Dhaka ১২:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কাউখালীতে সাড়ে ৬ হাজার মিটার অবৈধ সুতার জাল জব্দ, পুড়িয়ে ধ্বংস ‘সংখ্যালঘু বলতে কোনো শব্দ নেই, আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক’: প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর সাতক্ষীরার দেবহাটায় শামীম হত্যা মামলার প্রধান আসামি আমিনী গ্রেপ্তার সাতক্ষীরায় ১৯০ নবনিযুক্ত প্রাথমিক শিক্ষকের হাতে পদায়নপত্র তুলে দিলেন জেলা প্রশাসক সাতক্ষীরার পৌরদীঘিতে লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই রাতের নৌভ্রমণ, দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে দর্শনার্থীরা সাতক্ষীরায় হত্যা, শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও মব সহিংসতার প্রতিবাদে মানববন্ধন সাতক্ষীরা জেলা ডাম্পার ট্রাক মালিক সমিতির প্রস্তাবিত কমিটি ঘোষণা, উপদেষ্টা রউফ, সভাপতি সান্টু, সম্পাদক রনজু ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে: এমপি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক সাতক্ষীরায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ৬৪ হিন্দু পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করলেন সাবেক কাউন্সিলর সাগর কাউখালীতে সন্ধ্যা নদীতে অভিযান, সাড়ে ৮ হাজার মিটার অবৈধ জাল জব্দ করে ধ্বংস

সাতক্ষীরার পৌরদীঘিতে লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই রাতের নৌভ্রমণ, দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে দর্শনার্থীরা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৪১:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ৬ Time View

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:

 

সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুরের মেলাকে ঘিরে শহরের পৌরদীঘিতে চলছে রাতের নৌভ্রমণ। জনপ্রতি ৫০ টাকার টিকিটে ১০ মিনিটের জন্য নৌকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন দর্শনার্থীরা। তবে এ আনন্দ আয়োজন ঘিরে দেখা দিয়েছে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ। নৌকায় চার থেকে ছয়জন যাত্রীর বসার ব্যবস্থা থাকলেও তাঁদের জন্য নেই জীবনরক্ষাকারী লাইফ জ্যাকেট। ফলে রাতের অন্ধকারে দুর্ঘটনা ঘটলে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও দ্রুত উদ্ধারের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পৌরদীঘিতে নৌভ্রমণের জন্য রয়েছে মোট নয়টি নৌকা। প্রতিটি নৌকায় চার থেকে ছয়জন যাত্রী বসতে পারেন। জনপ্রতি ৫০ টাকা দিয়ে ১০ মিনিট নৌভ্রমণের সুযোগ পাচ্ছেন দর্শনার্থীরা। গুড়পুকুরের মেলার আনন্দ উপভোগ করতে সন্ধ্যার পর থেকে রাত পর্যন্ত পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে অনেকেই এই ভ্রমণে অংশ নিচ্ছেন।

তবে নৌভ্রমণের এই আয়োজনে নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যাত্রীদের জন্য নৌকায় নেই লাইফ জ্যাকেট। নৌকার ইজারাদার মজিবুর রহমানও লাইফ জ্যাকেট না থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, তাঁদের কাছে লাইফ জ্যাকেট নেই, তবে দড়ির ব্যবস্থা রয়েছে। নৌকায় তাঁদের লোকজন থাকেন এবং তাঁরা সার্বিক পরিস্থিতি নজরদারি করেন বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে সংশ্লিষ্টদের নজরদারি ও দড়ির ব্যবস্থা জরুরি পরিস্থিতিতে যাত্রীদের জীবন রক্ষায় কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে রাতে কোনো নৌকা উল্টে গেলে কিংবা একাধিক যাত্রী পানিতে পড়ে গেলে তাঁদের দ্রুত উদ্ধারের জন্য পর্যাপ্ত সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষিত লোকবল প্রস্তুত রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

নৌকায় যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ধারণক্ষমতা মেনে চলার পাশাপাশি প্রত্যেক যাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে শিশু, নারী ও সাঁতার না জানা ব্যক্তিদের জন্য লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থা না থাকলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। পানিতে দুর্ঘটনা ঘটলে কয়েক মুহূর্তের বিলম্বও বড় ধরনের বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।

জনপ্রতি ৫০ টাকা নিয়ে নৌভ্রমণের ব্যবস্থা করা হলেও যাত্রীদের জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম নিশ্চিত করা হয়নি কেন—এ প্রশ্ন তুলছেন সচেতন নাগরিকেরা। তাঁদের মতে, দর্শনার্থীদের বিনোদনের সুযোগ করে দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

এ অবস্থায় পৌর কর্তৃপক্ষ, মেলা পরিচালনা কমিটি ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে নৌকাগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা যাচাই, ধারণক্ষমতা অনুযায়ী যাত্রী পরিবহন, পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট ও উদ্ধার সরঞ্জাম নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। পাশাপাশি রাতের নৌচলাচলে নিয়মিত তদারকি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধারকাজ পরিচালনার প্রস্তুতি রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সচেতন মহল।

