সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
নওগাঁর সাপাহার উপজেলায় জাতীয় আদিবাসী পরিষদের উপজেলা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সংগঠনের অভ্যন্তরে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। গঠনতন্ত্র উপেক্ষা করে অধিকাংশ সদস্য ও স্থানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে অবহিত না করেই একতরফাভাবে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে নবগঠিত কমিটি প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দিয়েছেন সংগঠনের একাংশের নেতাকর্মী ও স্থানীয় আদিবাসীরা।
শুক্রবার বিকেলে সাপাহার প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রায় দেড় শতাধিক আদিবাসী নারী-পুরুষ অংশ নেন। এ সময় তারা ঘোষিত কমিটি বাতিল করে সকলের অংশগ্রহণে স্বচ্ছ, গণতান্ত্রিক ও গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়ায় নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত ও মৌখিক বক্তব্যে বক্তারা বলেন, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ দীর্ঘদিন ধরে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি, ভূমির অধিকার, মানবাধিকার এবং সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে আসছে। এমন একটি সংগঠনের উপজেলা কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে প্রতিনিধি সভা বা কাউন্সিলের মাধ্যমে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য পদে নির্বাচন অথবা সর্বসম্মতিক্রমে মনোনয়নের বিধান রয়েছে। কিন্তু সেই সাংগঠনিক নিয়ম অনুসরণ না করে গোপনে একটি ‘পকেট কমিটি’ গঠন করে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
বক্তাদের অভিযোগ, শুক্রবার সাপাহার মহিলা কলেজ হলরুমে উপজেলা কমিটি গঠনের লক্ষ্যে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হলেও বর্তমান ইউনিয়ন কমিটি, উপজেলা কমিটির অধিকাংশ সদস্য এবং স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের অনেক প্রতিনিধিকে বিষয়টি জানানো হয়নি। ফলে সংগঠনের প্রকৃত প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ ছাড়াই স্বপন কুজুরকে সভাপতি করে ৩১ সদস্যবিশিষ্ট উপজেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়।
তাদের দাবি, কমিটি ঘোষণার পর সভায় উপস্থিত প্রায় দুই শতাধিক আদিবাসী নারী-পুরুষ এর প্রতিবাদ জানিয়ে সভাস্থল ত্যাগ করেন। পরে তারা সাপাহার প্রেসক্লাবে এসে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নবগঠিত কমিটি বর্জনের ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বাবুলাল তিরকী, বেরা রানী, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বুধু নোনাহার, তিলনা ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি মহিদ্রনাথ এবং উপজেলা আদিবাসী ছাত্র পরিষদের সভাপতি শ্রীকান্ত। এ সময় বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা প্রায় দেড় শতাধিক আদিবাসী নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে নবগঠিত উপজেলা কমিটির সভাপতি স্বপন কুজুরের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়ায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাপাহার উপজেলা জাতীয় আদিবাসী পরিষদের অভ্যন্তরীণ বিভক্তি প্রকাশ্যে এসেছে। সংগঠনের একাংশের নেতাকর্মীদের দাবি, দ্রুত সব পক্ষের অংশগ্রহণে স্বচ্ছ, গণতান্ত্রিক ও গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়ায় নতুন কমিটি গঠন করা না হলে সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর স্বার্থও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
Reporter Name 



















