সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরায় এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ এবং সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলার অন্যতম আসামি হৃদয় ঘোষকে সাত মাসেরও বেশি সময় পার হলেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, মামলার এজাহারভুক্ত ওই আসামি বর্তমানে প্রকাশ্যে চলাফেরা করছে। এমনকি সম্প্রতি প্রধান আসামির সঙ্গে মিলে ভুক্তভোগীকে অপহরণের চেষ্টাও করেছে বলে তারা দাবি করেছেন।
আসামি হৃদয় ঘোষ সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কুলতিয়া গ্রামের জগবন্ধু ঘোষের ছেলে।
মামলার নথি ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়নের এক কিশোরী স্কুলছাত্রীকে (বর্তমানে কলেজছাত্রী) কয়েক মাস আগে বাড়িতে একা পেয়ে ধর্ষণ করে একই এলাকার দেবাশীষ মণ্ডল। এ সময় তার সহযোগীরা ঘটনার ভিডিও ধারণ করে। পরে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে একাধিকবার তাকে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। মামলায় দেবাশীষ মণ্ডলের সহযোগী হিসেবে হৃদয় ঘোষ ও হাবিব নামের আরও একজনের নাম উঠে আসে।
পরবর্তীতে বিষয়টি পরিবারের কাছে জানালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুক্তভোগীর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তার স্বজনরা। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে গত ২৩ জানুয়ারি সাতক্ষীরা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন এবং দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর গত ২৮ জানুয়ারি র্যাব সদস্যরা দেবাশীষ মণ্ডলকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পরদিন আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে দেবাশীষ মণ্ডল নিজের সম্পৃক্ততার পাশাপাশি হৃদয় ঘোষের সম্পৃক্ততার কথাও উল্লেখ করেন বলে মামলার নথিতে বলা হয়েছে। জবানবন্দিতে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় হৃদয়ের সংশ্লিষ্টতার কথাও উল্লেখ করেন।
ভুক্তভোগীর মায়ের অভিযোগ, প্রধান আসামি জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকে তাদের পরিবারকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হয়রানি করা হচ্ছে। গত ১৪ আগস্ট সকালে কলেজে যাওয়ার পথে দেবাশীষ মণ্ডল, হৃদয় ঘোষ এবং তাদের কয়েকজন সহযোগী মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে ভুক্তভোগীকে অপহরণের চেষ্টা করে বলে তিনি দাবি করেন। বিষয়টি আদালতকে অবহিত করার পর দেবাশীষের জামিন স্থায়ী হয়নি বলেও জানান তিনি।
এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে গত ২৪ আগস্ট পুলিশ সুপার, র্যাব-৬, খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছেন বলে জানান ভুক্তভোগীর মা।
তার অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার স্ক্রিনশটসহ বিভিন্ন আলামত এবং সহ-আসামির স্বীকারোক্তিতে হৃদয় ঘোষের নাম থাকার পরও তাকে গ্রেপ্তারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এমনকি তদন্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিশেষ সুবিধা গ্রহণের অভিযোগও তোলেন তিনি।
তবে মামলার প্রধান আসামি দেবাশীষ মণ্ডল ভুক্তভোগীকে হুমকি দেওয়া কিংবা অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমান শনিবার বিকেলে বলেন, “ফরেনসিক প্রতিবেদন এখনও হাতে না পাওয়ায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা সম্ভব হয়নি। তবে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।”
হৃদয় ঘোষ প্রকাশ্যে চলাফেরা করছে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “হৃদয় ঘোষ উচ্চ আদালত থেকে কোনো আগাম জামিন নেয়নি।” তবে তাকে এখনও গ্রেপ্তার না করার বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
Reporter Name 


















