Dhaka ০৩:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তির ঘোষণা; আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর শুক্রবার নেছারাবাদে জমি দখল ও হয়রানির অভিযোগ, প্রতিকার চেয়ে বিধবার আকুতি কুমিল্লা রিজিয়নে ৫ হাজার গাছ লাগানোর ঘোষণা শাহিনুর আলমের সাতক্ষীরায় দাম কমেছে আদা-পেঁয়াজের দাম ওয়াহিদুজ্জামান ওয়াহিদের মৃত্যুতে ফকির নাসির উদ্দিনের গভীর শোক প্রকাশ নেছারাবাদে শামসল হক মিয়ার ইন্তেকাল, প্রতিমন্ত্রীর শোক  ঋণনির্ভর ও উচ্চাভিলাষী বাজেট, বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা: এনপিপির ভান্ডারিয়ায় কচুরিপানা অপসারণ কার্যক্রম শুরু,স্বস্তি ফিরছে ৪০ হাজার পরিবারের মাঝে ​জমি বিরোধের জেরে উজিরপুরে মানববন্ধনে সংঘর্ষ, আহত ৩০, থানায় পৃথক অভিযোগ কাউখালীতে পূবালী ব্যাংকের ক্যাশলেস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা

ভান্ডারিয়ায় কচুরিপানা অপসারণ কার্যক্রম শুরু,স্বস্তি ফিরছে ৪০ হাজার পরিবারের মাঝে

 

ভান্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ধাওয়া ও ইকড়ি ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত বায়নের খাল দীর্ঘদিন কচুরিপানায় আচ্ছাদিত হয়ে পানি প্রবাহ হারিয়ে ফেলেছিল। ফলে খালনির্ভর প্রায় ৪০ হাজার পরিবার নিত্যপ্রয়োজনীয় পানি ব্যবহার, কৃষি সেচ এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় চরম দুর্ভোগের মুখোমুখি হয়। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য,গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর এর নির্দেশনায় অবশেষে খালটির কচুরিপানা অপসারণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ হাসিবুল হাসান।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি খালটির ভয়াবহ অবস্থা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুরের নজরে আসে এবং তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ হাসিবুল হাসান কে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দূরীকরণে দ্রুত কচুরিপানা অপসারণ করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ও গুণগতমান ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করার নির্দেশনা প্রদান করেন।

তারই প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩ টায় আনুষ্ঠানিকভাবে কচুরিপানা অপসারণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ভান্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ হাসিবুল হাসান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ভান্ডারিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও ৫নং ধাওয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মোঃ নজরুল ইসলাম, ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা শ্যামল চন্দ্র বড়াল,উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মোঃ শামীম হাওলাদার, ধাওয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মোঃ মাসুম বিল্লাহ সহ ইউপি সদস্য বৃন্দ, বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ।

স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিমন্ত্রী ও ইউএনও”র এ সময়োপযোগী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আমাদের প্রতিমন্ত্রী ও উপজেলা প্রশাসনের আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলে দীর্ঘদিনের একটি জনদুর্ভোগ নিরসনের পথ সুগম হলো। বছরের পর বছর খালটি সংস্কার ও পরিচর্যার অভাবে কচুরিপানায় ভরে গিয়ে প্রায় মৃতপ্রায় অবস্থায় পৌঁছেছিল। পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় এলাকায় পানি সংকটের পাশাপাশি ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের প্রকোপও বৃদ্ধি পায়। খালটির কচুরিপানা অপসারণের মাধ্যমে দুই ইউনিয়নের হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে এবং কৃষি ও জনস্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আসা করছি।

এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ হাসিবুল হাসান বলেন, বায়নের খাল ধাওয়া ও ইকড়ি ইউনিয়নের হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকা ও দৈনন্দিন প্রয়োজনের সঙ্গে জড়িত। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘব এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে মাননীয় প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর মহোদয়ের নির্দেশনায় কচুরিপানা অপসারণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে খালটি সম্পূর্ণ পরিষ্কার করা হবে, যাতে এলাকাবাসী নিরাপদ ও ব্যবহার উপযোগী পানি পায় এবং কৃষি কার্যক্রমও স্বাভাবিক থাকে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, অপসারণ কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর খালের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে খালটি আবারও কচুরিপানার দখলে না যায় এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ অব্যাহত থাকে।

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তির ঘোষণা; আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর শুক্রবার

ভান্ডারিয়ায় কচুরিপানা অপসারণ কার্যক্রম শুরু,স্বস্তি ফিরছে ৪০ হাজার পরিবারের মাঝে

Update Time : ০৫:৪৮:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

 

ভান্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ধাওয়া ও ইকড়ি ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত বায়নের খাল দীর্ঘদিন কচুরিপানায় আচ্ছাদিত হয়ে পানি প্রবাহ হারিয়ে ফেলেছিল। ফলে খালনির্ভর প্রায় ৪০ হাজার পরিবার নিত্যপ্রয়োজনীয় পানি ব্যবহার, কৃষি সেচ এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় চরম দুর্ভোগের মুখোমুখি হয়। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য,গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর এর নির্দেশনায় অবশেষে খালটির কচুরিপানা অপসারণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ হাসিবুল হাসান।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি খালটির ভয়াবহ অবস্থা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুরের নজরে আসে এবং তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ হাসিবুল হাসান কে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দূরীকরণে দ্রুত কচুরিপানা অপসারণ করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ও গুণগতমান ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করার নির্দেশনা প্রদান করেন।

তারই প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩ টায় আনুষ্ঠানিকভাবে কচুরিপানা অপসারণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ভান্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ হাসিবুল হাসান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ভান্ডারিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও ৫নং ধাওয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মোঃ নজরুল ইসলাম, ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা শ্যামল চন্দ্র বড়াল,উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মোঃ শামীম হাওলাদার, ধাওয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মোঃ মাসুম বিল্লাহ সহ ইউপি সদস্য বৃন্দ, বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ।

স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিমন্ত্রী ও ইউএনও”র এ সময়োপযোগী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আমাদের প্রতিমন্ত্রী ও উপজেলা প্রশাসনের আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলে দীর্ঘদিনের একটি জনদুর্ভোগ নিরসনের পথ সুগম হলো। বছরের পর বছর খালটি সংস্কার ও পরিচর্যার অভাবে কচুরিপানায় ভরে গিয়ে প্রায় মৃতপ্রায় অবস্থায় পৌঁছেছিল। পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় এলাকায় পানি সংকটের পাশাপাশি ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের প্রকোপও বৃদ্ধি পায়। খালটির কচুরিপানা অপসারণের মাধ্যমে দুই ইউনিয়নের হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে এবং কৃষি ও জনস্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আসা করছি।

এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ হাসিবুল হাসান বলেন, বায়নের খাল ধাওয়া ও ইকড়ি ইউনিয়নের হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকা ও দৈনন্দিন প্রয়োজনের সঙ্গে জড়িত। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘব এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে মাননীয় প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর মহোদয়ের নির্দেশনায় কচুরিপানা অপসারণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে খালটি সম্পূর্ণ পরিষ্কার করা হবে, যাতে এলাকাবাসী নিরাপদ ও ব্যবহার উপযোগী পানি পায় এবং কৃষি কার্যক্রমও স্বাভাবিক থাকে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, অপসারণ কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর খালের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে খালটি আবারও কচুরিপানার দখলে না যায় এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ অব্যাহত থাকে।

Spread the love