
সাউথ বেঙ্গল নিউজ
দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সংঘাতের পর অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসানের পথে অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। চিরবৈরী এই দুই দেশের মধ্যে একটি ‘শান্তি চুক্তি’ চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
স্থানীয় সময় রোববার (১৪ জুন) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ পৃথকভাবে এ চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে, ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে চুক্তিটি সম্পন্ন হয়েছে। এ উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি হরমুজ প্রণালীকে সম্পূর্ণ টোল-মুক্তভাবে উন্মুক্ত করার পাশাপাশি সেখানে বিদ্যমান যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং বিশ্বের সব জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা হচ্ছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের স্বাভাবিক প্রবাহ পুনরায় শুরু হবে।
পরবর্তী আরেকটি পোস্টে তিনি দাবি করেন, এই ঐতিহাসিক চুক্তি পুরো মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, তার পূর্ববর্তী অনেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলেও সফল হননি। তার ভাষায়, এ অঞ্চলের নেতারা এবার এমন একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে পেয়েছেন, যিনি প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
ট্রাম্প আরও জানান, আগামী শুক্রবার চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে এবং মাইন অপসারণ কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর উভয় দিক দিয়েই আবারও তেল পরিবহন স্বাভাবিক হবে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক প্রভাব বয়ে আনবে।
এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তি অর্জিত হয়েছে। তিনি বলেন, উভয় পক্ষ সব ধরনের সামরিক অভিযান অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে বন্ধে সম্মত হয়েছে। লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টেও সংঘাত বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
জানা গেছে, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালী থেকে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণা ইতোমধ্যেই দেওয়া হয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের স্বস্তি নিয়ে আসবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তবে এখন পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য বা নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। ফলে ঘোষিত এই শান্তি চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এখনও কিছুটা সতর্কতা ও অপেক্ষার পরিবেশ বিরাজ করছে।
Reporter Name 























