Dhaka ০৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাতক্ষীরা-কলারোয়া সীমান্তে প্রায় ৭ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ তালায় খাঁচায় আটকে গুরুতর আহত বনবিড়ালের বাচ্চা উদ্ধার সাতক্ষীরায় সুপারির বাণিজ্যিক চাষ, বছরে বিক্রি ২২ কোটি টাকার সাতক্ষীরার ছয়ঘরিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল নারীর কাউখালীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২’ এর উদ্বোধন সাতক্ষীরায় বায়তুল হামদ্ জামে মসজিদের ছাদ ঢালাইয়ের উদ্বোধন সাতক্ষীরায় ‘দৈনিক সাতক্ষীরা খবর’-এর যাত্রা শুরু সাতক্ষীরার মানুষের খাদেম হয়ে কাজ করতে চাই: এমপি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক সুন্দরবনে বনদস্যুদের আতঙ্কে জেলেরা, নির্মূলের দাবিতে কয়রায় মানববন্ধন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর আবদুল আল-সাইদ, মিশিগানে জয়ী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী

নেছারাবাদে ডেঙ্গুর প্রকোপ, হাসপাতালের সক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি রোগী ভর্তি

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৪২:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩৭ Time View

 

প্রতিনিধি, নেছারাবাদ (পিরোজপুর):

 

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। ধারণক্ষমতার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। তবে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩৯২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে শুধু গত মাসেই ভর্তি হয়েছেন ১২৮ জন। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ১৪০ থেকে ১৪৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগীকে ফ্লোরেও চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

বর্তমানে মাত্র ১৯ শয্যার অবকাঠামো দিয়ে কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। ফলে রোগীর চাপ সামলাতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বাড়তি চাপের মধ্যে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

ভর্তি রোগীদের একটি বড় অংশ নেছারাবাদ উপজেলার বাসিন্দা হলেও প্রায় ১৪০ জন রোগী এসেছেন পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন উপজেলা ও জেলা থেকে। তুলনামূলক ভালো চিকিৎসাসেবা ও ব্যবস্থাপনার কারণে আশপাশের এলাকার রোগীরাও এ হাসপাতালে আসছেন।

নেছারাবাদে ডেঙ্গু বিস্তারের পেছনে স্থানীয় নার্সারি ও অপরিকল্পিতভাবে ফেলে রাখা ডাবের খোসা অন্যতম কারণ মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নার্সারিগুলোতে গাছের টবে জমে থাকা পরিষ্কার পানি এবং বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকা ডাবের খোসায় পানি জমে এডিস মশার লার্ভা বংশবিস্তার করছে। এ ছাড়া বাড়ির আশপাশে পড়ে থাকা পরিত্যক্ত পাত্র, মগ, থালাবাসন এবং ছাদের খোলা পানির ট্যাংকেও এডিস মশার প্রজননস্থল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে হাসপাতালসহ বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে সচেতনতামূলক সভা ও কর্মশালা করা হচ্ছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও লিফলেট ও ব্যানারের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সচেতন করা হচ্ছে। এ কার্যক্রমে উপজেলা প্রশাসন ও পৌর প্রশাসনও যুক্ত রয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা, কোথাও পানি জমতে না দেওয়া এবং নিয়মিত মশারি ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।

১০০ শয্যার ভবন নির্মাণের উদ্যোগ
হাসপাতালের শয্যা সংকট নিরসনে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর তদারকিতে ১০০ শয্যার নতুন ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। এরই মধ্যে মাটি পরীক্ষার (সয়েল টেস্ট) কাজ শুরু হয়েছে।
এ ছাড়া জরুরি ভিত্তিতে বর্তমান সংকট সামাল দিতে শিগগিরই ২০ শয্যার একটি টিনশেড ভবন চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান।

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সাতক্ষীরা-কলারোয়া সীমান্তে প্রায় ৭ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ

নেছারাবাদে ডেঙ্গুর প্রকোপ, হাসপাতালের সক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি রোগী ভর্তি

Update Time : ১১:৪২:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

প্রতিনিধি, নেছারাবাদ (পিরোজপুর):

 

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। ধারণক্ষমতার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। তবে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩৯২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে শুধু গত মাসেই ভর্তি হয়েছেন ১২৮ জন। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ১৪০ থেকে ১৪৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগীকে ফ্লোরেও চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

বর্তমানে মাত্র ১৯ শয্যার অবকাঠামো দিয়ে কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। ফলে রোগীর চাপ সামলাতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বাড়তি চাপের মধ্যে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

ভর্তি রোগীদের একটি বড় অংশ নেছারাবাদ উপজেলার বাসিন্দা হলেও প্রায় ১৪০ জন রোগী এসেছেন পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন উপজেলা ও জেলা থেকে। তুলনামূলক ভালো চিকিৎসাসেবা ও ব্যবস্থাপনার কারণে আশপাশের এলাকার রোগীরাও এ হাসপাতালে আসছেন।

নেছারাবাদে ডেঙ্গু বিস্তারের পেছনে স্থানীয় নার্সারি ও অপরিকল্পিতভাবে ফেলে রাখা ডাবের খোসা অন্যতম কারণ মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নার্সারিগুলোতে গাছের টবে জমে থাকা পরিষ্কার পানি এবং বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকা ডাবের খোসায় পানি জমে এডিস মশার লার্ভা বংশবিস্তার করছে। এ ছাড়া বাড়ির আশপাশে পড়ে থাকা পরিত্যক্ত পাত্র, মগ, থালাবাসন এবং ছাদের খোলা পানির ট্যাংকেও এডিস মশার প্রজননস্থল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে হাসপাতালসহ বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে সচেতনতামূলক সভা ও কর্মশালা করা হচ্ছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও লিফলেট ও ব্যানারের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সচেতন করা হচ্ছে। এ কার্যক্রমে উপজেলা প্রশাসন ও পৌর প্রশাসনও যুক্ত রয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা, কোথাও পানি জমতে না দেওয়া এবং নিয়মিত মশারি ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।

১০০ শয্যার ভবন নির্মাণের উদ্যোগ
হাসপাতালের শয্যা সংকট নিরসনে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর তদারকিতে ১০০ শয্যার নতুন ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। এরই মধ্যে মাটি পরীক্ষার (সয়েল টেস্ট) কাজ শুরু হয়েছে।
এ ছাড়া জরুরি ভিত্তিতে বর্তমান সংকট সামাল দিতে শিগগিরই ২০ শয্যার একটি টিনশেড ভবন চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান।

Spread the love