সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত প্রায় ৪৯ জন উমেদারের (অনিবন্ধিত সহকারী) কার্যক্রম বন্ধ করে পুরো আদালত প্রাঙ্গণকে ‘উমেদারমুক্ত’ ঘোষণা করা হয়েছে। সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের নির্দেশনায় গত ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।
আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে উমেদারদের বিরুদ্ধে বিচারপ্রার্থীদের হয়রানি ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ ছিল। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ সিদ্ধান্তের ফলে আদালতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে, প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং বিচারপ্রার্থীরা সরাসরি প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।
সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম আদালতকে দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব রাখতে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন। পাশাপাশি তিনি বিচারপ্রার্থীদের কোনো ধরনের অনৈতিক লেনদেনে জড়িত না হওয়ার আহ্বান জানান।
সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক আইনজীবী বিএম মিজানুর রহমান পিন্টু বলেন, আদালতকে উমেদারমুক্ত করার উদ্যোগটি সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয়। এর ফলে সাধারণ মানুষ সরাসরি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সেবা পাবেন, যা বিচারিক কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।
সরকারি কৌঁসুলি (জিপি) অসীম কুমার মণ্ডল বলেন, ন্যায়বিচারের প্রতি মানুষের আস্থা বজায় রাখতে স্বচ্ছতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যস্বত্বভোগীদের অপসারণের ফলে আদালতের পরিবেশ আরও জনবান্ধব হবে।
আইনজীবী মুহা. মনিরুদ্দীন বলেন, বিচারপ্রার্থীরা ন্যায়বিচারের আশায় আদালতে আসেন। তাদের যেন অপ্রয়োজনীয়ভাবে অন্যের ওপর নির্ভর করতে না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি ছিল।
এদিকে আদালতে আসা সাধারণ বিচারপ্রার্থীরাও এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, আগে প্রয়োজনীয় কাজের জন্য কার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে বা কীভাবে সেবা নিতে হবে, তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হতো। ফলে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হতো। নতুন ব্যবস্থায় তারা সরাসরি দাপ্তরিক সেবা পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন, যা বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি অনেকাংশে কমাবে।
Reporter Name 




















