Dhaka ০১:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নেছারাবাদে সূর্যাস্তের পর শিক্ষার্থীদের আড্ডায় নিষেধাজ্ঞা, সন্ধ্যার পর কোচিংও বন্ধ সাতক্ষীরা জাতীয় বৃক্ষরোপণ পুরস্কার পেলেন সাতক্ষীরার বন কর্মকর্তা মারুফ কাউখালীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গাছের চারার বদলে ডাল রোপন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত কাউখালীতে ১৮ কৃতি শিক্ষার্থী পেলেন ক্রেস্ট ও সনদ মেধাবী শিক্ষার্থী রাফি বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেল, ভবিষ্যতে হতে চান চিকিৎসক ১১ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস ১জন , মৈশানী বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন দপদপিয়া সেতুর ঢালে বাস-মাহিন্দ্রার সংঘর্ষ, প্রাণ গেল যাত্রীর; ববি শিক্ষার্থীসহ আহত ৫ সাতক্ষীরা সীমান্তে ভারতীয় ফাইটার মোরগ আটক বাকেরগঞ্জে ইউনিয়ন পরিষদে মেয়াদ শেষ হওয়ায় প্রশাসক নিয়োগ সাতক্ষীরায় আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার নিয়ে নেটিজেনদের তীব্র নিন্দা

১১ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস ১জন , মৈশানী বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
  • ৩০ Time View

নেছারাবাদ (পিরোজপুর) সংবাদদাতা:

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার মৈশানী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষায় ১১ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র একজন। বিদ্যালয়ে ১১ জন শিক্ষক কর্মরত থাকার পরও এমন ফলাফলে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। এর আগের বছর ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায়ও আটজন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছিল মাত্র একজন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টির শিক্ষার মান নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি যেমন কম, তেমনি শিক্ষক উপস্থিতি ও পাঠদানের মান নিয়েও রয়েছে অভিযোগ। বিদ্যালয়ে কাগজে-কলমে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী থাকলেও বাস্তবে নিয়মিত পাঁচ-ছয়জনের বেশি শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষে দেখা যায় না বলে দাবি স্থানীয়দের।

সমুদয়কাঠি ইউনিয়নে অবস্থিত বিদ্যালয়টি এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হয়ে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে এমন ব্যবস্থাপনা চললেও শিক্ষার মানে দৃশ্যমান উন্নতি না হওয়ায় বিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

বিদ্যালয় অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বিদ্যালয়ে ১১ জন শিক্ষক, একজন ক্লার্ক ও একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী রয়েছেন। শিক্ষক-কর্মচারী মিলিয়ে মোট ১৩ জন। তাদের বেতন-ভাতা বাবদ সরকারের প্রতি মাসে তিন লাখ টাকার বেশি ব্যয় হচ্ছে বলে বিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, ১১ জন শিক্ষক থাকা বিদ্যালয়ে যেখানে এসএসসি পরীক্ষার্থীও ১১ জন, সেখানে পাসের হার এতটা হতাশাজনক হওয়ার কারণ কী? শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত করা, পড়াশোনায় আগ্রহী করে তোলা এবং পাঠদানের মান নিশ্চিত করার দায়িত্বই বা কার?

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা পর্ষিয়া রানী হালদার বলেন, চলতি বছর বিদ্যালয় থেকে ১১ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। তাদের মধ্যে একজন পাস করেছে। গত বছর আটজন পরীক্ষা দিয়ে একজন পাস করেছিল। এ বছর পাস করা শিক্ষার্থীর নাম ও গ্রেড জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন মনে নেই, পরে জানাব।

১১ জন শিক্ষক থাকার পরও ১১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র একজন পাস করায় তিনি দুঃখিত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা বলেন, ‘দুঃখ কিসের। শিক্ষার্থীদের চেষ্টা করেও স্কুলে আনা যাচ্ছে না। তারা ঠিকমতো না পড়লে আমাদের দোষ কী?’
তবে স্থানীয়দের মতে, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং পড়াশোনায় আগ্রহী করে তোলার দায়িত্ব শুধু শিক্ষার্থীদের নয়; বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকদেরও। তাই টানা দুই বছর এসএসসি পরীক্ষায় এমন ফলাফলের কারণ খুঁজে বের করে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং সরকারি বেতন-ভাতার বিপরীতে শিক্ষার মান—সবকিছু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ও মান ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

নেছারাবাদে সূর্যাস্তের পর শিক্ষার্থীদের আড্ডায় নিষেধাজ্ঞা, সন্ধ্যার পর কোচিংও বন্ধ

১১ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস ১জন , মৈশানী বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন

Update Time : ১০:০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

নেছারাবাদ (পিরোজপুর) সংবাদদাতা:

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার মৈশানী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষায় ১১ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র একজন। বিদ্যালয়ে ১১ জন শিক্ষক কর্মরত থাকার পরও এমন ফলাফলে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। এর আগের বছর ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায়ও আটজন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছিল মাত্র একজন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টির শিক্ষার মান নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি যেমন কম, তেমনি শিক্ষক উপস্থিতি ও পাঠদানের মান নিয়েও রয়েছে অভিযোগ। বিদ্যালয়ে কাগজে-কলমে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী থাকলেও বাস্তবে নিয়মিত পাঁচ-ছয়জনের বেশি শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষে দেখা যায় না বলে দাবি স্থানীয়দের।

সমুদয়কাঠি ইউনিয়নে অবস্থিত বিদ্যালয়টি এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হয়ে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে এমন ব্যবস্থাপনা চললেও শিক্ষার মানে দৃশ্যমান উন্নতি না হওয়ায় বিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

বিদ্যালয় অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বিদ্যালয়ে ১১ জন শিক্ষক, একজন ক্লার্ক ও একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী রয়েছেন। শিক্ষক-কর্মচারী মিলিয়ে মোট ১৩ জন। তাদের বেতন-ভাতা বাবদ সরকারের প্রতি মাসে তিন লাখ টাকার বেশি ব্যয় হচ্ছে বলে বিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, ১১ জন শিক্ষক থাকা বিদ্যালয়ে যেখানে এসএসসি পরীক্ষার্থীও ১১ জন, সেখানে পাসের হার এতটা হতাশাজনক হওয়ার কারণ কী? শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত করা, পড়াশোনায় আগ্রহী করে তোলা এবং পাঠদানের মান নিশ্চিত করার দায়িত্বই বা কার?

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা পর্ষিয়া রানী হালদার বলেন, চলতি বছর বিদ্যালয় থেকে ১১ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। তাদের মধ্যে একজন পাস করেছে। গত বছর আটজন পরীক্ষা দিয়ে একজন পাস করেছিল। এ বছর পাস করা শিক্ষার্থীর নাম ও গ্রেড জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন মনে নেই, পরে জানাব।

১১ জন শিক্ষক থাকার পরও ১১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র একজন পাস করায় তিনি দুঃখিত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা বলেন, ‘দুঃখ কিসের। শিক্ষার্থীদের চেষ্টা করেও স্কুলে আনা যাচ্ছে না। তারা ঠিকমতো না পড়লে আমাদের দোষ কী?’
তবে স্থানীয়দের মতে, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং পড়াশোনায় আগ্রহী করে তোলার দায়িত্ব শুধু শিক্ষার্থীদের নয়; বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকদেরও। তাই টানা দুই বছর এসএসসি পরীক্ষায় এমন ফলাফলের কারণ খুঁজে বের করে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং সরকারি বেতন-ভাতার বিপরীতে শিক্ষার মান—সবকিছু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ও মান ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

Spread the love