Dhaka ১১:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাতক্ষীরার দেবহাটায় শামীম হত্যা মামলার প্রধান আসামি আমিনী গ্রেপ্তার সাতক্ষীরায় ১৯০ নবনিযুক্ত প্রাথমিক শিক্ষকের হাতে পদায়নপত্র তুলে দিলেন জেলা প্রশাসক সাতক্ষীরার পৌরদীঘিতে লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই রাতের নৌভ্রমণ, দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে দর্শনার্থীরা সাতক্ষীরায় হত্যা, শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও মব সহিংসতার প্রতিবাদে মানববন্ধন সাতক্ষীরা জেলা ডাম্পার ট্রাক মালিক সমিতির প্রস্তাবিত কমিটি ঘোষণা, উপদেষ্টা রউফ, সভাপতি সান্টু, সম্পাদক রনজু ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে: এমপি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক সাতক্ষীরায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ৬৪ হিন্দু পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করলেন সাবেক কাউন্সিলর সাগর কাউখালীতে সন্ধ্যা নদীতে অভিযান, সাড়ে ৮ হাজার মিটার অবৈধ জাল জব্দ করে ধ্বংস সাতক্ষীরায় ৩৮ পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ১৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন নেছারাবাদে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম উদ্বোধন

কাউখালীতে সন্ধ্যা নদীতে অভিযান, সাড়ে ৮ হাজার মিটার অবৈধ জাল জব্দ করে ধ্বংস

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:১১:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ১ Time View

রিয়াদ মাহমুদ সিকদার, কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

পিরোজপুরের কাউখালীতে মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে সন্ধ্যা নদীতে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তর। এ অভিযানে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার মিটার অবৈধ জাল জব্দ করা হয়েছে। পরে জব্দ করা জালগুলো আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার সন্ধ্যা নদীর চিরাপাড়া মোহনা, লঞ্চঘাট এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ‘ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬’-এর অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে জব্দ করা জালের মধ্যে রয়েছে সাড়ে ৭ হাজার মিটার অবৈধ সুতার জাল এবং এক হাজার মিটার চায়না দুয়ারি জাল। জব্দ করা এসব জালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩০ হাজার টাকা।

উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এবং নৌ পুলিশের সহযোগিতায় পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান। নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে অবৈধ জালগুলো উদ্ধার করার পর স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে সেগুলো পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “মা ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ। প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বহুগুণে বাড়বে। কিন্তু কিছু অসাধু ও অসচেতন জেলে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে জাল ফেলে ইলিশ শিকারের চেষ্টা করছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “আজকের অভিযানে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার মিটার অবৈধ জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। মা ইলিশ রক্ষায় পুরো প্রজনন মৌসুমজুড়ে নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহানা আক্তার বলেন, “জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষা এবং মা ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ যাতে নদীতে জাল ফেলতে না পারে, সে জন্য দিন-রাত তদারকি ও অভিযান চালানো হচ্ছে।”

মা ইলিশের প্রজনন সুরক্ষা এবং ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সাতক্ষীরার দেবহাটায় শামীম হত্যা মামলার প্রধান আসামি আমিনী গ্রেপ্তার

কাউখালীতে সন্ধ্যা নদীতে অভিযান, সাড়ে ৮ হাজার মিটার অবৈধ জাল জব্দ করে ধ্বংস

Update Time : ১২:১১:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

রিয়াদ মাহমুদ সিকদার, কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

পিরোজপুরের কাউখালীতে মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে সন্ধ্যা নদীতে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তর। এ অভিযানে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার মিটার অবৈধ জাল জব্দ করা হয়েছে। পরে জব্দ করা জালগুলো আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার সন্ধ্যা নদীর চিরাপাড়া মোহনা, লঞ্চঘাট এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ‘ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬’-এর অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে জব্দ করা জালের মধ্যে রয়েছে সাড়ে ৭ হাজার মিটার অবৈধ সুতার জাল এবং এক হাজার মিটার চায়না দুয়ারি জাল। জব্দ করা এসব জালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩০ হাজার টাকা।

উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এবং নৌ পুলিশের সহযোগিতায় পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান। নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে অবৈধ জালগুলো উদ্ধার করার পর স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে সেগুলো পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “মা ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ। প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বহুগুণে বাড়বে। কিন্তু কিছু অসাধু ও অসচেতন জেলে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে জাল ফেলে ইলিশ শিকারের চেষ্টা করছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “আজকের অভিযানে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার মিটার অবৈধ জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। মা ইলিশ রক্ষায় পুরো প্রজনন মৌসুমজুড়ে নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহানা আক্তার বলেন, “জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষা এবং মা ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ যাতে নদীতে জাল ফেলতে না পারে, সে জন্য দিন-রাত তদারকি ও অভিযান চালানো হচ্ছে।”

মা ইলিশের প্রজনন সুরক্ষা এবং ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

Spread the love