
প্রতিনিধি নেছারাবাদ ;
পিরোজপুরের নেছারাবাদে আলোচিত গার্মেন্টসকর্মী সজল কুমার দেউরীর মৃত্যুর ঘটনায় শোভন নিয়ে সন্দেহ এবং স্ত্রী রঞ্জিতা রানীর আত্মগোপনে থাকা নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হলেও নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ করা হয়নি।
নিহত সজলের মা জানিয়েছেন, ছেলে আর ফিরে আসবে না, তাই অভিযোগ করে কোনো লাভ নেই। তিনি বলেন, “অভিযোগ দিয়ে কী হবে, আমার ছেলেকে তো আর ফিরে পাব না। যদি ছেলেকে ফিরে পেতাম, তাহলে অভিযোগ দিতাম।”
সজলের ছোট ভাই সুজিত দেউরী বলেন, “আমার বড় ভাই আমার কাছে বাবার মতো ছিলেন। তার কথা ছাড়া কোনো কাজ করতাম না। তার মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। শোভন আমার বন্ধু, আমরা একই ক্লাসে পড়াশোনা করেছি। তাকে সন্দেহ করার মতো কোনো কারণ আমি দেখছি না। তাদের সম্পর্কের বিষয়ে আমার চোখে কখনো কিছু পড়েনি। শোভনও আমাদের বাসায় তেমন আসতো না।”
ছোট ভাই সুজিও এর স্ত্রী রাত্রি রানী জানান, শোভনের সঙ্গে রঞ্জিতার সম্পর্কের কথা তারা শুধু লোকমুখে শুনেছেন, তবে কখনো নিজেরা দেখেননি। তিনি বলেন, “সজল দাদার মৃত্যুর পরের দিন রঞ্জিতা মেয়েকে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ নেই, মোবাইলও বন্ধ রয়েছে।”
প্রতিবেশী লক্ষ্মীরানী জানান, সজলের পরিবারে কিছুদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। ভাইদের আলাদা হওয়া নিয়ে মনোমালিন্য এবং রঞ্জিতার টিকটকে অতিরিক্ত ব্যস্ততা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝামেলা হতো। এসব পারিবারিক বিরোধের কারণেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি ধারণা করেন।
এদিকে শোভনের মা অভিযোগ করে বলেন, তার ছেলেকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “সজল মারা গেছে, কিন্তু তাদের পারিবারিক সমস্যা ছিল—এটা এলাকার সবাই জানে।”
উল্লেখ্য, নিহত সজল কুমার দেউরী নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের কাটাপিটানিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কাটিং মাস্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
Reporter Name 























