
প্রতিনিধি, নেছারাবাদ ;
নেছারাবাদে ‘শয়তানের নিশ্বাস’ বা ডেভিলস ব্রেথ (স্কোপোলামিন) নামে পরিচিত ভয়ংকর মাদক ব্যবহার করে এক নার্সের কাছ থেকে স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান সামগ্রী হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। অভিনব কৌশলে মাতৃত্বের আবেগ কাজে লাগিয়ে ভুক্তভোগীকে মানসিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করে এই প্রতারণা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
রোববার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার জগন্নাথকাঠি বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রতারকরা নার্স নিলিমা রানি বেপারির কাছ থেকে গলার চেইন, কানের ঝুমকা, হাতের রুলি, আংটি ও দুটি মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়। যার আনুমানিক মূল্য চার লাখ টাকার বেশি বলে দাবি পরিবারের।
ভুক্তভোগী নিলিমা রানি বেপারি জানান, তিনি একটি কম্পিউটারের কাজে বাজারে যাচ্ছিলেন। এ সময় এক ব্যক্তি এসে তাকে ‘মায়ের মতো’ উল্লেখ করে সাহায্য চান। পরে আরও কয়েকজন নিজেদের বিভিন্ন পরিচয় দিয়ে তার সঙ্গে কথা বলতে থাকে। একপর্যায়ে তারা তাকে বাজারের বিভিন্ন দোকানে ঘোরায় এবং একটি ব্যাগে থাকা মালামাল বিক্রির কথা বলে। এরপর কীভাবে তিনি নিজের স্বর্ণালঙ্কার খুলে তাদের হাতে তুলে দিয়েছেন, তা স্পষ্টভাবে মনে করতে পারছেন না।
নিলিমার স্বামী প্রধান শিক্ষক সংকর বড়াল , জানান—অপরিচিত লোকগুলো তার স্ত্রীকে ঘিরে ধরার পর থেকেই আচরণ অস্বাভাবিক হয়ে যায়। তাদের ধারণা, কোনো ধরনের কেমিক্যাল বা মাদক ব্যবহার করেই এই প্রতারণা করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, নেছারাবাদে এর আগেও একই ধরনের কৌশলে প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। সচেতন মহল দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি ও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে চিকিৎসক ডা.আসাদুজ্জামান বলেন, স্কোপোলামিন বা ‘ডেভিলস ব্রেথ’ অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি মাদক। এটি তরল বা পাউডার আকারে কাগজ, কাপড় বা ভিজিটিং কার্ডের মাধ্যমে শ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করানো হয়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ভুক্তভোগীর স্বাভাবিক চিন্তা-শক্তি ও স্মৃতিশক্তি সাময়িকভাবে লোপ পায় এবং সে অপরাধীদের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করতে থাকে।
তিনি আরও বলেন, রাস্তায় চলাচলের সময় অপরিচিত কারও দেওয়া কাগজ, কার্ড বা কাপড় মুখের কাছে নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। প্রয়োজনে মাস্ক ব্যবহার করে সতর্ক থাকতে হবে।
নেছারাবাদ থানার তদন্ত কর্মকর্তা সঞ্জয় মজুমদার জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Reporter Name 
























