Dhaka ০২:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাতক্ষীরায় নিম্ন আয়ের মানুষের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সুরক্ষায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প সাতক্ষীরা হবিগঞ্জে হামলার প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় এনসিপির প্রতিবাদ সভা সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়নে আর বিলম্ব নয়, সরকারের প্রতি আহ্বান কাউখালীতে সাড়ে তিন হাজার মিটার অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ কাউখালীতে একই এলাকায় পরপর তিন চুরি, আতঙ্কে এলাকাবাসী সাপাহারে বিষ প্রয়োগে মাছ নিধনের অভিযোগ, ক্ষতি দেড় লাখের বেশি ফেসবুকের প্রেমে বাল্যবিয়ে, ৭ মাসের সন্তান ফিরে পেল ১৩ বছরের কিশোরী মা ডাকাতি-চুরি প্রতিরোধে নেছারাবাদে রাতের পাহারা, পুলিশ-জনতার যৌথ উদ্যোগ উপকূলের পরিবেশ পুনরুদ্ধারে শ্যামনগরে ১০ লাখ বীজ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন ডি.বি. ইউনাইটেড হাইস্কুলে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ, এমপি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেককে সংবর্ধনা

জনবল সংকটে কাউখালীর উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিস, বিল পাসে দীর্ঘসূত্রতা; ভোগান্তিতে সরকারি দপ্তর

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৩১:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
  • ১৬ Time View

কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:

 

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকটের কারণে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি পদ শূন্য থাকায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের বিল-ভাউচার নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দিয়েছে। এতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, উন্নয়ন প্রকল্পের বিল এবং অন্যান্য আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়ছেন সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সেবাগ্রহীতারা।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ১৭ জুলাই উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসার মো. নাজমুল হাসান বদলি হওয়ার পর থেকে এ পদে কোনো নিয়মিত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এরপর থেকে পার্শ্ববর্তী উপজেলার কর্মকর্তারা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

 

বর্তমানে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসার মো. সাদ্দাম হোসেন সিরাজী কাউখালী উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি একই সঙ্গে তিনটি উপজেলার দায়িত্বে থাকায় সপ্তাহে মাত্র একদিন, মঙ্গলবার কাউখালী অফিসে উপস্থিত থাকতে পারেন।

 

এদিকে উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসারের পাশাপাশি অডিটর, কম্পিউটার অপারেটর ও অফিস সহায়কসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ফলে সীমিত জনবল দিয়ে অফিসের কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে কাজের চাপ বেড়েছে এবং বিল-ভাউচার নিষ্পত্তিতে বিলম্ব হচ্ছে।

 

ভুক্তভোগীরা জানান, নির্ধারিত মঙ্গলবার অনলাইন সার্ভারে কোনো ধরনের জটিলতা দেখা দিলে গুরুত্বপূর্ণ বিল-ভাউচার পাস করাতে আরও এক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হয়। এতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ছাড় এবং অন্যান্য আর্থিক কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলার এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, প্রয়োজনীয় বিল-ভাউচার যথাসময়ে জমা দেওয়ার পরও নিয়মিত কর্মকর্তা না থাকায় দ্রুত নিষ্পত্তি হয় না। অনেক ক্ষেত্রে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়, যা অফিসের আর্থিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

 

একাধিক সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, বেতন-ভাতা ও অন্যান্য বিল পাস করাতে বারবার হিসাবরক্ষণ অফিসে যেতে হচ্ছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সপ্তাহে মাত্র একদিন অফিস করায় অনেক সময় প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন না করেই ফিরে যেতে হয়। এতে সময়, শ্রম ও ভোগান্তি—সবই বাড়ছে।

 

এ বিষয়ে কাউখালী উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাদ্দাম হোসেন সিরাজী বলেন, “আমি বর্তমানে তিনটি উপজেলার দায়িত্ব পালন করছি। জনবল সংকটের মধ্যেও সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করছি। তবে একজন কর্মকর্তার পক্ষে একাধিক উপজেলার সব কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা কঠিন। নিয়মিত কর্মকর্তা নিয়োগ এবং শূন্য পদগুলো পূরণ হলে সেবার মান আরও উন্নত হবে।”

