কক্সবাজার প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে শত একর বনভূমি দখল, গাছ কেটে ছনখোলা তৈরির অভিযোগ উঠেছে। গণমাধ্যমের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে কয়েকজন কথিত জবরদখলকারীর নাম-পরিচয় প্রকাশ পেলেও তাদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেনি বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।
অভয়ারণ্যের উত্তর হারবাং এলাকার নলবনিয়া, বৃন্দাবনখিল, নাপিতের চিতা ও পশ্চিম বৃন্দাবনখিলসহ বিভিন্ন স্থানে বনভূমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চুনতি এলাকায় সরকারি হিসাবে ২৫১ দশমিক ১১ একর বনভূমি দখল হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত দখলের পরিমাণ আরও বেশি। অন্তত ১৫টি স্থানে বনভূমি দখল ও গাছ কাটার অভিযোগ রয়েছে।
চুনতি রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ বলেন, জবরদখলকারীদের ঘটনাস্থলে পাওয়া না যাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে তিনি জানান, আগামী বর্ষার আগে ছনখোলা উচ্ছেদ করা সম্ভব নয়। তবে ছনখোলার ভেতরে কিছু গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) চকরিয়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আলা উদ্দিন আলো বলেন, ছনখোলা উচ্ছেদ না করে চারা রোপণ করলে তা কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম। বনভূমি দখলমুক্ত করে বনায়নের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে ওঠা অভিযোগও তদন্ত করা প্রয়োজন।
এর আগে মগঘোনা এলাকায় ২০২০-২১ অর্থবছরে রেলওয়ের একটি প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৭৫ হেক্টর জায়গায় বাগান করা হলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই এলাকার বড় একটি অংশ বর্তমানে ছনখোলায় পরিণত হয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চট্টগ্রামের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু নাছের মো. ইয়াছিন নেওয়াজের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়েও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীরা দ্রুত বনভূমি উদ্ধার, ছনখোলা উচ্ছেদ, দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
Reporter Name 



















