
সাতক্ষীরা প্রতিনিধিঃ
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবিতে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিক্ষোভ শেষে উপজেলা প্রেসক্লাবের সামনে গাজী নজরুল ইসলামের কুশপুত্তলিকা দাহ করেন বিক্ষোভকারীরা।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সচেতন নাগরিকরা জড়ো হন। পরে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য দেন স্থানীয় নাগরিক নেতা আসাদুজ্জামান মিটু, আবুল কালাম মড়ল, রেজাউল ইসলাম, আসিসুর রহমান, নূরনগরের আবুল ইউসুফসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এ সময় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। তারা দাবি করেন, কোনো ধরনের গাফিলতি বা প্রভাবমুক্ত থেকে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করতে হবে এবং ঘটনায় কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, একজন জনপ্রতিনিধিকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের মাধ্যমে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
গাজী নজরুল ইসলামের বাড়ির পাশের বাসিন্দা ও সাবেক জামায়াত কর্মী শাহজাহান বলেন, “ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। মানুষের সামনে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরা এবং বিষয়টি নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা জরুরি।”
বিক্ষোভকারীরা মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা সাতক্ষীরা-৪ আসনে উপনির্বাচনের দাবিও উত্থাপন করেন।
সমাবেশ শেষে উপজেলা প্রেসক্লাবের সামনে গাজী নজরুল ইসলামের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
উল্লেখ্য, রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম এবং শ্যালক ওবায়দুল্লাহকে আসামি করা হয়েছে। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে।
Reporter Name 




















