
রামপাল (বাগেরহাট) প্রতিনিধি ;
বাগেরহাটের রামপালে বিকল্প আয়ের সুযোগ ও সুনিবিড় মনিটরিংয়ে শিশুশ্রম থেকে ফিরল ৫২ শিশু ও শিশুশ্রম রোধ এবং ঝরে পড়া শিশুদের শিক্ষার মূলধারায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগে ৫২টি সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের ৫২ জন শিশুশ্রম থেকে মুক্ত হয়ে নতুন করে শ্রেণিকক্ষে ফিরেছে। শিশুদের বিদ্যালয়মুখী করার এ সাফল্য উদযাপনে আয়োজন করা হয়েছে “শ্রমে নিযুক্ত শিশুরা পুনরায় বিদ্যালয়মুখী হওয়ায় আনন্দ উদযাপন” অনুষ্ঠান।

ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে রামপাল এপি, রামপাল এডিপি ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে উপজেলা মডেল মসজিদ মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
জানা গেছে, দারিদ্র্য ও পারিবারিক আর্থিক সংকটের কারণে এসব শিশু বিভিন্ন সময় শিশুশ্রমে জড়িয়ে পড়েছিল। তাদের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনতে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সরাসরি আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি বিকল্প আয়ের সুযোগ বা ইনকাম জেনারেটিং অ্যাক্টিভিটি -এর ব্যবস্থা করেছে।
শুধু আর্থিক সহায়তা প্রদানে কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখেনি সংস্থাটি। শিশুরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাচ্ছে কি না, তাদের পড়াশোনার অগ্রগতি কেমন এবং পরিবারগুলোর আর্থিক ও জীবনযাত্রার মানে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটছে কি না—এসব বিষয় নিয়মিতভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে। ফলে শিশুশ্রমে ফিরে যাওয়ার ঝুঁকি কমার পাশাপাশি পরিবারগুলোও ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
এ অনুষ্ঠানে রামপাল এডিপি, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ-এর সিনিয়র ম্যানেজার ফুলি সরকার সভাপতিত্ব করেন। এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ তামান্না ফেরদৌসি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রামপাল উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোঃ শাহিনুর রহমান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকবৃন্দ।
অনুষ্ঠান পরিচালনা ও সার্বিক সহযোগিতায় উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ-এর সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার নাথন চৌধুরী, প্রোগ্রাম অফিসার সুবাস জয়ধর এবং প্রোগ্রাম অফিসার ইশিতা বৈরাগী।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শুধু শিশুদের বিদ্যালয়ে পাঠানোই যথেষ্ট নয়; শিশুশ্রমের মূল কারণ চিহ্নিত করে তা দূর করতে হবে। এজন্য পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিকল্প আয়ের সুযোগ সৃষ্টি এবং নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা প্রশংসনীয়। এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ শিশুশ্রম প্রতিরোধের পাশাপাশি ঝরে পড়া শিশুদের শিক্ষার মূলধারায় স্থায়ীভাবে ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নুরজামাল শেখ 
















