Dhaka ১২:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কাউখালীতে মাঝরাতে কঁচা নদীতে ট্রলার বিকল, ৫০-৬০ ইজতেমাযাত্রীকে উদ্ধার করল নৌ পুলিশ বানারীপাড়ার ওসির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, দাবি পুলিশের   সাতক্ষীরায় সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, বিতর্কিত তালিকা বাতিলের দাবি সাতক্ষীরায় পুলিশের বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষার্থীদের খতিয়ান বই পর্যালোচনা ও প্যারেড পরীক্ষা অনুষ্ঠিত কাউখালীতে মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান, ২ হাজার ৫০০ মিটার অবৈধ জাল জব্দ কাউখালীতে নারীদের স্বাবলম্বী করতে হাঁস-মুরগি পালনবিষয়ক প্রশিক্ষণ শুরু সাতক্ষীরা পুলিশ লাইন্স মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাবের উদ্বোধন কাউখালীতে নানা আয়োজনে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত কাউখালীতে জাতীয় কন্যা শিশু দিবস উদযাপন কাউখালীতে পচা খাবার ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি, তিন ব্যবসায়ীকে জরিমানা

আট বছর পর প্রিন্সিপাল পদ ফিরে পেলেন অধ্যক্ষ আসাদুজ্জামান 

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:১৮:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ১১২ Time View

নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:


দীর্ঘ আট বছরের আইনি লড়াই ও নানা টানাপোড়েনের পর পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার ঝিলবাড়ী কবি নজরুল ইসলাম বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের দায়িত্ব ও চাবি ফিরে পেয়েছেন প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মো. আসাদুজ্জামান। আদালতের রায় এবং স্থানীয় সুশীল সমাজ, প্রশাসন ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে কলেজটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠার পর থেকে সুনামের সঙ্গে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন আসাদুজ্জামান। ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হয়। পরে অধ্যক্ষের পদ নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে কলেজ থেকে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরে কলেজের কার্যক্রম ব্যাহত হয়। একপর্যায়ে প্রায় সাত-আট বছর কলেজটি বন্ধ থাকায় পাঠদান কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যায়। এতে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

নিজের পদ ফিরে পেতে আসাদুজ্জামান আদালতের দ্বারস্থ হন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত তার পক্ষে রায় দেন। পরবর্তীতে বিবাদী পক্ষ আপিল করলেও উচ্চ আদালত নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখেন বলে জানান তিনি।

 

সম্প্রতি এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তি, শিক্ষিত সমাজ ও এলাকাবাসী কলেজটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেন। আদালতের রায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাদের সহযোগিতায় আনুষ্ঠানিকভাবে অধ্যক্ষ আসাদুজ্জামানের কাছে কলেজের চাবি হস্তান্তর করা হয়।

 

স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল আলম বিপ্লব বলেন,ক এমপি শহিদুল হক জামাল কলেজটির উদ্বোধন করেছিলেন। অধ্যক্ষের পদ নিয়ে মামলা-মোকদ্দমার কারণে দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ ছিল। আদালতের রায়ের পর আজ আবার কলেজটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এলাকার স্বার্থে প্রতিষ্ঠানটি সুন্দরভাবে পরিচালিত হবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। আরো বক্তব্য রাখেন, মহিউদ্দিন আহমেদ, মাসুদ পারভেজ, এবং কলেজে শিক্ষক বৃন্দ।

 

দায়িত্ব ও চাবি বুঝে পাওয়ার পর আবেগাপ্লুত অধ্যক্ষ মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “শিক্ষা একটি জাতির মেরুদণ্ড। দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আজ এলাকাবাসী ও প্রশাসনের সহযোগিতায় আমি দায়িত্ব ফিরে পেয়েছি। আমাদের লক্ষ্য এই অঞ্চলে মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং কলেজটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করা।

 

কলেজটিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন অধ্যক্ষ আসাদুজ্জামান। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের আন্দোলন, সহযোগিতা ও পাশে থাকার জন্য গণমাধ্যমকর্মী এবং এলাকাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

কাউখালীতে মাঝরাতে কঁচা নদীতে ট্রলার বিকল, ৫০-৬০ ইজতেমাযাত্রীকে উদ্ধার করল নৌ পুলিশ

আট বছর পর প্রিন্সিপাল পদ ফিরে পেলেন অধ্যক্ষ আসাদুজ্জামান 

Update Time : ০৬:১৮:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:


দীর্ঘ আট বছরের আইনি লড়াই ও নানা টানাপোড়েনের পর পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার ঝিলবাড়ী কবি নজরুল ইসলাম বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের দায়িত্ব ও চাবি ফিরে পেয়েছেন প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মো. আসাদুজ্জামান। আদালতের রায় এবং স্থানীয় সুশীল সমাজ, প্রশাসন ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে কলেজটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠার পর থেকে সুনামের সঙ্গে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন আসাদুজ্জামান। ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হয়। পরে অধ্যক্ষের পদ নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে কলেজ থেকে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরে কলেজের কার্যক্রম ব্যাহত হয়। একপর্যায়ে প্রায় সাত-আট বছর কলেজটি বন্ধ থাকায় পাঠদান কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যায়। এতে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

নিজের পদ ফিরে পেতে আসাদুজ্জামান আদালতের দ্বারস্থ হন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত তার পক্ষে রায় দেন। পরবর্তীতে বিবাদী পক্ষ আপিল করলেও উচ্চ আদালত নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখেন বলে জানান তিনি।

 

সম্প্রতি এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তি, শিক্ষিত সমাজ ও এলাকাবাসী কলেজটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেন। আদালতের রায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাদের সহযোগিতায় আনুষ্ঠানিকভাবে অধ্যক্ষ আসাদুজ্জামানের কাছে কলেজের চাবি হস্তান্তর করা হয়।

 

স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল আলম বিপ্লব বলেন,ক এমপি শহিদুল হক জামাল কলেজটির উদ্বোধন করেছিলেন। অধ্যক্ষের পদ নিয়ে মামলা-মোকদ্দমার কারণে দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ ছিল। আদালতের রায়ের পর আজ আবার কলেজটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এলাকার স্বার্থে প্রতিষ্ঠানটি সুন্দরভাবে পরিচালিত হবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। আরো বক্তব্য রাখেন, মহিউদ্দিন আহমেদ, মাসুদ পারভেজ, এবং কলেজে শিক্ষক বৃন্দ।

 

দায়িত্ব ও চাবি বুঝে পাওয়ার পর আবেগাপ্লুত অধ্যক্ষ মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “শিক্ষা একটি জাতির মেরুদণ্ড। দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আজ এলাকাবাসী ও প্রশাসনের সহযোগিতায় আমি দায়িত্ব ফিরে পেয়েছি। আমাদের লক্ষ্য এই অঞ্চলে মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং কলেজটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করা।

 

কলেজটিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন অধ্যক্ষ আসাদুজ্জামান। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের আন্দোলন, সহযোগিতা ও পাশে থাকার জন্য গণমাধ্যমকর্মী এবং এলাকাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

Spread the love