
প্রতিনিধি, বানারীপাড়া বরিশাল ;
বরিশালের বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমানসহ সাত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে এক রাজমিস্ত্রির দায়ের করা মামলাকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে দাবি করা হয়েছে। তিন বছর বয়সী এক শিশুকে মায়ের জিম্মায় দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি প্রদর্শন, মারধর ও অবৈধভাবে আটকে রাখার অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি জানিয়েছেন, শিশুটির অসুস্থতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে চিকিৎসা ও মাতৃস্নেহ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে শিশুটিকে তার মায়ের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতের বিচারক সৈয়দ আবিদুল হক রাজমিস্ত্রি জালিছ মাহমুদের দায়ের করা মামলাটি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বানারীপাড়া উপজেলার মহিষাপোতা গ্রামের বাসিন্দা জালিছ মাহমুদের সাবেক স্ত্রী পপি আক্তার তাঁর বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা করেছিলেন। ওই মামলায় বকেয়া খোরপোষ ও দেনমোহরসহ পাওনা পরিশোধের পর বিচার শেষে জালিছ খালাস পান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
জালিছ ও পপি আক্তারের সংসারে হুমায়রা জান্নাত নামে প্রায় তিন বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তাঁদের বিচ্ছেদের পর শিশুটি বাবার বাড়িতে বসবাস করছিল। মামলার বাদীর অভিযোগ, গত ১২ অক্টোবর সকালে এসআই মো. জাহিদের নেতৃত্বে কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাঁকে আটক করে মারধর করেন এবং থানায় নিয়ে দীর্ঘ সময় আটকে রাখেন। এ সময় তাঁর অনুমতি ছাড়াই শিশুটিকে সাবেক স্ত্রী পপির জিম্মায় দেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এ ঘটনায় বানারীপাড়া থানার ওসি মো. মজিবুর রহমান ও এসআই মো. জাহিদকে সুনির্দিষ্ট আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা চার-পাঁচজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। থানা থেকে ছাড়া পাওয়ার পর জালিছ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন এবং পরে আদালতে মামলা করেন।
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি মো. মজিবুর রহমান জানান, শিশুটির বয়স দুই বছর আট মাস এবং সে খুব অসুস্থ। তার চিকিৎসা ও মাতৃস্নেহে সুস্থ হয়ে ওঠার বিষয়টি বিবেচনা করেই মেম্বার ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে শিশুটিকে তার মায়ের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও আদালতের নির্দেশে পিবিআই তদন্ত শুরু করলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে দায়ের করা মামলার পেছনে কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে যাবে। কাওসার মাহমুদ সাউথ বেঙ্গল নিউজ।
নাঈম মোঘল 




















