Dhaka ০২:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উপকূলের পরিবেশ পুনরুদ্ধারে শ্যামনগরে ১০ লাখ বীজ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন ডি.বি. ইউনাইটেড হাইস্কুলে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ, এমপি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেককে সংবর্ধনা শ্যামনগরে চৌকিদার প্যারেড পরিদর্শনে পুলিশ সুপার, অপরাধ দমনে তৎপরতার নির্দেশ সাতক্ষীরায় বিজিবির মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠান, উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার আর্থ জার্নালিজম নেটওয়ার্কের ফেলোশিপ পাওয়ায় আহসান রাজীবকে সাংবাদিক কেন্দ্রের অভিনন্দন কাউখালীতে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে উপজেলা পর্যায়ের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শুরু কাউখালীতে জমিজমা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৮ সাতক্ষীরায় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক বিশেষ সভা সাতক্ষীরায় সাংবাদিকদের সঙ্গে নবাগত খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির মতবিনিময় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে রোগী কল্যাণ সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

টানা বর্ষণে জলমগ্ন সাতক্ষীরা, চরম দুর্ভোগে নিম্ন আয়ের মানুষ রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, ফসলের মাঠ ও মাছের ঘের তলিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৩৪:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
  • ১১ Time View

 

 

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

 

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে সাতক্ষীরা জেলা। শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম—প্রায় সর্বত্রই সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। সড়ক, ঘরবাড়ি, বাজার, কৃষিজমি ও মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দিনমজুর, শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ।

 

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, গত চার দিনে জেলায় ২৮০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অতিবৃষ্টির পাশাপাশি পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত থাকায় জমে থাকা পানি দ্রুত নামতে পারছে না, ফলে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে।

 

সাতক্ষীরা পৌরসভার পলাশপোল, কাটিয়া, ইটাগাছা, বকচরা ও খুলনা রোডসহ বিভিন্ন এলাকার প্রধান সড়কে হাঁটু থেকে কোথাও কোথাও কোমরসমান পানি জমে রয়েছে। অনেক দোকানপাটে পানি ঢুকে ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সড়কে পানি থাকায় যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলেও চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে।

 

জেলার বিভিন্ন উপজেলাতেও একই চিত্র। তালা, কলারোয়া, দেবহাটা, কালীগঞ্জ, আশাশুনি ও শ্যামনগরের বিস্তীর্ণ নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বিশেষ করে উপকূলীয় আশাশুনি ও শ্যামনগরে জোয়ারের পানি ও টানা বৃষ্টির যৌথ প্রভাবে বহু ঘরবাড়ি এবং চিংড়ি ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে মৎস্যচাষি ও কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফয়জুল্যাপুর গ্রামের মাছচাষি মমিনুর রহমান জানান, তিন বিঘা জমির মাছের ঘের পানিতে ভেসে যাওয়ায় তাঁর সব বিনিয়োগ প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে। অন্যদিকে ধুলিহর বেড়বাড়ী গ্রামের ৭৫ বছর বয়সী সোনাভান বিবি জানান, টানা বৃষ্টিতে তাঁর ঘরের চাল ফুটো হয়ে পানি পড়ছে। ঘরে রান্না করার মতো শুকনো জায়গা ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী না থাকায় তিনি মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

উপকূলের পরিবেশ পুনরুদ্ধারে শ্যামনগরে ১০ লাখ বীজ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

টানা বর্ষণে জলমগ্ন সাতক্ষীরা, চরম দুর্ভোগে নিম্ন আয়ের মানুষ রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, ফসলের মাঠ ও মাছের ঘের তলিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

Update Time : ০৫:৩৪:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

 

 

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

 

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে সাতক্ষীরা জেলা। শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম—প্রায় সর্বত্রই সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। সড়ক, ঘরবাড়ি, বাজার, কৃষিজমি ও মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দিনমজুর, শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ।

 

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, গত চার দিনে জেলায় ২৮০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অতিবৃষ্টির পাশাপাশি পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত থাকায় জমে থাকা পানি দ্রুত নামতে পারছে না, ফলে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে।

 

সাতক্ষীরা পৌরসভার পলাশপোল, কাটিয়া, ইটাগাছা, বকচরা ও খুলনা রোডসহ বিভিন্ন এলাকার প্রধান সড়কে হাঁটু থেকে কোথাও কোথাও কোমরসমান পানি জমে রয়েছে। অনেক দোকানপাটে পানি ঢুকে ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সড়কে পানি থাকায় যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলেও চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে।

 

জেলার বিভিন্ন উপজেলাতেও একই চিত্র। তালা, কলারোয়া, দেবহাটা, কালীগঞ্জ, আশাশুনি ও শ্যামনগরের বিস্তীর্ণ নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বিশেষ করে উপকূলীয় আশাশুনি ও শ্যামনগরে জোয়ারের পানি ও টানা বৃষ্টির যৌথ প্রভাবে বহু ঘরবাড়ি এবং চিংড়ি ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে মৎস্যচাষি ও কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফয়জুল্যাপুর গ্রামের মাছচাষি মমিনুর রহমান জানান, তিন বিঘা জমির মাছের ঘের পানিতে ভেসে যাওয়ায় তাঁর সব বিনিয়োগ প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে। অন্যদিকে ধুলিহর বেড়বাড়ী গ্রামের ৭৫ বছর বয়সী সোনাভান বিবি জানান, টানা বৃষ্টিতে তাঁর ঘরের চাল ফুটো হয়ে পানি পড়ছে। ঘরে রান্না করার মতো শুকনো জায়গা ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী না থাকায় তিনি মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

Spread the love