
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সমস্ত শরীরে দগদগে ঘা মৃতুপ্রায় একটি গাভী গরু জবাইয়ের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার সময় গরুসহ ৬ জন কসাইকে আটক করেছে সাতক্ষীরা থানা পুলিশ।
গতকাল বুধবার দুপুর ১২ টার শহরতলী কাটিয়া মিলবাজার এলাকা থেকে তাদেরকে আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শিবতলা গ্রামের আবুল বাসার, তৈয়েবুর রহমান,মঙ্গলকোট কেশবপুরের রবিউল ইসলাম, ডুমুরিয়ার উপজেলার শাহাপুর গ্রামের হোসেন আলী, চুকনগরের রাব্বি হোসেন ও শাহিন হোসেন।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন আটকৃত কসাইরা সাতক্ষীরা সদর উপজেলার থানাঘাটা গ্রামের পরিতোষ কুমারের গোয়াল ঘরে পড়ে থাকা একটি অসুস্থ্য গাভী ৩০ হাজার টাকা দিয়ে ক্রয় করে জবাইয়ে উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এর সদর থানা পুলিশের একটি দল কাটিয়া মিলবাজার এলাকা থেকে একটি আলমসাধু (ইঞ্জিনচালিত) ভ্যানে শুয়ানো ওই গাভীসহ উল্লেখিত ব্যক্তিদের আটক করা হয়। পরে দেখা ওই গাভীটির সমস্ত শরীরে দগদগে ঘা এবং মারাত্মক অসুস্থ্য। এমনকি গাভীটি নিঃশ্বাস নিতেও খুবই কষ্ট পাচ্ছে। এরপর আটককৃত কসাইদের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা সদর থানায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ও নিরাপদ খাদ্য আইনে মামলা রুজ্জু করা হয়েছে। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আটককৃতদের কোর্ট হাজতে প্রেরনের প্রস্তুতি চলছিলো বলে জানান পুলিশ।
বাংলাদেশ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সাতক্ষীরা সহকারী পরিচালক মো, মেহেদী হাসান তানভীর জানান, যদি কোনো ব্যক্তি অসুস্থ্য বা রুগ্ন গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া বা অন্যান্য পশু জবাই বা জবাইয়ের উদ্দেশ্যে বিক্রয় করেন তাহলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৪৫ ধারা মোতাবেক ৫০ হাজার জরিমানা ও এক বছরের কারাদন্ডে দন্ডিত হবেন।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তর সাতক্ষীরা সহকারী পরিচালক দিপংক দত্ত জানান, অসুস্থ্য পশুর মাংস বিক্রি করা নিরাপদ খাদ্য আইনে সর্বনিম্ন ১ লাখ থেকে ৪ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। রুগ্ন অসুস্থ্য প্রাণী জবাই করে তার মাংস বিক্রি করা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ বলে জানান তিনি।
সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক আব্দুল বারি জানান, একটি অসাধুচক্র দীর্ঘদিন যাবত এই অসুস্থ্য রুগ্ন গরু অল্প টাকায় নিয়ে ভোররাতে জবাই করে শহর ও আশেপাশে বিক্রি করে আসছে। আর সাধারণ ভোক্তারা না বুঝে এসব গরুর মাংস ক্রয় করছে। তবে সাতক্ষীরা শহরে একটি আধুনিক কসাইখানা নির্মানের উদ্যোগ নেয়ার পরও অজ্ঞাত কারনে আজও বাস্তবায়ন হয়নি। ৫০ কোটি টাকার উপরে বরাদ্ধ ছিলো আধুনিক কসাইখানার। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে তখন আর এধরনের অসুস্থ্য পশু জবাই করতে পারবেনা।
সাতক্ষীরা সদর থানা ভারপ্রাপ্ত (ওসি) মো, মাহমুদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অসুস্থ্য বা রুগ্ন পশু জবাই করা একটি গুরুতর অপরাধ। আটককৃত ব্যক্তিরা অল্প টাকা দিয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে এই ধরনের গরু বা অন্যান্য ক্রয় করে জবাই দিয়ে মাংস বিক্রির কাজে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা হয়েছে। দ্রুত কোর্ট হাজতে প্রেরন করা হবে বলে জানান তিনি।
Reporter Name 



















