প্রতিনিধি নেছারাবাদ(পিরোজপুর)
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের জিলবাড়ী এলাকায় ওয়ারিশসূত্রে পাওয়া পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে চাচা-ভাতিজির বিরোধ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সম্পত্তিতে থাকা গাছ বিক্রি, জমি দখলের চেষ্টা এবং হুমকির অভিযোগ এনে নেছারাবাদ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন কানিজ ফাতেমা ওরফে ফাল্গুনী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কানিজ ফাতেমার নেছারাবাদের সোনারঘোপ মৌজায় প্রায় ১ একর ৪৭ শতাংশ পৈত্রিক সম্পত্তি রয়েছে। ওই সম্পত্তির রেকর্ড, পর্চা ও খাজনাসহ সকল বৈধ কাগজপত্র তার কাছে রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ফাল্গুনীর অভিযোগ, তার চাচা শরীফ মো. কামরুজ্জামান ও চাচী মোসা. মুর্শিদা ইয়াছমিন দীর্ঘদিন ধরে ওই সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি করে আসছেন। তিনি বরিশালে বসবাস করায় সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে তার সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন। তার দাবি, প্রায় ৩০ বছর ধরে তার পিতার রেখে যাওয়া সম্পত্তির একটি অংশ জোরপূর্বক ভোগদখল করে আসছেন তার চাচা। পূর্বে স্থানীয় সালিশ ও থানার উদ্যোগে সম্পত্তির অংশ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে ওই জমিতে তার বসতঘর, ফলদ ও বনজ গাছপালা রয়েছে এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে তা ভোগদখল করে আসছেন।তাকে ঐ জমি থেকে উচ্ছেদ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, নিজের জমিতে থাকা কিছু দেশীয় গাছ বিক্রির উদ্যোগ নিলে তার চাচা বাধা দেন। এ নিয়ে ২০২০ ও ২০২৫ সালে আদালতে দুটি মামলা হয়। পরবর্তীতে আদালত তার পক্ষে রায় দিলেও গত ৩১ মে তার জমিতে থাকা বিক্রিকৃত কাটা গাছ গোপনে অন্যের কাছে বিক্রি করে সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। বাধা দিতে গেলে তাকে গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কামরুজ্জামান বলেন, “ফাল্গুনীর বয়স যখন দুই বছর, তখন তার বাবা মারা যান। উত্তরাধিকার আইনে তার চাচা, চাচাতো ভাই ও মায়েরও সম্পত্তিতে অংশ রয়েছে। সঠিকভাবে বণ্টন করা হলে সমস্যার সমাধান হবে। আর যে গাছ বিক্রির কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো ফাল্গুনী রোপণ করেনি।”
এ বিষয়ে বলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহীন আলম বলেন, “ফাল্গুনী একটি এতিম মেয়ে। তার বাবার মৃত্যুর পর ওয়ারিশদের প্রাপ্য অংশ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এমনকি তার মায়ের অংশও অন্য জায়গা থেকে দেওয়া হয়েছে। এখন মেয়েটির সঙ্গে যা করা হচ্ছে, তা অন্যায় ও দুঃখজনক।”
নেছারাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ মেহেদি হাসান বলেন, “গাছ বিক্রি ও জমি-সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিনের এ বিরোধের কারণে দুই পরিবারের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। তারা চাচা-ভাতিজির মধ্যে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের শান্তিপূর্ণ ও স্থায়ী সমাধানে সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
Reporter Name 
















