
সাতক্ষীরা প্রতিনিধিঃ
বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের একটি বৃহৎ অংশ সাতক্ষীরা জেলায় অবস্থিত। দেশের ছয়টি জেলায় বিস্তৃত এই বনভূমির মধ্যে সাতক্ষীরা রেঞ্জে সড়কপথে তুলনামূলক সহজে পৌঁছানো যায়। এ কারণে প্রতিবছর দেশ-বিদেশের বিপুল সংখ্যক পর্যটক সুন্দরবনের সাতক্ষীরা অংশে ভ্রমণে আসেন। তবে চলতি পর্যটন মৌসুমে সেই চিত্রে ভাটা পড়েছে। পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় প্রভাব পড়েছে পর্যটননির্ভর ব্যবসা, স্থানীয় অর্থনীতি এবং বন বিভাগের রাজস্ব আয়ে।
সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের কলাগাছিয়া ও কচিখালী পর্যটকদের কাছে দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয় গন্তব্য। এছাড়া সুন্দরবনসংলগ্ন দেবহাটা উপজেলার রূপসি ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট এবং শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জ এলাকার আকাশলীনা ইকো ট্যুরিজম সেন্টারও পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। ইছামতী নদীর তীরবর্তী প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নৌভ্রমণ এবং বিভিন্ন বিনোদনমূলক আয়োজন পর্যটকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করে।
কিন্তু পর্যটন মৌসুম শুরু হলেও এবার সাতক্ষীরা রেঞ্জে প্রত্যাশিত সংখ্যক পর্যটকের দেখা মিলছে না। সংশ্লিষ্টদের মতে, সাতক্ষীরা-শ্যামনগর মহাসড়কের দীর্ঘদিনের বেহাল অবস্থা পর্যটক কমে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। সড়কের বিভিন্ন অংশে খানাখন্দ ও যানবাহন চলাচলে দুর্ভোগের কারণে অনেক পর্যটক বিকল্প গন্তব্য বেছে নিচ্ছেন।
পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা জানান, পর্যটকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় হোটেল-মোটেল, রেস্টুরেন্ট, পরিবহন ও স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আয়ও কমে গেছে। একই সঙ্গে বন বিভাগের রাজস্ব আয়েও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
সংশ্লিষ্টরা দ্রুত সড়ক উন্নয়ন ও পর্যটনবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে আবারও পর্যটকদের আগমন বাড়বে এবং এ অঞ্চলের পর্যটন শিল্প নতুন গতি ফিরে পাবে।
Reporter Name 


