গুড়পুকুরের মেলা সাতক্ষীরার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মেলায় বিনোদনের নানা আয়োজন থাকবে, দর্শনার্থীরা আনন্দ করবেন—এটাই স্বাভাবিক। তবে নিরাপত্তার ঘাটতি রেখে এমন আয়োজন কোনোভাবেই কাম্য নয়।

দুর্ঘটনা ঘটার পর দায় নির্ধারণের চেয়ে আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা জরুরি। তাই পৌরদীঘিতে রাতের নৌভ্রমণে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের। ৫০ টাকার টিকিটে ১০ মিনিটের বিনোদন যেন কারও জীবনের জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে না দাঁড়ায়।

Spread the love
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

কাউখালীতে সাড়ে ৬ হাজার মিটার অবৈধ সুতার জাল জব্দ, পুড়িয়ে ধ্বংস

সাতক্ষীরার পৌরদীঘিতে লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই রাতের নৌভ্রমণ, দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে দর্শনার্থীরা

Update Time : ০৩:৪১:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:

 

সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুরের মেলাকে ঘিরে শহরের পৌরদীঘিতে চলছে রাতের নৌভ্রমণ। জনপ্রতি ৫০ টাকার টিকিটে ১০ মিনিটের জন্য নৌকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন দর্শনার্থীরা। তবে এ আনন্দ আয়োজন ঘিরে দেখা দিয়েছে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ। নৌকায় চার থেকে ছয়জন যাত্রীর বসার ব্যবস্থা থাকলেও তাঁদের জন্য নেই জীবনরক্ষাকারী লাইফ জ্যাকেট। ফলে রাতের অন্ধকারে দুর্ঘটনা ঘটলে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও দ্রুত উদ্ধারের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পৌরদীঘিতে নৌভ্রমণের জন্য রয়েছে মোট নয়টি নৌকা। প্রতিটি নৌকায় চার থেকে ছয়জন যাত্রী বসতে পারেন। জনপ্রতি ৫০ টাকা দিয়ে ১০ মিনিট নৌভ্রমণের সুযোগ পাচ্ছেন দর্শনার্থীরা। গুড়পুকুরের মেলার আনন্দ উপভোগ করতে সন্ধ্যার পর থেকে রাত পর্যন্ত পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে অনেকেই এই ভ্রমণে অংশ নিচ্ছেন।

তবে নৌভ্রমণের এই আয়োজনে নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যাত্রীদের জন্য নৌকায় নেই লাইফ জ্যাকেট। নৌকার ইজারাদার মজিবুর রহমানও লাইফ জ্যাকেট না থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, তাঁদের কাছে লাইফ জ্যাকেট নেই, তবে দড়ির ব্যবস্থা রয়েছে। নৌকায় তাঁদের লোকজন থাকেন এবং তাঁরা সার্বিক পরিস্থিতি নজরদারি করেন বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে সংশ্লিষ্টদের নজরদারি ও দড়ির ব্যবস্থা জরুরি পরিস্থিতিতে যাত্রীদের জীবন রক্ষায় কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে রাতে কোনো নৌকা উল্টে গেলে কিংবা একাধিক যাত্রী পানিতে পড়ে গেলে তাঁদের দ্রুত উদ্ধারের জন্য পর্যাপ্ত সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষিত লোকবল প্রস্তুত রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

নৌকায় যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ধারণক্ষমতা মেনে চলার পাশাপাশি প্রত্যেক যাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে শিশু, নারী ও সাঁতার না জানা ব্যক্তিদের জন্য লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থা না থাকলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। পানিতে দুর্ঘটনা ঘটলে কয়েক মুহূর্তের বিলম্বও বড় ধরনের বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।

জনপ্রতি ৫০ টাকা নিয়ে নৌভ্রমণের ব্যবস্থা করা হলেও যাত্রীদের জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম নিশ্চিত করা হয়নি কেন—এ প্রশ্ন তুলছেন সচেতন নাগরিকেরা। তাঁদের মতে, দর্শনার্থীদের বিনোদনের সুযোগ করে দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

এ অবস্থায় পৌর কর্তৃপক্ষ, মেলা পরিচালনা কমিটি ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে নৌকাগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা যাচাই, ধারণক্ষমতা অনুযায়ী যাত্রী পরিবহন, পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট ও উদ্ধার সরঞ্জাম নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। পাশাপাশি রাতের নৌচলাচলে নিয়মিত তদারকি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধারকাজ পরিচালনার প্রস্তুতি রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সচেতন মহল।

গুড়পুকুরের মেলা সাতক্ষীরার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মেলায় বিনোদনের নানা আয়োজন থাকবে, দর্শনার্থীরা আনন্দ করবেন—এটাই স্বাভাবিক। তবে নিরাপত্তার ঘাটতি রেখে এমন আয়োজন কোনোভাবেই কাম্য নয়।

দুর্ঘটনা ঘটার পর দায় নির্ধারণের চেয়ে আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা জরুরি। তাই পৌরদীঘিতে রাতের নৌভ্রমণে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের। ৫০ টাকার টিকিটে ১০ মিনিটের বিনোদন যেন কারও জীবনের জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে না দাঁড়ায়।

Spread the love