনা হলে সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে সরেজমিনে তদন্ত করা হবে। শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে দ্রুত কীভাবে ব্যবস্থা নেওয়া যায় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। জনদুর্ভোগ নিরসনে উপজেলা প্রশাসন সবসময় আন্তরিক।

Spread the love