Dhaka ০৮:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফেসবুকের প্রেমে বাল্যবিয়ে, ৭ মাসের সন্তান ফিরে পেল ১৩ বছরের কিশোরী মা ডাকাতি-চুরি প্রতিরোধে নেছারাবাদে রাতের পাহারা, পুলিশ-জনতার যৌথ উদ্যোগ উপকূলের পরিবেশ পুনরুদ্ধারে শ্যামনগরে ১০ লাখ বীজ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন ডি.বি. ইউনাইটেড হাইস্কুলে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ, এমপি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেককে সংবর্ধনা শ্যামনগরে চৌকিদার প্যারেড পরিদর্শনে পুলিশ সুপার, অপরাধ দমনে তৎপরতার নির্দেশ সাতক্ষীরায় বিজিবির মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠান, উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার আর্থ জার্নালিজম নেটওয়ার্কের ফেলোশিপ পাওয়ায় আহসান রাজীবকে সাংবাদিক কেন্দ্রের অভিনন্দন কাউখালীতে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে উপজেলা পর্যায়ের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শুরু কাউখালীতে জমিজমা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৮ সাতক্ষীরায় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক বিশেষ সভা

সাপাহারে চৈত্রের রোদে তেলের লাইনে গরমে অতিষ্ঠ মানুষ, সরবত ও খাবার বিতরণে প্রশংসিত পাম্প কর্তৃপক্ষ।

 

প্রতিনিধি, সাপাহার (নওগাঁ)

সারা দেশে জ্বালানি তেলের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে তৈরি হয়েছে দীর্ঘ সারি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চৈত্রের প্রচণ্ড তাপদাহ। তপ্ত রোদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বাইকার ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে নওগাঁর সাপাহার উপজেলার জয়পুর ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ।দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষমাণ গ্রাহকদের মাঝে তারা বিতরণ করেছে ঠাণ্ডা সরবত ও শুকনা খাবার।

রবিবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, জয়পুর ফিলিং স্টেশনে তেল সংগ্রহের জন্য বাইকারদের দীর্ঘ সারি জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত ছাড়িয়ে গেছে। প্রচণ্ড গরমে ক্লান্ত হয়ে পড়া মানুষগুলো যখন তৃষ্ণায় হাঁপিয়ে উঠছিল, ঠিক তখনই মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেন আবু সাইদ চৌধুরী (অনিক)। পাম্প কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তিনি সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা প্রত্যেকের হাতে ঠাণ্ডা সরবত ও বিস্কুটের প্যাকেট তুলে দেন।

এই সহমর্মিতামূলক উদ্যোগে উপস্থিত গ্রাহকদের মাঝে স্বস্তির ছোঁয়া লাগে। সরবত ও খাবার পেয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং পাম্প কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। স্থানীয়রা মনে করছেন, সংকটময় সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই দৃষ্টান্ত অন্যান্য ব্যবসায়ীদের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
পাম্প কর্তৃপক্ষের এ উদ্যোগের প্রশংসা করে সাপাহার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোত্তাকিম হোসেন জুয়েল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লিখেছেন,


“মানবিক অনিক আজকে যে উদ্যোগটি নিয়েছে, তা সত্যিই বিরল। সারা দেশে এমন মানবিক কাজ তেল পাম্পগুলোতে সচরাচর চোখে পড়ে না। একজন মানুষ কতটা জনবান্ধব হলে সারারাত জেগে তেল সরবরাহ করার পাশাপাশি প্রচণ্ড রৌদ্রে মানুষের তৃষ্ণা মেটানোর কথা ভাবতে পারে। আমরা সত্যিই মুগ্ধ।”

এ বিষয়ে আবু সাইদ চৌধুরী অনিক বলেন,
“বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বর্তমানে তেলের চাপ বেশি। আমরা দিন-রাত নিরলসভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছি। এই তীব্র গরমে মানুষ যখন দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে, তখন তাদের কষ্টটা আমরা অনুভব করি। সেই বোধ থেকেই পাম্প কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সামান্য এই সেবা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। মানুষের মুখে একটু স্বস্তির হাসি দেখতে পারাটাই আমাদের সার্থকতা।”

তোফায়েল আহমেদ
প্রতিনিধি, সাপাহার (নওগাঁ)

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ফেসবুকের প্রেমে বাল্যবিয়ে, ৭ মাসের সন্তান ফিরে পেল ১৩ বছরের কিশোরী মা

সাপাহারে চৈত্রের রোদে তেলের লাইনে গরমে অতিষ্ঠ মানুষ, সরবত ও খাবার বিতরণে প্রশংসিত পাম্প কর্তৃপক্ষ।

Update Time : ১২:৪৩:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

 

প্রতিনিধি, সাপাহার (নওগাঁ)

সারা দেশে জ্বালানি তেলের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে তৈরি হয়েছে দীর্ঘ সারি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চৈত্রের প্রচণ্ড তাপদাহ। তপ্ত রোদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বাইকার ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে নওগাঁর সাপাহার উপজেলার জয়পুর ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ।দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষমাণ গ্রাহকদের মাঝে তারা বিতরণ করেছে ঠাণ্ডা সরবত ও শুকনা খাবার।

রবিবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, জয়পুর ফিলিং স্টেশনে তেল সংগ্রহের জন্য বাইকারদের দীর্ঘ সারি জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত ছাড়িয়ে গেছে। প্রচণ্ড গরমে ক্লান্ত হয়ে পড়া মানুষগুলো যখন তৃষ্ণায় হাঁপিয়ে উঠছিল, ঠিক তখনই মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেন আবু সাইদ চৌধুরী (অনিক)। পাম্প কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তিনি সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা প্রত্যেকের হাতে ঠাণ্ডা সরবত ও বিস্কুটের প্যাকেট তুলে দেন।

এই সহমর্মিতামূলক উদ্যোগে উপস্থিত গ্রাহকদের মাঝে স্বস্তির ছোঁয়া লাগে। সরবত ও খাবার পেয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং পাম্প কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। স্থানীয়রা মনে করছেন, সংকটময় সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই দৃষ্টান্ত অন্যান্য ব্যবসায়ীদের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
পাম্প কর্তৃপক্ষের এ উদ্যোগের প্রশংসা করে সাপাহার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোত্তাকিম হোসেন জুয়েল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লিখেছেন,


“মানবিক অনিক আজকে যে উদ্যোগটি নিয়েছে, তা সত্যিই বিরল। সারা দেশে এমন মানবিক কাজ তেল পাম্পগুলোতে সচরাচর চোখে পড়ে না। একজন মানুষ কতটা জনবান্ধব হলে সারারাত জেগে তেল সরবরাহ করার পাশাপাশি প্রচণ্ড রৌদ্রে মানুষের তৃষ্ণা মেটানোর কথা ভাবতে পারে। আমরা সত্যিই মুগ্ধ।”

এ বিষয়ে আবু সাইদ চৌধুরী অনিক বলেন,
“বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বর্তমানে তেলের চাপ বেশি। আমরা দিন-রাত নিরলসভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছি। এই তীব্র গরমে মানুষ যখন দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে, তখন তাদের কষ্টটা আমরা অনুভব করি। সেই বোধ থেকেই পাম্প কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সামান্য এই সেবা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। মানুষের মুখে একটু স্বস্তির হাসি দেখতে পারাটাই আমাদের সার্থকতা।”

তোফায়েল আহমেদ
প্রতিনিধি, সাপাহার (নওগাঁ)

Spread the love