Dhaka ০৮:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উপকূলের পরিবেশ পুনরুদ্ধারে শ্যামনগরে ১০ লাখ বীজ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন ডি.বি. ইউনাইটেড হাইস্কুলে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ, এমপি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেককে সংবর্ধনা শ্যামনগরে চৌকিদার প্যারেড পরিদর্শনে পুলিশ সুপার, অপরাধ দমনে তৎপরতার নির্দেশ সাতক্ষীরায় বিজিবির মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠান, উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার আর্থ জার্নালিজম নেটওয়ার্কের ফেলোশিপ পাওয়ায় আহসান রাজীবকে সাংবাদিক কেন্দ্রের অভিনন্দন কাউখালীতে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে উপজেলা পর্যায়ের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শুরু কাউখালীতে জমিজমা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৮ সাতক্ষীরায় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক বিশেষ সভা সাতক্ষীরায় সাংবাদিকদের সঙ্গে নবাগত খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির মতবিনিময় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে রোগী কল্যাণ সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:১৩:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
  • ৫৮ Time View

0-0x0-1-0#

 

 

প্রতিনিধি নেছারাবাদ পিরোজপুর ;

 

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সুটিয়াকাঠী ইউনিয়ন হাই স্কুলের ১২ মাসের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির স্বরূপকাঠী জোনাল অফিস। এতে বিদ্যালয়ের প্রায় চার শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) সকালে বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে পল্লী বিদ্যুতের লাইনম্যান এসে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পাশের একটি লাইন থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে শ্রেণি কার্যক্রম চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয়রা জানান, ১৯০৯ সালে মরহুম হেলাল উদ্দিন আহম্মেদ প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী এ বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু বিদ্যালয়ের তহবিলে প্রায় ১৬ লাখ টাকা থাকার পরও মাত্র ৩২ হাজার ৭২৯ টাকার বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা দুঃখজনক। তারা এ ঘটনার জন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে অবহেলাকে দায়ী করছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।

শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় ক্লাস করতে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহিদ হোসেন জানান, বিদ্যালয়ের ফান্ডে প্রায় ১৬ লাখ টাকা রয়েছে। তবে বিভিন্ন জটিলতার কারণে সেই অর্থ উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কাছে চলতি মাসের ৫ তারিখ পর্যন্ত সময় চাওয়া হয়েছিল। এত দ্রুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে, তা তিনি ভাবেননি।

অবৈধভাবে পাশের লাইন থেকে বিদ্যুৎ নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক বলেন, “ওটাও আমাদের মিটার।” তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের তহবিলে অর্থ থাকার পরও এক বছরের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রাখা দায়িত্বে অবহেলার শামিল। এ ঘটনার দায় প্রধান শিক্ষক এড়িয়ে যেতে পারেন না বলেও তারা মন্তব্য করেন। এছাড়া প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক উজিরপুর শাখায় ৫ লাখ ৮৭ হাজার ৭১৪ টাকা ঋণ খেলাপির অভিযোগ রয়েছে বলেও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।

পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির স্বরূপকাঠী জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. জানে আলম বলেন, পল্লী বিদ্যুতের নিয়ম অনুযায়ী এক থেকে দুই মাসের বেশি বিল বকেয়া থাকলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিধান রয়েছে। সুটিয়াকাঠী ইউনিয়ন হাই স্কুলের ১২ মাসের মোট ৩২ হাজার ৭২৯ টাকা বিল বকেয়া ছিল। একাধিকবার মৌখিক ও লিখিতভাবে জানানো হলেও কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বাধ্য হয়েই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
অবৈধ সংযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। এমন কোনো ঘটনা ঘটলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত দত্ত বলেন, “আমি প্রধান শিক্ষককে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য বলে দিয়েছি, যাতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত না হয়।”

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

উপকূলের পরিবেশ পুনরুদ্ধারে শ্যামনগরে ১০ লাখ বীজ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

Update Time : ১২:১৩:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

 

 

প্রতিনিধি নেছারাবাদ পিরোজপুর ;

 

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সুটিয়াকাঠী ইউনিয়ন হাই স্কুলের ১২ মাসের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির স্বরূপকাঠী জোনাল অফিস। এতে বিদ্যালয়ের প্রায় চার শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) সকালে বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে পল্লী বিদ্যুতের লাইনম্যান এসে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পাশের একটি লাইন থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে শ্রেণি কার্যক্রম চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয়রা জানান, ১৯০৯ সালে মরহুম হেলাল উদ্দিন আহম্মেদ প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী এ বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু বিদ্যালয়ের তহবিলে প্রায় ১৬ লাখ টাকা থাকার পরও মাত্র ৩২ হাজার ৭২৯ টাকার বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা দুঃখজনক। তারা এ ঘটনার জন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে অবহেলাকে দায়ী করছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।

শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় ক্লাস করতে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহিদ হোসেন জানান, বিদ্যালয়ের ফান্ডে প্রায় ১৬ লাখ টাকা রয়েছে। তবে বিভিন্ন জটিলতার কারণে সেই অর্থ উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কাছে চলতি মাসের ৫ তারিখ পর্যন্ত সময় চাওয়া হয়েছিল। এত দ্রুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে, তা তিনি ভাবেননি।

অবৈধভাবে পাশের লাইন থেকে বিদ্যুৎ নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক বলেন, “ওটাও আমাদের মিটার।” তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের তহবিলে অর্থ থাকার পরও এক বছরের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রাখা দায়িত্বে অবহেলার শামিল। এ ঘটনার দায় প্রধান শিক্ষক এড়িয়ে যেতে পারেন না বলেও তারা মন্তব্য করেন। এছাড়া প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক উজিরপুর শাখায় ৫ লাখ ৮৭ হাজার ৭১৪ টাকা ঋণ খেলাপির অভিযোগ রয়েছে বলেও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।

পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির স্বরূপকাঠী জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. জানে আলম বলেন, পল্লী বিদ্যুতের নিয়ম অনুযায়ী এক থেকে দুই মাসের বেশি বিল বকেয়া থাকলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিধান রয়েছে। সুটিয়াকাঠী ইউনিয়ন হাই স্কুলের ১২ মাসের মোট ৩২ হাজার ৭২৯ টাকা বিল বকেয়া ছিল। একাধিকবার মৌখিক ও লিখিতভাবে জানানো হলেও কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বাধ্য হয়েই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
অবৈধ সংযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। এমন কোনো ঘটনা ঘটলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত দত্ত বলেন, “আমি প্রধান শিক্ষককে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য বলে দিয়েছি, যাতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত না হয়।”

Spread the love