 

কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট রয়েছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত নিয়মিত কর্মকর্তা ও অন্যান্য শূন্য পদে জনবল নিয়োগ হলে সেবার গতি বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও কমে আসবে।”

 

স্থানীয়দের দাবি, সরকারি আর্থিক কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে এবং জনভোগান্তি কমাতে কাউখালী উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণের পাশাপাশি একজন নিয়মিত উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসার নিয়োগ দেওয়া জরুরি।

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সাতক্ষীরায় নিম্ন আয়ের মানুষের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সুরক্ষায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প

জনবল সংকটে কাউখালীর উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিস, বিল পাসে দীর্ঘসূত্রতা; ভোগান্তিতে সরকারি দপ্তর

Update Time : ০৫:৩১:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:

 

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকটের কারণে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি পদ শূন্য থাকায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের বিল-ভাউচার নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দিয়েছে। এতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, উন্নয়ন প্রকল্পের বিল এবং অন্যান্য আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়ছেন সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সেবাগ্রহীতারা।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ১৭ জুলাই উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসার মো. নাজমুল হাসান বদলি হওয়ার পর থেকে এ পদে কোনো নিয়মিত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এরপর থেকে পার্শ্ববর্তী উপজেলার কর্মকর্তারা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

 

বর্তমানে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসার মো. সাদ্দাম হোসেন সিরাজী কাউখালী উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি একই সঙ্গে তিনটি উপজেলার দায়িত্বে থাকায় সপ্তাহে মাত্র একদিন, মঙ্গলবার কাউখালী অফিসে উপস্থিত থাকতে পারেন।

 

এদিকে উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসারের পাশাপাশি অডিটর, কম্পিউটার অপারেটর ও অফিস সহায়কসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ফলে সীমিত জনবল দিয়ে অফিসের কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে কাজের চাপ বেড়েছে এবং বিল-ভাউচার নিষ্পত্তিতে বিলম্ব হচ্ছে।

 

ভুক্তভোগীরা জানান, নির্ধারিত মঙ্গলবার অনলাইন সার্ভারে কোনো ধরনের জটিলতা দেখা দিলে গুরুত্বপূর্ণ বিল-ভাউচার পাস করাতে আরও এক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হয়। এতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ছাড় এবং অন্যান্য আর্থিক কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলার এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, প্রয়োজনীয় বিল-ভাউচার যথাসময়ে জমা দেওয়ার পরও নিয়মিত কর্মকর্তা না থাকায় দ্রুত নিষ্পত্তি হয় না। অনেক ক্ষেত্রে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়, যা অফিসের আর্থিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

 

একাধিক সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, বেতন-ভাতা ও অন্যান্য বিল পাস করাতে বারবার হিসাবরক্ষণ অফিসে যেতে হচ্ছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সপ্তাহে মাত্র একদিন অফিস করায় অনেক সময় প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন না করেই ফিরে যেতে হয়। এতে সময়, শ্রম ও ভোগান্তি—সবই বাড়ছে।

 

এ বিষয়ে কাউখালী উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাদ্দাম হোসেন সিরাজী বলেন, “আমি বর্তমানে তিনটি উপজেলার দায়িত্ব পালন করছি। জনবল সংকটের মধ্যেও সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করছি। তবে একজন কর্মকর্তার পক্ষে একাধিক উপজেলার সব কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা কঠিন। নিয়মিত কর্মকর্তা নিয়োগ এবং শূন্য পদগুলো পূরণ হলে সেবার মান আরও উন্নত হবে।”

 

কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট রয়েছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত নিয়মিত কর্মকর্তা ও অন্যান্য শূন্য পদে জনবল নিয়োগ হলে সেবার গতি বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও কমে আসবে।”

 

স্থানীয়দের দাবি, সরকারি আর্থিক কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে এবং জনভোগান্তি কমাতে কাউখালী উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণের পাশাপাশি একজন নিয়মিত উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসার নিয়োগ দেওয়া জরুরি।

Spread the love