Dhaka ০৭:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কাউখালীতে মাঝরাতে কঁচা নদীতে ট্রলার বিকল, ৫০-৬০ ইজতেমাযাত্রীকে উদ্ধার করল নৌ পুলিশ বানারীপাড়ার ওসির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, দাবি পুলিশের   সাতক্ষীরায় সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, বিতর্কিত তালিকা বাতিলের দাবি সাতক্ষীরায় পুলিশের বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষার্থীদের খতিয়ান বই পর্যালোচনা ও প্যারেড পরীক্ষা অনুষ্ঠিত কাউখালীতে মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান, ২ হাজার ৫০০ মিটার অবৈধ জাল জব্দ কাউখালীতে নারীদের স্বাবলম্বী করতে হাঁস-মুরগি পালনবিষয়ক প্রশিক্ষণ শুরু সাতক্ষীরা পুলিশ লাইন্স মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাবের উদ্বোধন কাউখালীতে নানা আয়োজনে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত কাউখালীতে জাতীয় কন্যা শিশু দিবস উদযাপন কাউখালীতে পচা খাবার ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি, তিন ব্যবসায়ীকে জরিমানা

ভুক্তভোগী নারীকে ‘মাল বলা’ পাথরঘাটার সেই ওসি প্রত্যাহার

 

প্রতিনিধি, পাথরঘাটা (বরগুনা)

 

দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ ও বিতর্কে জর্জরিত বরগুনার পাথরঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. এনামুল হককে অবশেষে বর্তমান কর্মস্থল পাথরঘাটা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে তাকে পাথরঘাটা থানা থেকে সরিয়ে বরগুনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) বরগুনা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ও ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার এফ. এম. ফয়সাল এর স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওসি মো. এনামুল হককে প্রশাসনিক কারণে পাথরঘাটা থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

ওসি এনামুল হকের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণে গড়িমসি, ভুক্তভোগীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, সরকারি মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ না করা, নারী বাদীর প্রতি আপত্তিকর ও অশোভন মন্তব্যসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়ভাবে আলোচিত ছিল। এসব অভিযোগ নিয়ে জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। একই সঙ্গে এক নারী বাদীর সঙ্গে তার অশালীন ও অবমাননাকর কথোপকথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

পাথরঘাটা উপজেলার ফাতিমা জামাদ্দার অর্পা নামে এক নারী অভিযোগ করেন, মামলা করতে গিয়ে তিনি ওসির কাছে চরমভাবে অপদস্ত হন। তার দাবি, মামলা গ্রহণে টালবাহানা করার পাশাপাশি অভিযুক্তদের হামলার বিষয়টি জানাতে গেলে ওসি কর্কশ ও অবমাননাকর ভাষায় তাকে উদ্দেশ করে বলেন, “আপনি তো সেই মাল, ইবলিশ কোথাকার।” ওই কথোপকথনের অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষও অভিযোগ করেন, পাথরঘাটায় যোগদানের পর থেকেই ওসি এনামুল হক তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে আসছিলেন। তথ্য বা সেবা পাওয়ার জন্য সরকারি মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও অধিকাংশ সময় তিনি ফোন রিসিভ করতেন না। জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগ করতে গিয়ে অনেকেই অপমানজনক আচরণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও মামলা গ্রহণে অনীহা, নারী বাদীকে নিয়ে কটূক্তি এবং এক নারীকে ‘ফেরাউন’-এর সঙ্গে তুলনা করার অভিযোগও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়। এসব ঘটনা পুলিশের সেবার মান, পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিতা নিয়ে পাথরঘাটাবাসীর মধ্যে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দেয়।
প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পাথরঘাটা সার্কেল) মোহাম্মদ শাহেদ চৌধুরী জানান, অফিস আদেশ অনুযায়ী ওসি মো. এনামুল হককে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

তবে প্রত্যাহারের আদেশে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর কোনো নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে কেবল ‘প্রশাসনিক কারণ’ দেখিয়ে তাকে বর্তমান দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের ধারণা, ধারাবাহিক অভিযোগ, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিতর্কিত অডিও-ভিডিওই তার প্রত্যাহারের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করেছে।

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

কাউখালীতে মাঝরাতে কঁচা নদীতে ট্রলার বিকল, ৫০-৬০ ইজতেমাযাত্রীকে উদ্ধার করল নৌ পুলিশ

ভুক্তভোগী নারীকে ‘মাল বলা’ পাথরঘাটার সেই ওসি প্রত্যাহার

Update Time : ০৩:৫৪:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

 

প্রতিনিধি, পাথরঘাটা (বরগুনা)

 

দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ ও বিতর্কে জর্জরিত বরগুনার পাথরঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. এনামুল হককে অবশেষে বর্তমান কর্মস্থল পাথরঘাটা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে তাকে পাথরঘাটা থানা থেকে সরিয়ে বরগুনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) বরগুনা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ও ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার এফ. এম. ফয়সাল এর স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওসি মো. এনামুল হককে প্রশাসনিক কারণে পাথরঘাটা থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

ওসি এনামুল হকের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণে গড়িমসি, ভুক্তভোগীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, সরকারি মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ না করা, নারী বাদীর প্রতি আপত্তিকর ও অশোভন মন্তব্যসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়ভাবে আলোচিত ছিল। এসব অভিযোগ নিয়ে জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। একই সঙ্গে এক নারী বাদীর সঙ্গে তার অশালীন ও অবমাননাকর কথোপকথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

পাথরঘাটা উপজেলার ফাতিমা জামাদ্দার অর্পা নামে এক নারী অভিযোগ করেন, মামলা করতে গিয়ে তিনি ওসির কাছে চরমভাবে অপদস্ত হন। তার দাবি, মামলা গ্রহণে টালবাহানা করার পাশাপাশি অভিযুক্তদের হামলার বিষয়টি জানাতে গেলে ওসি কর্কশ ও অবমাননাকর ভাষায় তাকে উদ্দেশ করে বলেন, “আপনি তো সেই মাল, ইবলিশ কোথাকার।” ওই কথোপকথনের অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষও অভিযোগ করেন, পাথরঘাটায় যোগদানের পর থেকেই ওসি এনামুল হক তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে আসছিলেন। তথ্য বা সেবা পাওয়ার জন্য সরকারি মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও অধিকাংশ সময় তিনি ফোন রিসিভ করতেন না। জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগ করতে গিয়ে অনেকেই অপমানজনক আচরণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও মামলা গ্রহণে অনীহা, নারী বাদীকে নিয়ে কটূক্তি এবং এক নারীকে ‘ফেরাউন’-এর সঙ্গে তুলনা করার অভিযোগও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়। এসব ঘটনা পুলিশের সেবার মান, পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিতা নিয়ে পাথরঘাটাবাসীর মধ্যে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দেয়।
প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পাথরঘাটা সার্কেল) মোহাম্মদ শাহেদ চৌধুরী জানান, অফিস আদেশ অনুযায়ী ওসি মো. এনামুল হককে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

তবে প্রত্যাহারের আদেশে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর কোনো নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে কেবল ‘প্রশাসনিক কারণ’ দেখিয়ে তাকে বর্তমান দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের ধারণা, ধারাবাহিক অভিযোগ, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিতর্কিত অডিও-ভিডিওই তার প্রত্যাহারের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করেছে।

Spread the love