নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:
পিরোজপুরের নেছারাবাদে বিয়ের দাবিতে এক তরুণীর ইমনের বাড়িতে অবস্থানের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে নানা তথ্য সামনে এসেছে। অভিযোগকারী মারজিয়া ও অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল ইমনের পরিবারের বক্তব্যে ঘটনার ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বলদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বয়া গ্রামের বাসিন্দা তাজুল ইসলাম দাবি করেন, তার ছেলে আব্দুল্লাহ আল ইমনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার ভাষ্য, প্রায় এক বছর আগে তার মেয়ের এক বান্ধবী হিসেবে মারজিয়ার সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। এর আগে তাদের পরিবারের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না।
তাজুল ইসলামের দাবি, মারজিয়া গণমাধ্যমে তিন বছরের প্রেমের সম্পর্কের কথা বললেও তা বাস্তবতা ভিন্ন। তিনি বলেন, এক বছর আগেও মারজিয়া উমারেরপাড় এলাকার রিয়াজুল নামে এক ব্যক্তির স্ত্রী হিসেবে সংসার করতেন।
এছাড়া ঢাকাতেও তার আরেকটি বিয়ে হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। বিশারকান্দি এলাকায় গেলে মারজিয়ার চাচাতো ভাই পরিচয়ে ব্যাক্তি জানান, তার দুটি বিয়ে সে নিয়মিত টিকটক করে বেড়ায়।
অভিযুক্ত ইমন বলেন, প্রায় এক বছর আগে মারজিয়ার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এরপর মারজিয়া মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে নিয়মিত যোগাযোগ করে তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিতেন এবং ভয়েস মেসেজ পাঠাতেন। তিনি দাবি করেন, মারজিয়া তাদের এলাকায় দেখা করতে এলেও তার সঙ্গে কোনো অবৈধ সম্পর্ক ছিল না। মারজিয়া সব মিথ্যে বলছে।
তাজুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, মারজিয়া ও তার মা পরিকল্পিতভাবে তরুণদের সঙ্গে বিয়ে করে পরে কাবিনের অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে বিচ্ছেদের পথ বেছে নেন। যেটা ২১/৭/২৫ এর ডিভোর্স পেপার তা প্রমান করে। তিনি জানান, তার পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
অন্যদিকে মারজিয়া বলেন, রিয়াজুলের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর ইমনের সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ইমন তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়েছিলেন বলেই তিনি ইমনের বাড়িতে গিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, প্রায় দুই বছর আগে তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ডিভোর্সের কাগজে ২১ আগস্ট ২০২৫ তারিখে বিচ্ছেদ কার্যকর হওয়ার তথ্য দেখা গেছে।

এ ছাড়া ঢাকায় তার আরেকটি বিয়ে হয়েছিল বলে ইমনের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও এ বিষয়টি মারজিয়া অস্বীকার করে।
এ বিষয়ে নেছারাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ মেহেদি হাসান বলেন, “ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
Reporter Name 



















