
ঢাকা উত্তর প্রতিনিধি:
এক অসুস্থ ও পরিচয়হীন বৃদ্ধাকে আশ্রয় দেওয়াকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কের পর এবার হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা ও গলা চেপে ধরার অভিযোগ উঠেছে ‘চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এজ কেয়ার’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর মিল্টন সমাদ্দারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় মামলা হয়েছে।
শনিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ‘উজান টিভি’র কনটেন্ট ক্রিয়েটর নাহিদ হাসান বাদী হয়ে মামলাটি করেন। রোববার (৩০ আগস্ট) মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ আগস্ট বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার বকুলতলা এলাকায় সড়কের পাশে অসুস্থ অবস্থায় এক পরিচয়হীন বৃদ্ধাকে দেখতে পান নাহিদ হাসান। পরে তাকে আশ্রয় ও চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য মিল্টন সমাদ্দারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, বৃদ্ধাকে আশ্রয় দেওয়ার বিনিময়ে মিল্টন সমাদ্দার মাসিক ১৮ হাজার টাকা দাবি করেন। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে তার মানবসেবামূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নাহিদ। পরে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে মিল্টন সমাদ্দার ওই বৃদ্ধাকে তার আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসতে বলেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৫ আগস্ট রাতে অ্যাম্বুলেন্সে করে ওই বৃদ্ধাকে নিয়ে নাহিদ হাসান সাভারের ‘চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এজ কেয়ার’-এ পৌঁছান। সেখানে যাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার জেরে মিল্টন সমাদ্দার, প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার দেবাশীষসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন তার ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার বাদীর দাবি, একপর্যায়ে মিল্টন সমাদ্দার তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। এতে তিনি শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার কাছ থেকে দায়মুক্তিমূলক ও পক্ষপাতদুষ্ট বক্তব্যের একটি ভিডিও ধারণ করা হয় বলেও এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, পরে বিদ্যুৎ-সংযোগ বন্ধ করে নাহিদকে মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বৃদ্ধাকে আশ্রয় দেওয়ার বিনিময়ে কোনো অর্থ চাওয়া হয়নি—এমন বক্তব্যের ভিডিও জোর করে ধারণ করা হয় বলে অভিযোগ বাদীর।
তবে মামলায় আনা এসব অভিযোগের বিষয়ে মিল্টন সমাদ্দারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। মামলার অভিযোগগুলো তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
Reporter Name 
























