
বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি:
বানারীপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের নিষিদ্ধ ঘোষিত সাধারণ সম্পাদক মো. ফোরকান আলী হাওলাদারকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্য সমালোচনা করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা। তারা ফেসবুক পোস্ট ও মন্তব্যের মাধ্যমে দলীয় নেতা-কর্মীদের ফোরকানের সঙ্গে সাংগঠনিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক না রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আক্তার হোসেন মোল্লা নিজের ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, ফোরকান আলী হাওলাদার বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগ, বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং বরিশাল-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্যকে নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন পোস্ট করেছেন। পোস্টে তিনি ফোরকানকে মানসিকভাবে অসুস্থ বলে উল্লেখ করে দলীয় নেতা-কর্মীদের তার বক্তব্যে গুরুত্ব না দেওয়ার এবং তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানান।
একই ধরনের বক্তব্য দিয়ে পৃথক ফেসবুক স্ট্যাটাস দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের আরেক সহসভাপতি মজিবুল ইসলাম টুকু। তিনি অভিযোগ করেন, ফোরকানের সাম্প্রতিক ফেসবুক পোস্ট দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। এজন্য নেতা-কর্মীদের তার পোস্ট উপেক্ষা করার পাশাপাশি তার সঙ্গে সম্পর্ক না রাখার অনুরোধ জানান।
এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি জিয়াউল হক মিন্টু ফেসবুকে মন্তব্য করে লেখেন, যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাস করেন, তাদের ফোরকানের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করা উচিত।
এছাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আবুল কালাম বালী, মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী নাজমীন জাহান পলি, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা টুটুল বাহাদুর এবং বরিশাল-১ ও ২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) জসিম মোল্লাও ফেসবুকে বিভিন্ন মন্তব্য করেন। এর মধ্যে কেউ ফোরকানের আচরণের সমালোচনা করেন, আবার কেউ তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি, গত কয়েক মাস ধরে ফোরকান আলী হাওলাদার তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে বিভিন্ন বিতর্কিত পোস্ট দিয়ে আসছেন। এসব কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করেই দলীয় পর্যায়ে তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নের আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে ফোরকান আলী হাওলাদারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি পাবনায় শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছেন।
Reporter Name 

















